ঢাকা ০৪:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্রেপ্তারের পরদিনই কারাগারে যুবলীগ নেতার মৃত্যু

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০২:৫৬:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
  • / 38

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় গ্রেপ্তারের ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই জেলহাজতে মো. নুরুল আলম নামের এক স্থানীয় যুবলীগ নেতার রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের দাবি, তিনি অসুস্থতার কারণে মারা গেছেন। তবে পরিবারের তীব্র অভিযোগ, গ্রেপ্তারের পর পুলিশের অমানুষিক ও বর্বর নির্যাতনের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।

আজ বুধবার (২৪ জুন) সকাল ৭টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। নিহত নুরুল আলম উপজেলার ঢেমশা ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।

কারা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য:

মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. ইকবাল হোসেন সংবাদমাধ্যমকে জানান, গতকাল মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে সাতকানিয়া থানার একটি রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে নুরুল আলম কারাগারে আসেন। সেখানে আসার পর থেকেই তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ বোধ করছিলেন। আজ বুধবার ভোরে তার অবস্থার চরম অবনতি হলে কারা চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে দ্রুত চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে সকাল ৭টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরিবারের দাবি ও লাশ ময়নাতদন্ত:

এদিকে নুরুল আলমের আকস্মিক এই মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তার পরিবার ও রাজনৈতিক সমর্থকরা। পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, গ্রেপ্তারের পর হেফাজতে নিয়ে তার ওপর চরম শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছে, যার ফলে তিনি মারা গেছেন। তারা এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষী পুলিশ কর্মকর্তাদের বিচার দাবি করেছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লাশের ময়নাতদন্ত শেষেই মৃত্যুর প্রকৃত ও সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যাবে।

অভিযোগ অস্বীকার পুলিশের:

হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “নির্যাতনের যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও সত্য নয়। আমরা তাকে মঙ্গলবার দুপুরে গ্রেপ্তারের মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যেই আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষ করে সরাসরি আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়ে দিয়েছি। ফলে থানায় হেফাজতে রেখে নির্যাতন করার কোনো সুযোগ বা কারণ ছিল না। তিনি একটি রাজনৈতিক মামলার এজাহারনামীয় আসামি ছিলেন।”

যুবলীগ নেতার এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সাতকানিয়া ও চমেক হাসপাতাল এলাকায় টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারের পরদিনই কারাগারে যুবলীগ নেতার মৃত্যু

আপডেট সময় : ০২:৫৬:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় গ্রেপ্তারের ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই জেলহাজতে মো. নুরুল আলম নামের এক স্থানীয় যুবলীগ নেতার রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের দাবি, তিনি অসুস্থতার কারণে মারা গেছেন। তবে পরিবারের তীব্র অভিযোগ, গ্রেপ্তারের পর পুলিশের অমানুষিক ও বর্বর নির্যাতনের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।

আজ বুধবার (২৪ জুন) সকাল ৭টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। নিহত নুরুল আলম উপজেলার ঢেমশা ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।

কারা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য:

মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. ইকবাল হোসেন সংবাদমাধ্যমকে জানান, গতকাল মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে সাতকানিয়া থানার একটি রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে নুরুল আলম কারাগারে আসেন। সেখানে আসার পর থেকেই তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ বোধ করছিলেন। আজ বুধবার ভোরে তার অবস্থার চরম অবনতি হলে কারা চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে দ্রুত চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে সকাল ৭টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরিবারের দাবি ও লাশ ময়নাতদন্ত:

এদিকে নুরুল আলমের আকস্মিক এই মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তার পরিবার ও রাজনৈতিক সমর্থকরা। পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, গ্রেপ্তারের পর হেফাজতে নিয়ে তার ওপর চরম শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছে, যার ফলে তিনি মারা গেছেন। তারা এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষী পুলিশ কর্মকর্তাদের বিচার দাবি করেছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লাশের ময়নাতদন্ত শেষেই মৃত্যুর প্রকৃত ও সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যাবে।

অভিযোগ অস্বীকার পুলিশের:

হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “নির্যাতনের যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও সত্য নয়। আমরা তাকে মঙ্গলবার দুপুরে গ্রেপ্তারের মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যেই আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষ করে সরাসরি আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়ে দিয়েছি। ফলে থানায় হেফাজতে রেখে নির্যাতন করার কোনো সুযোগ বা কারণ ছিল না। তিনি একটি রাজনৈতিক মামলার এজাহারনামীয় আসামি ছিলেন।”

যুবলীগ নেতার এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সাতকানিয়া ও চমেক হাসপাতাল এলাকায় টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।