ঢাকা ০৫:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফিফার নতুন নিয়ম: গ্রুপের ৩য় দলও খেলবে নকআউট পর্বে

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৫:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
  • / 29

চলমান বিশ্বকাপে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এক বিশাল চমক নিয়ে এসেছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। টুর্নামেন্টের কাঠামোগত এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের ফলে ১৯৯৪ সালের পর প্রথমবারের মতো গ্রুপের তৃতীয় স্থান অধিকারী দলগুলোর সামনেও উন্মোচিত হয়েছে নকআউট পর্বে ওঠার দারুণ সুযোগ।

দল বেড়েছে ৪৮টি, যুক্ত হলো ‘রাউন্ড অব ৩২’:

বিশ্বকাপের রোমাঞ্চ বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে এবার দল সংখ্যা ৩২ থেকে বাড়িয়ে একলাফে ৪৮-এ উন্নীত করেছে ফিফা। এই বিশাল পরিবর্তনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিযোগিতার ফরম্যাটেও আনা হয়েছে বড় রদবদল। অতিরিক্ত দলগুলোকে জায়গা দিতে এবং টুর্নামেন্টকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করতে ফুটবল ইতিহাসে এই প্রথম নতুন করে যুক্ত করা হয়েছে ‌‘রাউন্ড অব ৩২’ বা শেষ বত্রিশের নকআউট পর্ব।

যেভাবে নির্ধারণ হবে শেষ বত্রিশ:

নতুন কাঠামো অনুযায়ী, আগের ঐতিহ্যবাহী ৮টি গ্রুপের পরিবর্তে চলমান বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে মোট ১২টি গ্রুপ। প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুটি দল (১২ × ২ = ২৪টি দল) কোনো সমীকরণ ছাড়াই সরাসরি চলে যাবে নকআউট পর্বে।

তবে কপাল পুড়ছে না তৃতীয় হওয়া দলগুলোরও। আগামী ২৭ জুন গ্রুপ পর্বের খেলা শেষ হওয়ার পর, ১২টি গ্রুপের ১২টি তৃতীয় স্থান অধিকারী দলের মধ্যে পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে সেরা ৮টি দলকে বেছে নেওয়া হবে। এই ৮টি দলও সরাসরি জায়গা করে নেবে ‘রাউন্ড অব ৩২’-এ। অর্থাৎ, ২৪টি শীর্ষ দল এবং সেরা ৮টি তৃতীয় দল—সব মিলিয়ে মোট ৩২টি দেশ খেলবে নকআউট পর্বে।

টাইব্রেকার বা ভাগ্য নির্ধারণের ৪ মানদণ্ড:

সব তৃতীয় স্থান অধিকারী দল পরের রাউন্ডে যাওয়ার সুযোগ পাবে না। ফিফা এই ১২টি দলকে একটি বিশেষ সামগ্রিক টেবিলে তালিকাভুক্ত করবে। সেখান থেকে পয়েন্টের ভিত্তিতে শীর্ষ ৮টি দল চূড়ান্ত হবে। তবে যদি একাধিক দলের পয়েন্ট সমান হয়ে যায়, তবে সেরা দল বেছে নিতে ক্রমান্বয়ে নিচের ৪টি সূচক বিবেচনা করবে ফিফা: ১. গোল ব্যবধান (Goal Difference) ২. মোট গোলসংখ্যা (Goals Scored) ৩. ফেয়ার প্লে রেকর্ড (Fair Play Record) ৪. ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে অবস্থান (FIFA Ranking)

শেষ ম্যাচগুলোতে বাড়ছে বাড়তি উত্তেজনা:

ফিফার এই সম্প্রসারিত এবং নতুন ফরম্যাটের কারণে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচগুলোর গুরুত্ব এখন আকাশচুম্বী। দলগুলো এখন কেবল নিজেদের গ্রুপে শীর্ষ দুইয়ে থাকার জন্যই লড়ছে না, বরং টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা ‘তৃতীয় স্থান অধিকারী’ দল হিসেবে টিকে থাকার জন্য শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়ছে।

ফলে, কোনো পরাশক্তি বা ফেবারিট দল শুরুতে দু-একটি ম্যাচ খারাপ করলেও তাদের বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন এখনই শেষ হয়ে যাচ্ছে না। শেষ ম্যাচ পর্যন্ত টিকে থাকছে লাইফলাইন!

ফিফার নতুন নিয়ম: গ্রুপের ৩য় দলও খেলবে নকআউট পর্বে

আপডেট সময় : ০৪:৪৫:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

চলমান বিশ্বকাপে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এক বিশাল চমক নিয়ে এসেছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। টুর্নামেন্টের কাঠামোগত এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের ফলে ১৯৯৪ সালের পর প্রথমবারের মতো গ্রুপের তৃতীয় স্থান অধিকারী দলগুলোর সামনেও উন্মোচিত হয়েছে নকআউট পর্বে ওঠার দারুণ সুযোগ।

দল বেড়েছে ৪৮টি, যুক্ত হলো ‘রাউন্ড অব ৩২’:

বিশ্বকাপের রোমাঞ্চ বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে এবার দল সংখ্যা ৩২ থেকে বাড়িয়ে একলাফে ৪৮-এ উন্নীত করেছে ফিফা। এই বিশাল পরিবর্তনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিযোগিতার ফরম্যাটেও আনা হয়েছে বড় রদবদল। অতিরিক্ত দলগুলোকে জায়গা দিতে এবং টুর্নামেন্টকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করতে ফুটবল ইতিহাসে এই প্রথম নতুন করে যুক্ত করা হয়েছে ‌‘রাউন্ড অব ৩২’ বা শেষ বত্রিশের নকআউট পর্ব।

যেভাবে নির্ধারণ হবে শেষ বত্রিশ:

নতুন কাঠামো অনুযায়ী, আগের ঐতিহ্যবাহী ৮টি গ্রুপের পরিবর্তে চলমান বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে মোট ১২টি গ্রুপ। প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুটি দল (১২ × ২ = ২৪টি দল) কোনো সমীকরণ ছাড়াই সরাসরি চলে যাবে নকআউট পর্বে।

তবে কপাল পুড়ছে না তৃতীয় হওয়া দলগুলোরও। আগামী ২৭ জুন গ্রুপ পর্বের খেলা শেষ হওয়ার পর, ১২টি গ্রুপের ১২টি তৃতীয় স্থান অধিকারী দলের মধ্যে পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে সেরা ৮টি দলকে বেছে নেওয়া হবে। এই ৮টি দলও সরাসরি জায়গা করে নেবে ‘রাউন্ড অব ৩২’-এ। অর্থাৎ, ২৪টি শীর্ষ দল এবং সেরা ৮টি তৃতীয় দল—সব মিলিয়ে মোট ৩২টি দেশ খেলবে নকআউট পর্বে।

টাইব্রেকার বা ভাগ্য নির্ধারণের ৪ মানদণ্ড:

সব তৃতীয় স্থান অধিকারী দল পরের রাউন্ডে যাওয়ার সুযোগ পাবে না। ফিফা এই ১২টি দলকে একটি বিশেষ সামগ্রিক টেবিলে তালিকাভুক্ত করবে। সেখান থেকে পয়েন্টের ভিত্তিতে শীর্ষ ৮টি দল চূড়ান্ত হবে। তবে যদি একাধিক দলের পয়েন্ট সমান হয়ে যায়, তবে সেরা দল বেছে নিতে ক্রমান্বয়ে নিচের ৪টি সূচক বিবেচনা করবে ফিফা: ১. গোল ব্যবধান (Goal Difference) ২. মোট গোলসংখ্যা (Goals Scored) ৩. ফেয়ার প্লে রেকর্ড (Fair Play Record) ৪. ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে অবস্থান (FIFA Ranking)

শেষ ম্যাচগুলোতে বাড়ছে বাড়তি উত্তেজনা:

ফিফার এই সম্প্রসারিত এবং নতুন ফরম্যাটের কারণে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচগুলোর গুরুত্ব এখন আকাশচুম্বী। দলগুলো এখন কেবল নিজেদের গ্রুপে শীর্ষ দুইয়ে থাকার জন্যই লড়ছে না, বরং টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা ‘তৃতীয় স্থান অধিকারী’ দল হিসেবে টিকে থাকার জন্য শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়ছে।

ফলে, কোনো পরাশক্তি বা ফেবারিট দল শুরুতে দু-একটি ম্যাচ খারাপ করলেও তাদের বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন এখনই শেষ হয়ে যাচ্ছে না। শেষ ম্যাচ পর্যন্ত টিকে থাকছে লাইফলাইন!