ওঝার ঝাড়ফুঁকেই ভরসা, ফরিদপুরে কুসংস্কারের বলি ১৬ বছরের কিশোর
- আপডেট সময় : ১২:৩৩:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
- / 86
বিজ্ঞানকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সাপে কাটা রোগীকে হাসপাতালে না নিয়ে ওঝার ঝাড়ফুঁক! আর সেই আদিম কুসংস্কারের চরম মূল্য দিতে হলো এক তরতাজা কিশোরকে। বিষাক্ত সাপের কামড় খাওয়ার পর সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে অবশেষে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ল ১৬ বছরের এক কিশোর। শনিবার (২৭ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে চারটার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার গুণবহা ইউনিয়নের অমৃত নগর চরপাড়া গ্রামে। মৃত রাফসান শেখ ওই গ্রামের মো. লিটন শেখের ছেলে।
বাথরুম থেকে ফেরার পথেই ছোবল, অতঃপর ওঝার আসর:
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত ৯টার দিকে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বাথরুমে গিয়েছিল রাফসান। সেখান থেকে ঘরে ফেরার পথেই অন্ধকারে ওত পেতে থাকা একটি বিষাক্ত সাপ তার পায়ে ছোবল মারে। চিৎকার শুনে পরিবারের লোকজন ছুটে এলেও তারা রাফসানকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন মনে করেননি। উল্টে খবর দেওয়া হয় পার্শ্ববর্তী ঘোষপুর ইউনিয়নের গোয়াইলবাড়ির কানু মিনা নামের এক ওঝাকে। রাতভর চলে ঝাড়ফুঁকের নাটক।
ভোর চারটার দিকে যখন রাফসানের শরীর নীল হয়ে আসতে শুরু করে এবং অবস্থার চরম অবনতি হয়, তখন টনক নড়ে পরিবারের। ওঝার কেরামতি ব্যর্থ হতে দেখে দ্রুত তাকে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু ততক্ষণে বিষ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো শরীরে। পরবর্তীতে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথেই ভোরের আলো ফোটার আগে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে রাফসান।
১৫ দিন আগের ‘অলৌকিক’ বিশ্বাসই ডেকে আনল কাল!
স্থানীয় ইউপি সদস্য এনায়েত হোসেন এক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে জানান, মাত্র ১৫ দিন আগেও এই রাফসানকে তাদের পুকুরপাড়ে সাপে কামড়েছিল। কাকতালীয়ভাবে সেবার ওই ওঝা কানু মিনার ঝাড়ফুঁকের পরই সে সুস্থ হয়ে ওঠে। আর সেই ‘অলৌকিক’ বিশ্বাসের ওপর ভরসা করেই শনিবার রাতে দ্বিতীয়বার সাপে কামড়ানোর পর পরিবারটি হাসপাতালের বদলে ওঝার পায়ে গিয়ে পড়ে। আর এই অন্ধবিশ্বাসই ডেকে আনল রাফসানের অকাল মৃত্যু।
অ্যান্টিভেনম দিতে রাজি হয়নি পরিবার, দাবি ডাক্তারের:
বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. কে এম মাহমুদ রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, রাত চারটার দিকে ওই কিশোরকে একদম মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সুমন রায় রোগীর অবস্থা বেগতিক দেখে তাৎক্ষণিক সাপে কাটা রোগীর প্রধান ওষুধ ‘অ্যান্টিভেনম’ দেওয়ার সমস্ত প্রস্তুতি নেন এবং বিস্তারিত বুঝিয়ে বলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, রোগীর পরিবার কিছুতেই অ্যান্টিভেনম দিতে রাজি হয়নি। শেষে তাদের আপত্তির কারণে বন্ড সই নিয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই পথেই তার মৃত্যু ঘটে।


















