ঐচ্ছিক অনুদানের তালিকার দুই জায়গায় জামায়াত এমপির মেয়ের নাম
- আপডেট সময় : ০৭:০২:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
- / 43
সরকারি খয়রাতি তহবিলের টাকা বিলি নিয়ে তুমুল শোরগোল নড়াইলে! খোদ সংসদ সদস্যের ঐচ্ছিক তহবিলের অনুদান প্রাপকদের তালিকায় জলজ্যান্ত নাম জ্বলজ্বল করছে তাঁর নিজেরই মেয়ের। শুধু তা-ই নয়, সেই তালিকায় একই মেয়ের নাম দু-দুটি জায়গায় ঢুকিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শুক্রবার (২৬ জুন) সরকারি এই গোপন তালিকাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাঁস (ভাইরাল) হতেই চারদিকে ছিঃ ছিঃ পড়ে গেছে। তুমুল সমালোচনার মুখে শেষমেশ আসরে নামতে হয়েছে স্বয়ং সংসদ সদস্যকে।
লোহাগড়া ও সদরের একাংশ (নড়াইল-২) আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চুর এই কাণ্ড নিয়ে এখন জেলাজুড়ে চরম তোলপাড় চলছে। তবে বিষয়টি ফাঁস হতেই পুরো দায় নিজের ব্যক্তিগত সচিবের (পিএস) ঘাড়ে চাপিয়েছেন এমপি সাহেব।
একই কন্যার নাম দুই জায়গায়, স্বজনপোষণের মহা-তালিকা!
সচিবালয় থেকে অনুমোদিত ওই সরকারি চিঠিতে দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এমপির ঐচ্ছিক তহবিল থেকে মোট ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা মঞ্জুর করা হয়েছে। ২১ জনের সেই তালিকায় ১ নম্বর এবং ৮ নম্বরে ‘ফাইজা’ নামের এক তরুণীর নাম রয়েছে। ১ নম্বরে বাবার নাম লেখা ‘মো. বাচ্চু’ এবং ৮ নম্বরে লেখা ‘মো. আতাউর’। দুই জায়গাতেই বরাদ্দ ১০ হাজার টাকা করে। নেটজনতার দাবি, বাবার দুই নাম ব্যবহার করে আসলে এমপির নিজের মেয়ে ফাইজাকেই সরকারি টাকা পাইয়ে দেওয়ার ছক কষা হয়েছিল।
এখানেই শেষ নয়, নড়াইল সদরের ১০ জন প্রাপকের মধ্যে ৯ জনই এমপির নিজের ইউনিয়নের (হবখালী) বাসিন্দা। আর লোহাগড়া উপজেলার ১১ জনের মধ্যে ৭ জনেরই বাড়ি এমপির শ্বশুরবাড়ি এলাকা লাহুড়িয়ায়! এমন ‘স্বজনপোষণের’ তালিকা দেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
‘আমি তো জানতামই না!’ সাফাই এমপির
আজ শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে নড়াইল জেলা পরিষদে দাঁড়িয়ে গণমাধ্যমের কাছে তালিকাটি ‘সঠিক’ বলে স্বীকার করলেও এর পেছনে নিজের পিএস-এর হাত রয়েছে বলে দাবি করেন এমপি আতাউর রহমান। তিনি বলেন, “আমি তখন নড়াইলে ছিলাম না। আমার পিএস বলেছিল যেকোনোভাবে একটা তালিকা জমা দিতে। আমার স্বাক্ষরিত প্যাড ঢাকায় তার কাছেই ছিল। আমি তাকে চেনাজানাদের নাম দিয়ে তালিকা দিতে বলেছিলাম। সে আমার পরিবার আর এলাকার লোক বেশি ঢুকিয়ে ফেলেছে। টাকা যে চলে এসেছে, তাও আমি জানতাম না।”
এমপি আরও দাবি করেন, তিনি তাঁর সন্তানকে টাকা দেওয়ার জন্য এটি করেননি। ফেসবুকে এটি নিয়ে রাজনীতি হচ্ছে। তিনি আজই নতুন তালিকা তৈরি করে প্রকৃত অভাবীদের টাকা দেওয়ার জন্য ইউএনও-কে নির্দেশ দেবেন।
আইনের মারপ্যাঁচ: টাকা অন্য কাউকে দেওয়ার সুযোগ নেই!
এমপি সাহেব দায় এড়াতে নতুন তালিকার কথা বললেও আইনের চোখে তা অসম্ভব। নড়াইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) টি এম রাহসিন কবির সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “এমপির ডিও লেটার অনুযায়ী সচিবালয় থেকে যাদের নাম অনুমোদিত হয়ে এসেছে, টাকা তাদেরই দিতে হবে। এর বাইরে নতুন কাউকে টাকা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কেউ টাকা না নিলে তা সরকারি কোষাগারে ফেরত যাবে। তালিকা সংশোধন করতে হলে আবার সচিবালয় থেকেই করিয়ে আনতে হবে।”
ফলে নিজের মেয়ের নামে আসা সরকারি অনুদানের টাকা এমপি ফেরত পাঠান, নাকি এই তালিকা সংশোধন নিয়ে নতুন কোনো নাটক তৈরি হয়, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় নড়াইলবাসী।


















