ঢাকা ০১:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে কলেজ ছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১১:৪৭:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
  • / 156

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এক কলেজ ছাত্রকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষ। আজ শুক্রবার (২৬ জুন) রাত আটটার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুমন শেখ (২৪) নামে ওই যুবক মারা যান। এর আগে একই দিন সন্ধ্যা ছয়টার দিকে উপজেলার বড়ভাগ গ্রামের পূর্বপাড়া উকিলের বাড়ির সামনে এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে।

নিহত সুমন শেখ বড়ভাগ গ্রামের আলাউদ্দিন শেখের ছোট ছেলে। তিনি পার্শ্ববর্তী গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী এম এ খালেক ডিগ্রি কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

পথরোধ করে এলোপাথাড়ি কোপ:

পুলিশ, স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বড়ভাগ গ্রামের কুদ্দুস শেখের ছেলে হুসাইন শেখের পরিবারের সঙ্গে সুমন শেখদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। আজ শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে কাশিয়ানী থেকে মোটরসাইকেলে করে নিজ বাড়ি ফিরছিলেন সুমন। পথে বড়ভাগ গ্রামের পূর্বপাড়া উকিলের বাড়ির সামনে পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা শামীম শেখ ও হুসাইন শেখের নেতৃত্বে একদল দুষ্কৃতকারী তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে সুমনকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে রাস্তায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত আটটার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আগেও করা হয়েছিল মারধর, অভিযোগ ভাইয়ের:

নিহত সুমনের বড় ভাই শামীম শেখ ক্ষোভ ও বিচার দাবি করে বলেন, “কুদ্দুস শেখের ছেলে হুসাইন শেখের সাথে আমাদের পূর্ব শত্রুতা ছিল। তারা কয়েকদিন আগেও আমার ভাইকে মারধর করেছিল। আজ বিকেলে ভাই বাড়ি ফেরার পথে হুসাইন শেখ ও তার লোকজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

তদন্তে পুলিশ, এলাকায় উত্তেজনা:

হত্যাকাণ্ডের পর থেকে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। খবর পেয়ে আলফাডাঙ্গা থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থল ও নিহতের বাড়ি পরিদর্শন করেছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির তাইজুর রহমান বলেন, “সুমন শেখ নামে এক কলেজ ছাত্রকে কুপিয়ে জখমের পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা গেছেন। খবর পাওয়া মাত্রই আমরা ঘটনাস্থলে এসেছি এবং নিহতের বাড়িতে অবস্থান করছি। ঘটনার নেপথ্যের বিস্তারিত তথ্য উদঘাটনে কাজ চলছে। এই বিষয়ে মামলা দায়েরসহ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

ফরিদপুরে কলেজ ছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা

আপডেট সময় : ১১:৪৭:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এক কলেজ ছাত্রকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষ। আজ শুক্রবার (২৬ জুন) রাত আটটার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুমন শেখ (২৪) নামে ওই যুবক মারা যান। এর আগে একই দিন সন্ধ্যা ছয়টার দিকে উপজেলার বড়ভাগ গ্রামের পূর্বপাড়া উকিলের বাড়ির সামনে এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে।

নিহত সুমন শেখ বড়ভাগ গ্রামের আলাউদ্দিন শেখের ছোট ছেলে। তিনি পার্শ্ববর্তী গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী এম এ খালেক ডিগ্রি কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

পথরোধ করে এলোপাথাড়ি কোপ:

পুলিশ, স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বড়ভাগ গ্রামের কুদ্দুস শেখের ছেলে হুসাইন শেখের পরিবারের সঙ্গে সুমন শেখদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। আজ শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে কাশিয়ানী থেকে মোটরসাইকেলে করে নিজ বাড়ি ফিরছিলেন সুমন। পথে বড়ভাগ গ্রামের পূর্বপাড়া উকিলের বাড়ির সামনে পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা শামীম শেখ ও হুসাইন শেখের নেতৃত্বে একদল দুষ্কৃতকারী তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে সুমনকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে রাস্তায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত আটটার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আগেও করা হয়েছিল মারধর, অভিযোগ ভাইয়ের:

নিহত সুমনের বড় ভাই শামীম শেখ ক্ষোভ ও বিচার দাবি করে বলেন, “কুদ্দুস শেখের ছেলে হুসাইন শেখের সাথে আমাদের পূর্ব শত্রুতা ছিল। তারা কয়েকদিন আগেও আমার ভাইকে মারধর করেছিল। আজ বিকেলে ভাই বাড়ি ফেরার পথে হুসাইন শেখ ও তার লোকজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

তদন্তে পুলিশ, এলাকায় উত্তেজনা:

হত্যাকাণ্ডের পর থেকে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। খবর পেয়ে আলফাডাঙ্গা থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থল ও নিহতের বাড়ি পরিদর্শন করেছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির তাইজুর রহমান বলেন, “সুমন শেখ নামে এক কলেজ ছাত্রকে কুপিয়ে জখমের পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা গেছেন। খবর পাওয়া মাত্রই আমরা ঘটনাস্থলে এসেছি এবং নিহতের বাড়িতে অবস্থান করছি। ঘটনার নেপথ্যের বিস্তারিত তথ্য উদঘাটনে কাজ চলছে। এই বিষয়ে মামলা দায়েরসহ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”