ফরিদপুরে ডিবির হেফাজতে ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যু: ভাইরাল ভিডিওতে নতুন মোড়
- আপডেট সময় : ০৯:৩৯:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
- / 276
ফরিদপুরের মধুখালীতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে ছাত্রলীগ কর্মী মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ প্রান্তর (২৮) মৃত্যুর ঘটনার পর তাকে আটকের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাত থেকে ২ মিনিট ৩৯ সেকেন্ডের এই ভিডিওটি বিভিন্ন আইডি ও পেজে ভাইরাল হয়। এতে প্রান্তকে কান ধরানো এবং চড় মারার দৃশ্য দেখা গেছে।
নিহত মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ মধুখালী উপজেলা সদরের গোন্দারদিয়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি ফরিদপুর আইন কলেজের শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
ভাইরাল ভিডিওতে যা দেখা গেছে:
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, গত ২১ জুন বিকেলের দিকে মধুখালী পৌর সদরের গোন্দারদিয়া এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন প্রান্ত। তখন তার পরনে ছিল লুঙ্গি এবং কাঁধে একটি ল্যাপটপের ব্যাগ। এ সময় সাধারণ পোশাকে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি (যাদের ডিবি পুলিশ বলে দাবি করা হচ্ছে) প্রান্তকে ঘিরে ধরেন।
লাল রঙের টি-শার্ট পরিহিত এক ব্যক্তি প্রথমে প্রান্তর গতিরোধ করে কথা বলেন। পরে সাদা টি-শার্ট পরিহিত আরেক ব্যক্তি এসে তাকে তল্লাশি শুরু করেন। একপর্যায়ে প্রান্তকে দুই হাত দিয়ে কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এ সময় সাদা টি-শার্ট পরা ব্যক্তি প্রান্তকে গালি দিয়ে একটি থাপ্পড় মারেন। তখন লাল টি-শার্ট পরা অপর ব্যক্তি তাকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, ‘মারিস না’।
ভিডিওর ৪৩ সেকেন্ডের সময় ছাই রঙের চেক শার্ট পরা আরেক ব্যক্তিকে মোবাইলে বলতে শোনা যায়, ‘লাঠি নিয়ে মরিচবাজার এলাকায় আসেন, দ্রুত আসেন’। পরে একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাস ঘটনাস্থলে আসে এবং সেখান থেকে নারী সদস্যসহ আরও কয়েকজন অভিযানে যুক্ত হন। ভিডিওর ২ মিনিট ৭ সেকেন্ডের সময় ছাই রঙের শার্ট পরা ব্যক্তি মেঝে থেকে কিছু একটা দেখিয়ে বলেন, ‘এই যে এক টোপলা’। তবে ভিডিওতে দেখা যায়, ওই বস্তুটি ইশতিয়াককে তল্লাশির স্থান থেকে কিছুটা দূরে পড়ে ছিল।
টাকা দাবি ও লাশ পাওয়ার অভিযোগ মায়ের:
নিহত প্রান্তর মা খাদিজা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, “আটকের পর ডিবি সদস্যরা আমার ছেলেকে নিয়ে বাড়িতে যান। সেখানে নারী সদস্য দিয়ে আমাকেও তল্লাশি করা হয়। পরে ঘরবাড়ি তল্লাশি করে আমার ছেলেকে নিয়ে যাওয়া হয়। রাতে ৬৫ হাজার টাকা দিলে আমার ছেলেকে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে এক আত্মীয়ের সঙ্গে ডিবি পুলিশের কথা হয়েছিল। পরে ডিবি জানায়, ‘এ ছেলে ছাত্রলীগ করে, আজ তাকে ছাড়া হবে না।’ পরদিন সকালে ১ লাখ টাকা নিয়ে ফরিদপুরে যেতে বলা হয়।”
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, “সকালে আমি ১ লাখ টাকা নিয়ে ফরিদপুরে যাই। পরে শুনি আমার ছেলেকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালে গিয়ে ছেলের লাশ পাই। আমার ছেলেকে আমার সামনে থেকে জীবিত নিয়ে গেল, আর পরে আমি তার মরদেহ পেলাম।”
পুলিশের দাবি ‘মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে মৃত্যু’:
তবে ইশতিয়াক আহমেদ প্রান্তর মৃত্যুর পর ফরিদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, “মাদকবিরোধী অভিযানে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। হেফাজতে থাকা অবস্থায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতাল এবং পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।”
পুলিশ সুপার আরও দাবি করেন, প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকদের মাধ্যমে তারা জেনেছেন, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের (ব্রেইন স্ট্রোক) কারণে প্রান্তর মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি এবং পুলিশ হেফাজতে কোনো ধরনের শারীরিক নির্যাতন করা হয়নি।



















