ঢাকা ০৫:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে মাদকবিরোধী সভা ঘিরে রণক্ষেত্র: রক্তাক্ত অন্তত ২০

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০১:১২:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
  • / 138

মাদকবিরোধী লড়াইয়ের ডাক নাকি আধিপত্য বিস্তারের ছক? এই দ্বন্দ্বে রবিবাসরীয় সকালে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা! দুই দল গ্রামবাসীর মধ্যে লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে চলল তুমুল রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। ধারালো অস্ত্রের কোপে ও ইটের আঘাতে রক্তাক্ত হলেন কমপক্ষে ২০ জন গ্রামবাসী। আজ রবিবার (২৮ জুন) সকাল থেকে ভাঙ্গার হামিরদী ইউনিয়নের মহেশ্বরদী গ্রামে দফায় দফায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ওই এলাকায় বর্তমানে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

বৈঠক ঘিরে ভুল বোঝাবুঝি, অতঃপর রণক্ষেত্র:

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সূত্রপাত গত শুক্রবার। মহেশ্বরদী গ্রামের কালাম কাজীর বাড়িতে প্রথমে একটি মাদকবিরোধী সভা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর শনিবার দ্বিতীয় দফায় হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদেও একই বিষয়ে বৈঠক বসে। কিন্তু এই মাদকবিরোধী বৈঠককে ঘিরেই গ্রামের দুই প্রভাবশালী গোষ্ঠীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। আর সেই ক্ষোভেরই চূড়ান্ত বিস্ফোরণ ঘটল আজ রবিবার সকালে। দুই পক্ষ মুখোমুখি হতেই শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া।

সংঘর্ষে গুরুতর জখম আকতার মাতুব্বর, রিয়াদ মাতুব্বর ও মামুন মাতুব্বরকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

চেয়ারম্যান বনাম বিপক্ষ দল: অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের তির!

ঘটনা প্রসঙ্গে হামিরদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খোকন মিয়া দাবি করেন, “মাদকবিরোধী সভায় যোগ দেওয়ায় দেলোয়ার মাতুব্বর নামের এক ব্যক্তির বাড়িঘর ভাঙচুর করে বিপক্ষ দল এবং তাকে মারধর করা হয়। আর সেই সূত্র ধরেই এই সংঘর্ষের সূত্রপাত।”

পাল্টা সুর চড়িয়ে বিপক্ষ দলের প্রভাবশালী ব্যক্তি ছিরু মিয়া গুরুতর অভিযোগ এনে বলেন, “মাদক তাড়ানোর নামে আসলে খোকন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বেই সব মাদক কারবারিরা একজোট হয়েছে! নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতেই তারা এই নাটক করেছে এবং সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালিয়েছে।”

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ:

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মূল ঝামেলাটা এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই ঘটেছে। খবর পাওয়ার পর পরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং নতুন করে সহিংসতা এড়াতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

ফরিদপুরে মাদকবিরোধী সভা ঘিরে রণক্ষেত্র: রক্তাক্ত অন্তত ২০

আপডেট সময় : ০১:১২:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

মাদকবিরোধী লড়াইয়ের ডাক নাকি আধিপত্য বিস্তারের ছক? এই দ্বন্দ্বে রবিবাসরীয় সকালে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা! দুই দল গ্রামবাসীর মধ্যে লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে চলল তুমুল রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। ধারালো অস্ত্রের কোপে ও ইটের আঘাতে রক্তাক্ত হলেন কমপক্ষে ২০ জন গ্রামবাসী। আজ রবিবার (২৮ জুন) সকাল থেকে ভাঙ্গার হামিরদী ইউনিয়নের মহেশ্বরদী গ্রামে দফায় দফায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ওই এলাকায় বর্তমানে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

বৈঠক ঘিরে ভুল বোঝাবুঝি, অতঃপর রণক্ষেত্র:

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সূত্রপাত গত শুক্রবার। মহেশ্বরদী গ্রামের কালাম কাজীর বাড়িতে প্রথমে একটি মাদকবিরোধী সভা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর শনিবার দ্বিতীয় দফায় হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদেও একই বিষয়ে বৈঠক বসে। কিন্তু এই মাদকবিরোধী বৈঠককে ঘিরেই গ্রামের দুই প্রভাবশালী গোষ্ঠীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। আর সেই ক্ষোভেরই চূড়ান্ত বিস্ফোরণ ঘটল আজ রবিবার সকালে। দুই পক্ষ মুখোমুখি হতেই শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া।

সংঘর্ষে গুরুতর জখম আকতার মাতুব্বর, রিয়াদ মাতুব্বর ও মামুন মাতুব্বরকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

চেয়ারম্যান বনাম বিপক্ষ দল: অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের তির!

ঘটনা প্রসঙ্গে হামিরদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খোকন মিয়া দাবি করেন, “মাদকবিরোধী সভায় যোগ দেওয়ায় দেলোয়ার মাতুব্বর নামের এক ব্যক্তির বাড়িঘর ভাঙচুর করে বিপক্ষ দল এবং তাকে মারধর করা হয়। আর সেই সূত্র ধরেই এই সংঘর্ষের সূত্রপাত।”

পাল্টা সুর চড়িয়ে বিপক্ষ দলের প্রভাবশালী ব্যক্তি ছিরু মিয়া গুরুতর অভিযোগ এনে বলেন, “মাদক তাড়ানোর নামে আসলে খোকন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বেই সব মাদক কারবারিরা একজোট হয়েছে! নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতেই তারা এই নাটক করেছে এবং সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালিয়েছে।”

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ:

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মূল ঝামেলাটা এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই ঘটেছে। খবর পাওয়ার পর পরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং নতুন করে সহিংসতা এড়াতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।