শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা: গণমাধ্যমকে তথ্য মন্ত্রণালয়ের কড়া নির্দেশ
- আপডেট সময় : ০১:১৭:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
- / 123
পলাতক নেত্রীর কণ্ঠস্বর কি তবে এবার সম্পূর্ণ স্তব্ধ হতে চলেছে দেশের মাটিতে? ৫ আগস্টের সেই নজিরবিহীন রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই ওপার বাংলা থেকে ভেসে আসা একের পর এক অডিও ক্লিপ কিংবা ভিডিও বার্তা নিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন ছিল তটস্থ। কিন্তু সেই ‘ডিজিটাল উপস্থিতি’র ওপর এবার আইনি ও প্রশাসনিকভাবে চূড়ান্ত পেরেকটি ঠুকে দিল সরকার। ক্ষমতাচ্যুত ও পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কোনো বক্তব্য, ভাষণ, সাক্ষাৎকার কিংবা অডিও-ভিডিও বার্তা দেশের কোনো গণমাধ্যম বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার বা প্রকাশ না করার জন্য কড়া নির্দেশ জারি করেছে তথ্য মন্ত্রণালয়।
শুক্রবার (১০ জুলাই) রাতে তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক জরুরি ও বিশেষ বিবৃতিতে দেশের সব গণমাধ্যম এবং সাধারণ নাগরিকদের প্রতি এই স্পষ্ট আহ্বান জানানো হয়।
‘আইসিটি’র সেই নিষেধাজ্ঞা ও আদালতের হাতুড়ি: কেন এই কড়াকড়ি?
তথ্য মন্ত্রণালয়ের এই বিবৃতির নেপথ্যে রয়েছে দেশের প্রচলিত আইন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) পূর্ববর্তী এক ঐতিহাসিক নির্দেশনা।
বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, ২০২৪ সালের ৫ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) ক্ষমতাচ্যুত ও পলাতক শেখ হাসিনার সমস্ত বক্তব্য প্রচারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন। বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ীও, কোনো আদালতের সাজাপ্রাপ্ত কিংবা পলাতক আসামির কোনো ধরনের বক্তব্য, সাক্ষাৎকার বা অডিও-ভিডিও ভাষণ কোনোভাবেই গণমাধ্যমে প্রচার করার আইনি সুযোগ নেই। আর সেই চেনা আইনি হাতুড়িটাই এবার পূর্ণ শক্তিতে ব্যবহার করল মন্ত্রণালয়।
দেশের স্বার্থ ও ডিজিটাল দুনিয়ায় কড়া নজরদারি
তথ্য মন্ত্রণালয় তাদের বিবৃতিতে সাফ জানিয়েছে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে এবং আদালতের নির্দেশনার প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করেই এই সিদ্ধান্ত। টেলিভিশন, বেতার, সংবাদপত্র, নিউজপোর্টাল তো বটেই, ফেসবুক-ইউটিউবের মতো সামাজিক মাধ্যমগুলোতেও যেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর কোনো সরাসরি কিংবা ধারণকৃত (রেকর্ডেড) বক্তব্য প্রকাশ না পায়, তার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।
সরকার স্পষ্ট ভাষায় প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে যে—দেশের সব গণমাধ্যম, সংশ্লিষ্ট অংশীজন এবং দায়িত্বশীল নাগরিকেরা প্রচলিত আইন ও আদালতের এই নির্দেশনার প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা প্রদর্শন করবেন এবং তা প্রতিপালনে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন।
ঘটনার ব্যবচ্ছেদ
একটি দেশের আইনের শাসন ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পলাতক বা সাজাপ্রাপ্ত আসামির বক্তব্য প্রচারের ওপর আইনি রাশ টানা যেকোনো দায়িত্বশীল প্রশাসনের জন্য স্বাভাবিক ও প্রচলিত প্রক্রিয়া। রাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তকে কেবল রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখে, আইনশৃঙ্খলা ও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলার ঢাল হিসেবেই বিবেচনা করা যুক্তিসঙ্গত।



















