ঢাকা ১১:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে রবিউল হত্যাকাণ্ডে হোসাইন শেখসহ ৪৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১২:১৩:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 129

আদালতের জামিনকে যেন অপরাধ ঘটানোর লাইসেন্স বানিয়ে নিয়েছে আলফাডাঙ্গার একদল দুর্ধর্ষ অপরাধী! মাত্র আড়াই মাস আগে সুমনের রক্তে লাল হয়েছিল বড়ভাগ গ্রামের পথঘাট। সেই নৃশংস মামলার আসামিরা উচ্চ আদালত থেকে জামিনে এলাকায় ফিরেই ফের মেতে উঠল রক্তখেলায়। এবার টার্গেট সুমনেরই চাচা, কাশিয়ানী বাজারের নিরীহ চা দোকানি রবিউল ইসলাম শেখ রবি (৫৬)। দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে ওৎ পেতে থাকা ঘাতকদের ধারালো অস্ত্রের ঘায়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারালেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল সারোয়ার নিশ্চিত করেছেন যে, চা দোকানি রবিউল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুই দিন পর একটি হত্যা মামলা রুজু করা হয়েছে।

মামলায় উপজেলার বড়ভাগ গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য কুদ্দুস শেখের ছেলে মো. হোসাইন শেখকে প্রধান নির্দেশদাতা (হুকুমের আসামি) করে ২৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০-২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। নিহত রবিউলের ভাতিজা নাজমুল শেখ বাদী হয়ে আলফাডাঙ্গা থানায় এই অভিযোগ দায়ের করেন।

আঁধার রাতে অন্ধকার সড়ক ও রক্তক্ষয়ী হামলা

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটে কাশিয়ানী-আলফাডাঙ্গা সড়কের মালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উত্তর পাশে। নিহত রবিউল বড়ভাগ গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন এবং পার্শ্ববর্তী গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলা সদর বাজারে চায়ের দোকান চালাতেন।

ঘটনার দিন রাতে দোকান বন্ধ করে রবিউল নিজ গ্রামের আরও ৩ জনের সঙ্গে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন। আগে থেকেই অন্ধকারের আড়ালে ধারালো দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ওৎ পেতে ছিল হোসাইন শেখের সশস্ত্র দলটি। রবিউল ও তাঁর সঙ্গীরা মালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে পৌঁছাতেই চড়াও হয় হামলাকারীরা। মুহূর্তের মধ্যে ধারালো অস্ত্রের কোপে রক্তে ভেসে যান রবিউল, ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। এ সময় তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে গুরুতর আহত হন সঙ্গে থাকা আরও ৩ জন।

পূর্ব শত্রুতা ও একের পর এক জোড়া লাশ

পুলিশ ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, বড়ভাগ গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার ও গোষ্ঠীগত বিরোধে একের পর এক রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটছে।

চলতি বছরের ২৬ জুন এই একই বিরোধের জেরে সুমন শেখ (৩০) নামের এক যুবককে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। সুমন ছিলেন এই নিহত রবিউলের আপন ভাতিজা। সেই মামলারও প্রধান হুকুমের আসামি ছিলেন সাবেক ইউপি সদস্যের ছেলে এই হোসাইন শেখ। জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় আসার পরপরই সুমনের পরিবারকে আবার স্তব্ধ করে দিতে সুমনের চাচাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো।

আলফাডাঙ্গা থানার ওসি মো. সোহেল সারোয়ার জানান—

“নিহতের ভাতিজার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলাটি থানায় নথিভুক্ত করা হয়েছে। মূল হুকুমের আসামিসহ এজাহারভুক্ত ও অজ্ঞাত আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে।”

ফরিদপুরে রবিউল হত্যাকাণ্ডে হোসাইন শেখসহ ৪৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট সময় : ১২:১৩:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আদালতের জামিনকে যেন অপরাধ ঘটানোর লাইসেন্স বানিয়ে নিয়েছে আলফাডাঙ্গার একদল দুর্ধর্ষ অপরাধী! মাত্র আড়াই মাস আগে সুমনের রক্তে লাল হয়েছিল বড়ভাগ গ্রামের পথঘাট। সেই নৃশংস মামলার আসামিরা উচ্চ আদালত থেকে জামিনে এলাকায় ফিরেই ফের মেতে উঠল রক্তখেলায়। এবার টার্গেট সুমনেরই চাচা, কাশিয়ানী বাজারের নিরীহ চা দোকানি রবিউল ইসলাম শেখ রবি (৫৬)। দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে ওৎ পেতে থাকা ঘাতকদের ধারালো অস্ত্রের ঘায়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারালেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল সারোয়ার নিশ্চিত করেছেন যে, চা দোকানি রবিউল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুই দিন পর একটি হত্যা মামলা রুজু করা হয়েছে।

মামলায় উপজেলার বড়ভাগ গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য কুদ্দুস শেখের ছেলে মো. হোসাইন শেখকে প্রধান নির্দেশদাতা (হুকুমের আসামি) করে ২৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০-২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। নিহত রবিউলের ভাতিজা নাজমুল শেখ বাদী হয়ে আলফাডাঙ্গা থানায় এই অভিযোগ দায়ের করেন।

আঁধার রাতে অন্ধকার সড়ক ও রক্তক্ষয়ী হামলা

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটে কাশিয়ানী-আলফাডাঙ্গা সড়কের মালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উত্তর পাশে। নিহত রবিউল বড়ভাগ গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন এবং পার্শ্ববর্তী গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলা সদর বাজারে চায়ের দোকান চালাতেন।

ঘটনার দিন রাতে দোকান বন্ধ করে রবিউল নিজ গ্রামের আরও ৩ জনের সঙ্গে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন। আগে থেকেই অন্ধকারের আড়ালে ধারালো দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ওৎ পেতে ছিল হোসাইন শেখের সশস্ত্র দলটি। রবিউল ও তাঁর সঙ্গীরা মালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে পৌঁছাতেই চড়াও হয় হামলাকারীরা। মুহূর্তের মধ্যে ধারালো অস্ত্রের কোপে রক্তে ভেসে যান রবিউল, ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। এ সময় তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে গুরুতর আহত হন সঙ্গে থাকা আরও ৩ জন।

পূর্ব শত্রুতা ও একের পর এক জোড়া লাশ

পুলিশ ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, বড়ভাগ গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার ও গোষ্ঠীগত বিরোধে একের পর এক রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটছে।

চলতি বছরের ২৬ জুন এই একই বিরোধের জেরে সুমন শেখ (৩০) নামের এক যুবককে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। সুমন ছিলেন এই নিহত রবিউলের আপন ভাতিজা। সেই মামলারও প্রধান হুকুমের আসামি ছিলেন সাবেক ইউপি সদস্যের ছেলে এই হোসাইন শেখ। জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় আসার পরপরই সুমনের পরিবারকে আবার স্তব্ধ করে দিতে সুমনের চাচাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো।

আলফাডাঙ্গা থানার ওসি মো. সোহেল সারোয়ার জানান—

“নিহতের ভাতিজার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলাটি থানায় নথিভুক্ত করা হয়েছে। মূল হুকুমের আসামিসহ এজাহারভুক্ত ও অজ্ঞাত আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে।”