ঢাকা ১১:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে পরকীয়া সন্দেহে গৃহবধূকে গাছে বেঁধে নির্যাতন

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০২:২২:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
  • / 111

আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে সমাজপতি কিংবা মাতব্বরদের এমন পৈশাচিক ও মধ্যযুগীয় বিচার ব্যবস্থা আবারও নগ্ন রূপ ধারণ করল ফরিদপুরের মাটিতে। সদরপুর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের বেপারীডাঙ্গী গ্রামে পরকীয়ার অভিযোগে এক গৃহবধূকে গাছের সঙ্গে বেঁধে অমানুষিক নির্যাতন এবং মাথার চুল কেটে দেওয়ার লোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার দুটি ভিডিও রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূর নাম রিক্তা বেগম (২৮)। তিনি বেপারীডাঙ্গী গ্রামের সৌদি প্রবাসী রাজিব বেপারীর স্ত্রী। তাঁর বাবার বাড়ি সদরপুরের পার্শ্ববর্তী ভাষাণচর ইউনিয়নের কারীরহাট গ্রামে।

স্থানীয় সূত্রে এই পৈশাচিক নির্যাতনে সরাসরি সম্পৃক্ত হিসেবে সুমন হোসেন (২৬) ও জয় হোসেন (২৮) নামের দুই যুবকের নাম উঠে এসেছে। অভিযুক্ত সুমনের বাড়ি স্থানীয় এলাকাতেই এবং সে স্থানীয় বাসিন্দা ইউসুফ বেপারীর নাতি বলে জানা গেছে।

ভিডিওতে উঠে এল মধ্যযুগীয় বর্বরতার চিত্র

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ১ মিনিট ৩৮ সেকেন্ডের প্রথম ভিডিও ক্লিপটিতে দেখা যায়, ভুক্তভোগী গৃহবধূকে একটি চেয়ারে বসিয়ে রাখা হয়েছে। তাঁর হাত ধরে আছেন কালো টি-শার্ট পরিহিত এক যুবক, আর অপর এক যুবক ধারালো কাঁচি দিয়ে তাঁর মাথার লম্বা চুল কেটে ফেলছেন। পাশাপাশি ওই নারীর ওপর চালানো হচ্ছে শারীরিক নির্যাতনও।

এর বাইরে ১ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের দ্বিতীয় ভিডিওটিতে আরও ভয়ংকর দৃশ্য ধরা পড়েছে। রাতের অন্ধকারে ওই নারী ও অপর এক যুবককে একটি গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে শক্ত করে বেঁধে রাখা হয়েছে। সেই অবস্থাতেও গৃহবধূকে দফায় দফায় মারধর করা হচ্ছে। ভিডিওগুলো মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠে।

রাতের ঘটনা ও পুলিশের অ্যাকশন

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার বাবার বাড়ি থেকে নিজ স্বামী ও শ্বশুরবাড়িতে আসেন রিক্তা বেগম। ওই রাতেই তাঁর কক্ষে এক যুবককে দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। পরবর্তীতে স্থানীয়রা তাঁদের দুজনকে আটক করে। কিন্তু পরদিন রবিবার বিকেলে সালিশ বা বিচার নামের প্রহসনের মাধ্যমে ওই গৃহবধূর মাথার চুল কেটে তাঁকে জোরপূর্বক বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয় এবং আটকদের মধ্যে যুবকটিকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হলেও ভিডিও ফাঁসের পর কঠোর অবস্থানে যায় প্রশাসন। এ বিষয়ে সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন শাহ জানান, ভিডিওগুলো ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশের একাধিক দল মাঠে নেমেছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে জোরালো অভিযান চলছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “কেউ অপরাধ করলে তার বিচারের জন্য প্রচলিত আইন রয়েছে। কিন্তু কোনোভাবেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কাম্য নয়।”

সোমবার পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিজেও সংশ্লিষ্ট এলাকায় অভিযানে রয়েছেন বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

ফরিদপুরে পরকীয়া সন্দেহে গৃহবধূকে গাছে বেঁধে নির্যাতন

আপডেট সময় : ০২:২২:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে সমাজপতি কিংবা মাতব্বরদের এমন পৈশাচিক ও মধ্যযুগীয় বিচার ব্যবস্থা আবারও নগ্ন রূপ ধারণ করল ফরিদপুরের মাটিতে। সদরপুর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের বেপারীডাঙ্গী গ্রামে পরকীয়ার অভিযোগে এক গৃহবধূকে গাছের সঙ্গে বেঁধে অমানুষিক নির্যাতন এবং মাথার চুল কেটে দেওয়ার লোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার দুটি ভিডিও রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূর নাম রিক্তা বেগম (২৮)। তিনি বেপারীডাঙ্গী গ্রামের সৌদি প্রবাসী রাজিব বেপারীর স্ত্রী। তাঁর বাবার বাড়ি সদরপুরের পার্শ্ববর্তী ভাষাণচর ইউনিয়নের কারীরহাট গ্রামে।

স্থানীয় সূত্রে এই পৈশাচিক নির্যাতনে সরাসরি সম্পৃক্ত হিসেবে সুমন হোসেন (২৬) ও জয় হোসেন (২৮) নামের দুই যুবকের নাম উঠে এসেছে। অভিযুক্ত সুমনের বাড়ি স্থানীয় এলাকাতেই এবং সে স্থানীয় বাসিন্দা ইউসুফ বেপারীর নাতি বলে জানা গেছে।

ভিডিওতে উঠে এল মধ্যযুগীয় বর্বরতার চিত্র

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ১ মিনিট ৩৮ সেকেন্ডের প্রথম ভিডিও ক্লিপটিতে দেখা যায়, ভুক্তভোগী গৃহবধূকে একটি চেয়ারে বসিয়ে রাখা হয়েছে। তাঁর হাত ধরে আছেন কালো টি-শার্ট পরিহিত এক যুবক, আর অপর এক যুবক ধারালো কাঁচি দিয়ে তাঁর মাথার লম্বা চুল কেটে ফেলছেন। পাশাপাশি ওই নারীর ওপর চালানো হচ্ছে শারীরিক নির্যাতনও।

এর বাইরে ১ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের দ্বিতীয় ভিডিওটিতে আরও ভয়ংকর দৃশ্য ধরা পড়েছে। রাতের অন্ধকারে ওই নারী ও অপর এক যুবককে একটি গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে শক্ত করে বেঁধে রাখা হয়েছে। সেই অবস্থাতেও গৃহবধূকে দফায় দফায় মারধর করা হচ্ছে। ভিডিওগুলো মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠে।

রাতের ঘটনা ও পুলিশের অ্যাকশন

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার বাবার বাড়ি থেকে নিজ স্বামী ও শ্বশুরবাড়িতে আসেন রিক্তা বেগম। ওই রাতেই তাঁর কক্ষে এক যুবককে দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। পরবর্তীতে স্থানীয়রা তাঁদের দুজনকে আটক করে। কিন্তু পরদিন রবিবার বিকেলে সালিশ বা বিচার নামের প্রহসনের মাধ্যমে ওই গৃহবধূর মাথার চুল কেটে তাঁকে জোরপূর্বক বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয় এবং আটকদের মধ্যে যুবকটিকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হলেও ভিডিও ফাঁসের পর কঠোর অবস্থানে যায় প্রশাসন। এ বিষয়ে সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন শাহ জানান, ভিডিওগুলো ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশের একাধিক দল মাঠে নেমেছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে জোরালো অভিযান চলছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “কেউ অপরাধ করলে তার বিচারের জন্য প্রচলিত আইন রয়েছে। কিন্তু কোনোভাবেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কাম্য নয়।”

সোমবার পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিজেও সংশ্লিষ্ট এলাকায় অভিযানে রয়েছেন বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।