‘ভারতের ৫০ কিলোমিটার ভেতরে ঢুকে গেছে চীনা সেনা’
- আপডেট সময় : ০৬:১৭:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
- / 116
প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার (এলএসি) ওপার থেকে কি আরও একবার বড় কোনো আগ্রাসনের ছায়া নেমে আসছে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে? অরুণাচল প্রদেশে ভারতীয় ভূখণ্ডের প্রায় ৫০ কিলোমিটার ভেতর পর্যন্ত চীনা পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) ঢুকে পড়েছে বলে এক বিস্ফোরক দাবি তুলেছেন রাজ্য কংগ্রেসের সভাপতি ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী বসিরাম সিরাম। সীমান্ত পরিদর্শনের অভিজ্ঞতার কথা শুনিয়ে তিনি যখন চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনছেন, ঠিক তখনই সম্পূর্ণ উল্টো সুর গেয়ে এই অভিযোগ একসরে উড়িয়ে দিয়েছেন খোদ অরুণাচলের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু।
ভারতের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল সীমান্তবর্তী রাজ্য অরুণাচল প্রদেশে চীনা সেনার গভীর অনুপ্রবেশ নিয়ে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তীব্র ঝড় উঠেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া’-র একটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) এক সংবাদ সম্মেলনে অরুণাচল প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি বসিরাম সিরাম দাবি করেন, রাজ্যের আপার সুবানসিরি জেলার বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকায় চীনা পিএলএ সদস্যরা নিজেদের স্থায়ী অবস্থান শক্ত করেছে। এহেন স্পর্শকাতর পরিস্থিতিতে সীমান্তের প্রকৃত ও বাস্তবের চিত্র উদ্ঘাটনে একটি নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
সীমান্ত পরিদর্শনের চাঞ্চল্যকর অভিজ্ঞতা ও কংগ্রেসি দাবি
সংবাদ সম্মেলনে বসিরাম সিরাম জানান, গত ২৬ থেকে ২৯ আগস্ট তাঁর নিজ নেতৃত্বে কংগ্রেসের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল সুদূর সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়েছিল। রাজধানী ইটানগর থেকে নাচো হয়ে লাইমেকিং ও তাকসিং এলাকায় পৌঁছায় ওই দল। সে সময় সীমান্তবর্তী এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গেও দীর্ঘ আলোচনা হয় তাঁদের।
তার পরই বিস্ফোরক দাবি করে সিরাম বলেন, “চীনা সেনারা বর্তমানে ভারতীয় ভূখণ্ডের অন্তত ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার অভ্যন্তরে প্রবেশ করে অবস্থান নিয়েছে। দুর্গম পাহাড়ের উঁচু ও কৌশলগত চূড়াগুলোতে তাদের নিয়মিত টহল ও উপস্থিতি দেখা যায়, আর ভারতীয় জনপদ বা আমরা রয়েছি একেবারে নিচে।”
তার ভাষ্যমতে, আসাফিলাসহ একাধিক কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ইতিমধ্যেই কার্যত চীনাদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। এমনকি অনলাইন মানচিত্র থেকেও কিছু স্পর্শকাতর এলাকা অদৃশ্য করে দেওয়া হয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ তোলেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া বনাম স্থানীয় ক্ষোভ
কংগ্রেস সভাপতির এই মারাত্মক অভিযোগের জবাবে অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সীমান্তে চীনের কোনো ধরনের অনুপ্রবেশ ঘটছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন না। দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী এই দাবি পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
এর আগে গত জুনে ‘নাহ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’ নামের একটি স্থানীয় সংগঠনও অভিযোগ করেছিল যে তাকসিংয়ের কাছে চীনা সেনাবাহিনী তাদের উপস্থিতি ব্যাপকহারে বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে সে সময় ভারতীয় সেনাবাহিনী ওই অভিযোগকে ‘ভুল ও ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিল। পরবর্তীতে আগস্ট মাসে অরুণাচলের পিপলস পার্টির একটি প্রতিনিধিদলও দাবি করে যে, সীমান্তবর্তী গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পয়েন্টে ভারতীয় টহল দলকে প্রবেশ করতে বাধা দিচ্ছে চীনা বাহিনী।
এদিকে ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু চীনের ৫০ কিলোমিটার ভেতরে ঢুকে পড়ার সরাসরি অভিযোগ নাকচ করে দিলেও, সীমান্তবর্তী উঁচু পাহাড়ি এলাকাগুলোতে চীনের সামরিক তৎপরতা ও অবকাঠামো নির্মাণ যে বেড়েছে—তা একপ্রকার স্বীকার করেছিলেন।
সরকারের পক্ষ থেকে বারবার এই অনুপ্রবেশের খবরকে অস্বীকার করায় ক্ষোভ প্রকাশ করে কংগ্রেস সভাপতি বসিরাম সিরাম প্রশ্ন তোলেন, “যদি সীমান্তে কোনো ধরনের অনুপ্রবেশ বা আগ্রাসী তৎপরতাই না ঘটে, তবে স্থানীয় বাসিন্দারা বারবার এমন আতঙ্কজনক অভিযোগ তুলছেন কেন? এসব গুরুতর অভিযোগকে স্রেফ ‘গু গুজব’ বলে উড়িয়ে না দিয়ে সরকারের উচিত একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত করা।”
















