ঢাকা ০৮:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বহুমুখী পদক্ষেপ সরকারের, চিঠি যাচ্ছে ট্রাম্পের কাছে

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১২:৫০:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ এপ্রিল ২০২৫
  • / 89

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত ৩৭ শতাংশ শুল্ক কমাতে বহুমুখী পদক্ষেপ নিচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন বাংলাদেশ সরকার। এর অংশ হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চিঠি লিখবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। রোববার অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠক শেষে প্রেস সচিব শফিকুল আলম এই তথ্য জানান।

দ্রুত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে টানা বৈঠক

গত বুধবার মধ্যরাতে যুক্তরাষ্ট্র বাড়তি শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিলে, প্রধান উপদেষ্টা সংশ্লিষ্ট মহলকে অবিলম্বে করণীয় নির্ধারণের নির্দেশ দেন। গত চার দিন ধরে সরকারি ও বেসরকারি অংশগ্রহণে একাধিক বৈঠকের মাধ্যমে চূড়ান্ত সুপারিশ তৈরি করা হয়। এরপরই সরকার চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

দুটি চিঠির মাধ্যমে মার্কিন প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ

সরকার আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দুটি গুরুত্বপূর্ণ চিঠি পাঠাবে। এর মধ্যে একটি পাঠাবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস, যা পৌঁছাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হাতে। অপর চিঠিটি বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন পাঠাবেন ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেনটেটিভ (USTR) দপ্তরে। এই চিঠিতে বাংলাদেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগের সুবিধা বৃদ্ধির পরিকল্পনা ও মার্কিন পণ্যের আমদানি সহজীকরণের পদক্ষেপ তুলে ধরা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণে ঐক্যমত

বৈঠকে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ানোর বিষয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়েছে। বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবা আমদানি বাড়ানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত পণ্যে শুল্কহার যৌক্তিকভাবে হ্রাস করা হবে। ট্যারিফ ও নন-ট্যারিফ বাধা দূর করতেও সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেবে।

উচ্চপর্যায়ের উপস্থিতি ও প্রতিশ্রুতি

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান, প্রধান উপদেষ্টার হাই রিপ্রেজেনটেটিভ ড. খলিলুর রহমান, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি রুবানা হক, ফারুক হাসান, সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, বিকেএমইএ সভাপতি মো. হাতেমসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি প্রতিনিধি। সবাই সরকারের পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

সময় চাওয়া ও অবকাঠামোগত পরিকল্পনা

শনিবার আরও একটি আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কনীতি কার্যকর হতে ৩ থেকে ৬ মাস অতিরিক্ত সময় চাওয়ার সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা আমদানির জন্য দ্রুত ওয়্যারহাউস নির্মাণের প্রস্তাবও আলোচনায় আসে।

অন্যান্য কৌশলগত পদক্ষেপ

অন্য সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে তুলাসহ বিভিন্ন মার্কিন পণ্য ও সেবার আমদানি বৃদ্ধি, যুক্তরাষ্ট্রে চিঠি চালাচালি ও টেলিসংলাপ অব্যাহত রাখা এবং টিকফা ফোরামে বাংলাদেশ যেন সক্রিয় অংশগ্রহণ করতে পারে, সে প্রস্তুতি নেওয়া।

বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা ও আহ্বান

ট্রেড বিশেষজ্ঞ ড. এম এ রাজ্জাক শঙ্কা প্রকাশ করেন, অতিরিক্ত শুল্কের ফলে বাংলাদেশের গার্মেন্টস খাত হুমকির মুখে পড়তে পারে। বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, তুলা আমদানির পরিমাণ তিন-চার গুণ বাড়ালে বাণিজ্য ঘাটতি কমবে, তবে অবকাঠামো দ্রুত প্রস্তুত করা জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে চিঠি দ্রুত পাঠানোর আহ্বান

পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান মাসরুর রিয়াজ সরকারকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা শুরু করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, অনুমান নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বাস্তব চাহিদা বুঝে কৌশল নির্ধারণ করতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ

যুক্তরাষ্ট্রে শুল্ক ইস্যুতে আলোচনার জন্য সরকার মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসনের সঙ্গে বৈঠক করেছে। বৈঠকে বাংলাদেশ স্পষ্ট করেছে, যুক্তরাষ্ট্র যে মানদণ্ডে শুল্ক আরোপ করছে, তা দেশটির বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

বহুমুখী পদক্ষেপ সরকারের, চিঠি যাচ্ছে ট্রাম্পের কাছে

আপডেট সময় : ১২:৫০:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ এপ্রিল ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত ৩৭ শতাংশ শুল্ক কমাতে বহুমুখী পদক্ষেপ নিচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন বাংলাদেশ সরকার। এর অংশ হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চিঠি লিখবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। রোববার অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠক শেষে প্রেস সচিব শফিকুল আলম এই তথ্য জানান।

দ্রুত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে টানা বৈঠক

গত বুধবার মধ্যরাতে যুক্তরাষ্ট্র বাড়তি শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিলে, প্রধান উপদেষ্টা সংশ্লিষ্ট মহলকে অবিলম্বে করণীয় নির্ধারণের নির্দেশ দেন। গত চার দিন ধরে সরকারি ও বেসরকারি অংশগ্রহণে একাধিক বৈঠকের মাধ্যমে চূড়ান্ত সুপারিশ তৈরি করা হয়। এরপরই সরকার চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

দুটি চিঠির মাধ্যমে মার্কিন প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ

সরকার আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দুটি গুরুত্বপূর্ণ চিঠি পাঠাবে। এর মধ্যে একটি পাঠাবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস, যা পৌঁছাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হাতে। অপর চিঠিটি বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন পাঠাবেন ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেনটেটিভ (USTR) দপ্তরে। এই চিঠিতে বাংলাদেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগের সুবিধা বৃদ্ধির পরিকল্পনা ও মার্কিন পণ্যের আমদানি সহজীকরণের পদক্ষেপ তুলে ধরা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণে ঐক্যমত

বৈঠকে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ানোর বিষয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়েছে। বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবা আমদানি বাড়ানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত পণ্যে শুল্কহার যৌক্তিকভাবে হ্রাস করা হবে। ট্যারিফ ও নন-ট্যারিফ বাধা দূর করতেও সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেবে।

উচ্চপর্যায়ের উপস্থিতি ও প্রতিশ্রুতি

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান, প্রধান উপদেষ্টার হাই রিপ্রেজেনটেটিভ ড. খলিলুর রহমান, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি রুবানা হক, ফারুক হাসান, সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, বিকেএমইএ সভাপতি মো. হাতেমসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি প্রতিনিধি। সবাই সরকারের পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

সময় চাওয়া ও অবকাঠামোগত পরিকল্পনা

শনিবার আরও একটি আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কনীতি কার্যকর হতে ৩ থেকে ৬ মাস অতিরিক্ত সময় চাওয়ার সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা আমদানির জন্য দ্রুত ওয়্যারহাউস নির্মাণের প্রস্তাবও আলোচনায় আসে।

অন্যান্য কৌশলগত পদক্ষেপ

অন্য সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে তুলাসহ বিভিন্ন মার্কিন পণ্য ও সেবার আমদানি বৃদ্ধি, যুক্তরাষ্ট্রে চিঠি চালাচালি ও টেলিসংলাপ অব্যাহত রাখা এবং টিকফা ফোরামে বাংলাদেশ যেন সক্রিয় অংশগ্রহণ করতে পারে, সে প্রস্তুতি নেওয়া।

বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা ও আহ্বান

ট্রেড বিশেষজ্ঞ ড. এম এ রাজ্জাক শঙ্কা প্রকাশ করেন, অতিরিক্ত শুল্কের ফলে বাংলাদেশের গার্মেন্টস খাত হুমকির মুখে পড়তে পারে। বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, তুলা আমদানির পরিমাণ তিন-চার গুণ বাড়ালে বাণিজ্য ঘাটতি কমবে, তবে অবকাঠামো দ্রুত প্রস্তুত করা জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে চিঠি দ্রুত পাঠানোর আহ্বান

পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান মাসরুর রিয়াজ সরকারকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা শুরু করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, অনুমান নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বাস্তব চাহিদা বুঝে কৌশল নির্ধারণ করতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ

যুক্তরাষ্ট্রে শুল্ক ইস্যুতে আলোচনার জন্য সরকার মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসনের সঙ্গে বৈঠক করেছে। বৈঠকে বাংলাদেশ স্পষ্ট করেছে, যুক্তরাষ্ট্র যে মানদণ্ডে শুল্ক আরোপ করছে, তা দেশটির বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।