বিয়ে করতে গিয়ে ৫ লাখ টাকা জরিমানা দিলেন ছাত্রদল নেতা
- আপডেট সময় : ০৭:৫৩:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
- / 52
প্রথম বিয়ের খবর সম্পূর্ণ গোপন রেখে ধুমধাম করে দ্বিতীয় বিয়ে করতে গিয়েছিলেন এক ছাত্রদল নেতা। কিন্তু বিয়ের মণ্ডপেই ফাঁস হয়ে গেল তাঁর প্রথম বিয়ের গোপন কীর্তি! এতে চরম ক্ষিপ্ত হয়ে বরযাত্রীসহ বরকে আটকে রেখে গণধোলাই দেয় কনেপক্ষ। শেষ পর্যন্ত নগদ ৫ লাখ টাকা জরিমানা ও মুচলেকা দিয়ে কোনোমতে রক্ষা পান ওই নেতা। তবে জরিমানা দিয়ে ফিরেই ক্ষোভে প্রথম স্ত্রীর বাড়িতে সসৈন্যে বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছেন তিনি। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার সোনাকান্দা গ্রামে।
ঘটনার নায়ক সাব্বির আহমেদ সাদান নেত্রকোনার মদন উপজেলার তিয়শ্রী ইউনিয়নের ছাত্রদলের বর্তমান সভাপতি এবং মদন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আসাদুজ্জামান আজাদের ছেলে।
বিয়ের মণ্ডপেই বাজিমাত, অতঃপর গণধোলাই:
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ছাত্রদল নেতা সাব্বির আহমেদ সাদান গত ২০২২ সালে প্রতিবেশী ধনাই মিয়ার মেয়ে আয়মনা আক্তারকে গোপনে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে তাঁরা লোকচক্ষুর আড়ালে গোপনে সংসার করে আসছিলেন। কিন্তু প্রথম বিয়ের বিষয়টি সম্পূর্ণ চেপে গিয়ে সাদান নতুন করে বিয়ের পিঁড়িতে বসার পরিকল্পনা করেন। সেই অনুযায়ী, উপজেলার পাইকুরা ইউনিয়নের কৃষকদলের সভাপতি শাজাহান মিয়ার মেয়ের সঙ্গে তাঁর বিয়ে ঠিক হয়।
গত শুক্রবার রাতে বিপুল বরযাত্রী নিয়ে মহাসমারোহে কনের বাড়ি সোনাকান্দা গ্রামে হাজির হন বর সাদান। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা যখন প্রায় শেষ পর্যায়ে, ঠিক তখনই গোপন সূত্রে খবর পেয়ে প্রথম স্ত্রীর বাবা ধনাই মিয়া কনেপক্ষকে সাদানের আগের বিয়ের সব প্রমাণসহ বিষয়টি জানিয়ে দেন। এই প্রতারণার খবর শোনামাত্রই কনেপক্ষের লোকজন ও স্থানীয় জনতা চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তাঁরা বর সাদানসহ বরযাত্রীদের একটি ঘরে আটকে রেখে উত্তম-মধ্যম (মারধর) দেন। পরবর্তীতে রাতেই কনেপক্ষের মুরুব্বিরা দফায় দফায় সালিশ বৈঠক শেষে ৫ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করে ওই ছাত্রদল নেতাকে ছেড়ে দেন।
জরিমানা দিয়ে ফিরেই প্রথম স্ত্রীর বাড়িতে তান্ডব, আহত ১:
কনেপক্ষের হাত থেকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা দিয়ে মুক্ত হয়েই চরম প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠেন ছাত্রদল নেতা সাদান ও তাঁর পরিবার। শনিবার সকালে সাদান ও তাঁর বাবার ক্যাডার বাহিনী লাঠিসোঁটা নিয়ে প্রথম স্ত্রী আয়মনা আক্তারের বাপের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে এবং আয়মনার বড় বোন সুমনা আক্তারকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে স্থানীয়রা সুমনাকে উদ্ধার করে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
হামলার মুখে নিরুপায় হয়ে আয়মনার পরিবার জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’ নম্বরে কল দিলে মদন থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
নেতাদের মুখে কুলুপ ও পুলিশের বক্তব্য:
এই বিষয়ে কনের বাবা ও ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি শাহাজান মিয়া বলেন, “ছেলে যে আগে বিয়ে করেছে তা আমাদের জানা ছিল না। জেনেশুনে তো আর কোনো বাবা তাঁর মেয়েকে বিবাহিত ছেলের হাতে তুলে দিতে পারে না।” তবে ৫ লাখ টাকা জরিমানা আদায়ের বিষয়টি তিনি কৌশলে এড়িয়ে যান। অন্যদিকে বরের বাবা বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান আজাদ বলেন, “আমার ছেলে আগে একটা বিয়ে করেছে সেটা আমাদের জানা ছিল না। আগে জানলে তো আর এই ৫ লাখ টাকা জরিমানা দিতে হতো না।”
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) অসীম কুমার দাস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “৯৯৯ নম্বরে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছে। বিয়ে সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে এক নারীকে মারধর করার ঘটনা ঘটেছে। এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”



















