ঢাকা ০৩:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরান সরকারকে উৎখাতের ছক: কুর্দিদের অস্ত্র দিচ্ছে সিআইএ

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৪:১৫:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬
  • / 246

ইরানের বর্তমান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে এক ভয়াবহ ও চাঞ্চল্যকর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ (CIA)। সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন (CNN)-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরানের অভ্যন্তরে বড় ধরনের গণঅভ্যুত্থান ঘটানোর লক্ষ্যে কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত করছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প প্রশাসন ইতিমধ্যে ইরাকে অবস্থানরত কুর্দি নেতাদের সঙ্গে এ নিয়ে দফায় দফায় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

অস্থিতিশীল করার মিশন:

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য হলো ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় কুর্দি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে বড় ধরনের অস্থিতিশীলতা তৈরি করা। সিআইএ কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র দেওয়ার মাধ্যমে ইরানের ভেতরে একটি ‘ছায়া যুদ্ধ’ বা প্রক্সি ওয়ার শুরু করতে চায়। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অস্থিতিশীল নীতি নিয়ে খোদ কুর্দি নেতারাও শঙ্কার মধ্যে রয়েছেন। তারা বলছেন, ট্রাম্প একেক সময় একেক লক্ষ্য নিয়ে কথা বলেন, যা দীর্ঘমেয়াদে কুর্দিদের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে।

ইরানের কড়া হুঁশিয়ারি:

এদিকে কুর্দিদের সরাসরি হুমকি দিয়ে রেখেছে তেহরান। ইরান সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যদি কুর্দি গোষ্ঠীগুলো মার্কিন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে ইরানের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হানে, তবে তাদের বিরুদ্ধে ‘সর্বোচ্চ কঠোর’ সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঐতিহাসিক দ্বন্দ্বের প্রেক্ষাপট:

ইরান ও কুর্দি জনগণের মধ্যে দ্বন্দ্বের ইতিহাস দীর্ঘদিনের। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকেই স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে কুর্দিরা লড়াই করছে। বিশেষ করে ২০২২ সালে কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর ইরানে যে “নারী, জীবন, স্বাধীনতা” আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছিল, তার কেন্দ্রবিন্দু ছিল এই কুর্দি অঞ্চলগুলো। সিআইএ এখন সেই ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে ইরান সরকারকে চাপে ফেলতে একটি ‘বাফার জোন’ তৈরির চেষ্টা করছে।

পুরো মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আশঙ্কা:

ভূ-রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, সিআইএ-র এই গোপন মিশন সফল হোক বা না হোক, এর ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য একটি বিশাল সংঘাতের দিকে ধাবিত হতে পারে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের এই সরাসরি সংঘাত বিশ্বের জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক নিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলবে।

(তথ্যসূত্র: সিএনএন-এর নাতাশা বারট্রান্ড, অ্যালাইনা ট্রিন ও ক্লারিসা ওয়ার্ড-এর বিশেষ রিপোর্ট)

ইরান সরকারকে উৎখাতের ছক: কুর্দিদের অস্ত্র দিচ্ছে সিআইএ

আপডেট সময় : ০৪:১৫:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

ইরানের বর্তমান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে এক ভয়াবহ ও চাঞ্চল্যকর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ (CIA)। সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন (CNN)-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরানের অভ্যন্তরে বড় ধরনের গণঅভ্যুত্থান ঘটানোর লক্ষ্যে কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত করছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প প্রশাসন ইতিমধ্যে ইরাকে অবস্থানরত কুর্দি নেতাদের সঙ্গে এ নিয়ে দফায় দফায় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

অস্থিতিশীল করার মিশন:

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য হলো ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় কুর্দি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে বড় ধরনের অস্থিতিশীলতা তৈরি করা। সিআইএ কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র দেওয়ার মাধ্যমে ইরানের ভেতরে একটি ‘ছায়া যুদ্ধ’ বা প্রক্সি ওয়ার শুরু করতে চায়। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অস্থিতিশীল নীতি নিয়ে খোদ কুর্দি নেতারাও শঙ্কার মধ্যে রয়েছেন। তারা বলছেন, ট্রাম্প একেক সময় একেক লক্ষ্য নিয়ে কথা বলেন, যা দীর্ঘমেয়াদে কুর্দিদের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে।

ইরানের কড়া হুঁশিয়ারি:

এদিকে কুর্দিদের সরাসরি হুমকি দিয়ে রেখেছে তেহরান। ইরান সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যদি কুর্দি গোষ্ঠীগুলো মার্কিন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে ইরানের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হানে, তবে তাদের বিরুদ্ধে ‘সর্বোচ্চ কঠোর’ সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঐতিহাসিক দ্বন্দ্বের প্রেক্ষাপট:

ইরান ও কুর্দি জনগণের মধ্যে দ্বন্দ্বের ইতিহাস দীর্ঘদিনের। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকেই স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে কুর্দিরা লড়াই করছে। বিশেষ করে ২০২২ সালে কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর ইরানে যে “নারী, জীবন, স্বাধীনতা” আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছিল, তার কেন্দ্রবিন্দু ছিল এই কুর্দি অঞ্চলগুলো। সিআইএ এখন সেই ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে ইরান সরকারকে চাপে ফেলতে একটি ‘বাফার জোন’ তৈরির চেষ্টা করছে।

পুরো মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আশঙ্কা:

ভূ-রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, সিআইএ-র এই গোপন মিশন সফল হোক বা না হোক, এর ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য একটি বিশাল সংঘাতের দিকে ধাবিত হতে পারে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের এই সরাসরি সংঘাত বিশ্বের জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক নিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলবে।

(তথ্যসূত্র: সিএনএন-এর নাতাশা বারট্রান্ড, অ্যালাইনা ট্রিন ও ক্লারিসা ওয়ার্ড-এর বিশেষ রিপোর্ট)