অস্ত্রসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘কুত্তা ফারুক’ গ্রেপ্তার: বদলা নিতে এসেছিল ভাড়াটে খুনি
- আপডেট সময় : ১২:৪৪:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
- / 226
নামটাই তাঁর অপরাধ জগতের এক কুৎসিত সমীকরণ—‘কুত্তা ফারুক’। রাজধানীর বুকে মধ্যরাতের অন্ধকারকে পুঁজি করে যখন আরও একটি রক্তক্ষয়ী অধ্যায় লেখার নীল নকশা চূড়ান্ত হচ্ছিল, ঠিক তখনই হানা দিল পুলিশ। বুধবার (৮ জুলাই) মধ্যরাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের শেখেরটেক এলাকায় এক শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে এই শীর্ষ সন্ত্রাসীসহ ছিনতাই ও কিশোর গ্যাং চক্রের সাত সদস্যকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে আদাবর থানা পুলিশ। উদ্ধার হয়েছে চাপাতি, সামুরাইয়ের মতো হাড়হিম করা সব দেশীয় অস্ত্র। কিন্তু এই গ্রেপ্তারের খবরের সমান্তরালে আরও একবার সামনে চলে এলো ঢাকার বুক চিরে গজিয়ে ওঠা ‘কিশোর গ্যাং’ ও তাদের নেপথ্যের চেনা গডফাদারদের এক ভয়ঙ্কর সিন্ডিকেট।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শেখেরটেক ৭ নম্বর রোড ব্রিজ এলাকায় যখন এই দল চোর-ডাকাতদের আসর বসেছিল, তখনই চারিদিক থেকে ঘিরে ফেলে পুলিশ। গ্রেপ্তার করা হয় কুখ্যাত ‘ভাইস্তা বিল্লাল’ গ্রুপের এই সাত সদস্যকে।
পোল্ট্রি ফার্মে ডাকাতি বনাম পুলিশের সোর্সের ওপর বদলা
তদন্তে উঠে আসছে গা শিউরে ওঠার মতো চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। আদাবর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহেদুর রহমান জানান, অপরাধ সংঘটনের আগেই পুরো চক্রটিকে নিখুঁত ছকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। তবে এদের উদ্দেশ্য কেবল ছিনতাইয়ে সীমাবদ্ধ ছিল না।
জানা গেছে, একটি মুরগির খামারে বড়সড় ডাকাতির পরিকল্পনার পাশাপাশি এদের মূল লক্ষ্য ছিল পুলিশের ‘সোর্স’। গত ৩ মে এই গ্যাংয়ের মূল মাথা ‘ভাইস্তা বিল্লাল’ এবং ‘মউরা সোহেল’ পুলিশের জালে ধরা পড়ে। সেই গ্রেপ্তারের প্রতিশোধ নিতেই পুলিশের তথ্যদাতাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার ছক কষেছিল এই চক্র। আর এই অপারেশনের জন্য শুধু ঢাকা নয়, দূরবর্তী শরীয়তপুর ও মাদারীপুর থেকে রীতিমতো ভাড়াটে খুনি ও পেশাদার সন্ত্রাসী উড়িয়ে আনা হয়েছিল রাজধানীতে!
খাঁচায় বন্দি বাঘ, নাকি জামিনের চেনা সরণি? স্থানীয়দের আক্ষেপ
‘কুত্তা ফারুক’দের গ্রেপ্তারের খবর চাদরের মতো ছড়িয়ে পড়তেই মাঝরাতেই ঘটনাস্থলে ভিড় জমান মোহাম্মদপুরের তটস্থ সাধারণ বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীরা। একের পর এক ছিনতাই, রাহাজানি আর কোপানির গল্প বলতে বলতে অনেকের চোখেই তখন আতঙ্কের জল। তবে এই উল্লাসের মাঝেও একটা চাবুকের মতো আক্ষেপ তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে স্থানীয়দের। তাঁদের অভিযোগ—
“পুলিশ আজ ধরছে, বুক ফুলিয়ে নিয়ে যাচ্ছে ভালো কথা। কিন্তু আদালতের ফাঁকফোকর গলে কিছুদিন পরেই এরা জামিনে বেরিয়ে আসবে। বুক চিতিয়ে আবার এই এলাকাতেই ঘুরবে, আবার আমাদের ওপরই কোপ বসাবে। এই চেনা বৃত্তের শেষ কোথায়?”
অপরাধের এই অন্তহীন অন্ধকার মুছবে কিসে?
প্রথম আলোর সেই গভীর সমাজ-বিশ্লেষণের চোখ দিয়ে যদি দেখা যায়, তবে স্পষ্ট হয় যে ঢাকার বিভিন্ন প্রান্তে এই ‘কিশোর গ্যাং’ বা ‘ভাইস্তা বিল্লাল’ গ্রুপগুলো রাতারাতি তৈরি হয়নি। এর পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক আশ্রয় আর মাদকের কালো টাকা। আর আনন্দবাজারের ক্ষুরধার চাবুক প্রশ্ন তোলে—মাদারীপুর-শরীয়তপুর থেকে যখন রাজধানীতে অনায়াসে ভাড়াটে খুনিরা এসে ডেরা বাঁধে, তখন শহরের আইন-শৃঙ্খলার নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তার দাবি কতটা ফাঁপা? ‘কুত্তা ফারুক’রা আজ খাঁচায় বন্দি ঠিকই, কিন্তু যে বিচারহীনতা আর জামিন-সংস্কৃতি এদের বারবার অভয় দিয়ে মাঠে নামায়, সেই বিষদাঁত উপড়াবে কে? শেখেরটেকের ব্রিজ আজ শান্ত হতে পারে, কিন্তু মোহাম্মদপুরের রাতের ঘুম কি সত্যিই ফিরল?



















