ফরিদপুর-৩ আসনে গুলিবিদ্ধ ইছা: জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকার রহস্য কী?
- আপডেট সময় : ০৭:৩৫:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৫
- / 3103
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে আলোচনায় শীর্ষে রয়েছেন ফরিদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এডভোকেট সৈয়দ মোদারেস আলী ইছা। দলের একজন ত্যাগী ও পরীক্ষিত সংগঠক হিসেবে দীর্ঘ ৪৬ বছরের সংগ্রামী রাজনৈতিক জীবন তাঁকে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায় এগিয়ে রেখেছে।
জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা মরহুম এডভোকেট সৈয়দ মোসারফ আলীর পুত্র সৈয়দ মোদারেস আলী ইছা, দলের তৃণমূল নেতাকর্মী ও ফরিদপুরবাসীর কাছে এক সুপরিচিত মুখ, যার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা অন্য নেতাদের চেয়ে শীর্ষে বলে জানা যায়।
বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন (৪৬ বছর)
এডভোকেট সৈয়দ মোদারেস আলী ইছার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়েছিল ছাত্রদল গঠনের মাধ্যমে, এরপর তিনি দীর্ঘ সময় ধরে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
সাল পদবি
১৯৭৯ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, ফরিদপুর জেলা শাখার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।
১৯৮১ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য।
১৯৮৪ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালীন বৃহত্তর ফরিদপুর জেলা ছাত্র কল্যাণ সমিতির সভাপতি।
১৯৮৬ ফরিদপুর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক।
১৯৮৮ – ২০১৯ একটানা ৩১ বছর ফরিদপুর জেলা বিএনপির নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক।
২০০৯ – চলমান বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য।
বর্তমানে ফরিদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক।
সংগ্রামী ও পরীক্ষিত নেতা
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বহু প্রতিকূলতা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ফরিদপুরের রাজনীতির চরম দুঃসময়ে তিনি ছিলেন দলের নিবেদিত প্রাণ।
নির্যাতন ও মামলা: তাঁর ৪৬ বছরের রাজনৈতিক জীবনে এরশাদ বিরোধী আন্দোলন এবং স্বৈরাচারী শাসনামলে তিনি অসংখ্য মামলা ও কারাবরণের শিকার হন।
গুলিবিদ্ধ ও হামলার শিকার: ১৯৯৬ সালের স্বৈরাচারী শাসনামলে তিনি রাজপথে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। এছাড়াও সাবেক এলজিইডি মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ক্ষমতা থাকাকালীন যুবলীগ ও ছাত্রলীগের হেলমেট বাহিনী দ্বারা তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে একাধিকবার রক্তাক্ত ও জখম করা হয়েছিল।
বর্তমান অবস্থান: বিগত এক দশকেরও বেশি সময়ের প্রতিকূল পরিস্থিতিতে তিনি বহু মিথ্যা মামলা ও হামলার শিকার হয়েছেন এবং বর্তমানেও একাধিক মামলার আসামি।
তৃণমূলের আস্থা ও প্রত্যাশা
তৃণমূলের কর্মীরা মনে করেন, সৈয়দ মোদারেস আলী ইছা কেবল একজন নিবেদিতপ্রাণ সংগঠকই নন, তিনি একটি জনপ্রিয় পরিবারের ঐতিহ্যকে একসূত্রে গাঁথতে পারবেন।
পুনরুদ্ধারের আশা: নেতাকর্মীরা আশা করছেন, বাবার জনপ্রিয়তার বিশাল ভিত্তি এবং সৈয়দ মোদারেস আলী ইছার নিজস্ব সাংগঠনিক দক্ষতার সমন্বয়ে এই মর্যাদাপূর্ণ আসনটি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে।
অগ্রণী ভূমিকা: দলের গত এক দশকের প্রতিকূল পরিস্থিতিতে, রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন এবং ফরিদপুর বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের তৃণমূল নেতাকর্মীদের সংগঠিত রাখতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।
স্থানীয় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ফরিদপুর-৩ আসনে এডভোকেট সৈয়দ মোদারেস আলী ইছার মনোনয়ন নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী। দলটি তাঁর ওপর আস্থা রাখছে বলে জানা যাচ্ছে।





















