ফরিদপুর সদর-৩ আসনের সাবেক স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য এ কে আজাদের এক সমর্থকের বাড়িতে হামলা চালিয়ে দুটি মোটরসাইকেল ও নগদ অর্থ লুটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে। হামলার ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি কর্মীদের জড়িত থাকার কথা জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
আজ রোববার দুপুরে ফরিদপুর সদর উপজেলার ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের চানপুর জটার ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
হামলা ও হুমকির বিবরণ
হামলার শিকার হয়েছেন বাড়ির মালিক রাইসুল শেখ জিয়া এবং তাঁর ব্যবসায়িক অংশীদার ইলিয়াস শেখ, যিনি এ কে আজাদের সমর্থক হিসেবে পরিচিত।
ইলিয়াস শেখের বক্তব্য: মালটা ব্যবসায়ী ইলিয়াস শেখ বলেন, দুপুর আড়াইটার দিকে রাইসুল শেখ জিয়ার বাড়িতে তাঁরা মালটা মাপার কাজ করছিলেন। সে সময় প্রথমে ৩-৪ জন লোক এসে অতর্কিতে হামলা চালায় এবং গালিগালাজ করে। তারা এ কে আজাদের রাজনীতি করলে মজা দেখিয়ে দিবে বলেও শাসায়। এরপর আরও ১০-১২ জন লোক লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এসে বাড়িতে লুটপাট করে।
জিয়ার অভিযোগ: বাড়ির মালিক রাইসুল শেখ জিয়া জানান, হামলাকারীরা দুটি মোটরসাইকেল এবং নগদ ৩০ হাজার টাকা লুটে নিয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা এ কে আজাদকে গালিগালাজ করেছে এবং তাঁর মিটিং-মিছিল করলে এর পরিণতি দেখিয়ে দেবে বলে হুমকি দিয়েছে।
হামলাকারীর পরিচয়: ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হামলাকারীরা স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।
বিএনপি নেতার পাল্টা দাবি: ‘লুটের ঘটনা ঘটেনি, উসকানি দিয়েছে তারাই’
তবে হামলা বা মোটরসাইকেল লুটের ঘটনা অস্বীকার করেছেন ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা নুরুজ্জামান চৌধুরী পংকজ।
পংকজের দাবি: পঙ্কজ বলেন, তিনি ওই বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় চেয়ার নিয়ে বসা কিছু লোক উসকানিমূলক কথা বললে দু’পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়, কোনো হামলা বা লুটপাট হয়নি।
পাল্টা অভিযোগ: পঙ্কজ পাল্টা অভিযোগ করেন, জিয়া ও ইলিয়াসসহ অন্যরা ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা শহিদুল ইসলাম মজনুর লোক এবং তাঁরা বহিরাগত লোক নিয়ে এলাকায় মহড়া দেন।
পুলিশের তৎপরতা
এ বিষয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদউজ্জামান বলেন, তিনি অফিসের কাজে ফরিদপুরের বাইরে থাকলেও হামলার ঘটনা জানার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছিলেন। তিনি নিশ্চিত করেন, “এ ব্যাপারে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অপরাধী যারাই হোক তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”