ফরিদপুরে রবিউল হত্যা মামলার মারুফ শেখ গ্রেফতার
- আপডেট সময় : ০৭:০৬:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 207
গ্রামের মোড়ে মোড়ে আধিপত্য বিস্তারের যে বিষাক্ত রাজনীতি, তার চূড়ান্ত মাশুল দিতে হলো এক সাধারণ চা-দোকানিকে! তিন মাস আগে যে পরিবারের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছিল, ঠিক সেই একই বিরোধের জেরে এবার প্রাণ দিতে হলো তাঁর আপন চাচাকেও। ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় বহুল আলোচিত চা-দোকানি রবিউল শেখ ওরফে পাইচো হত্যা মামলার ১৫ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি মারুফ শেখকে (৫৫) অবশেষে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তাঁকে ফরিদপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে শনিবার গভীর রাতে যশোরের কোতোয়ালি থানা এলাকায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এক ঝটিকা অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করে আলফাডাঙ্গা থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃত মারুফ শেখ আলফাডাঙ্গা উপজেলার বড়ভাগ গ্রামের মৃত জান্নাত শেখের ছেলে।
মালা স্কুলের পাশে অতর্কিত কোপ, দোকান বন্ধ করে ফেরার পথেই নিভে গেল প্রাণ
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত রবিউল শেখ গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা সদর বাজারে চা বিক্রি করে সংসার চালাতেন। গত ১২ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে প্রতিদিনের মতো দোকান বন্ধ করে বন্ধুদের সঙ্গে মোটরসাইকেল যোগে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। কাশিয়ানী-আলফাডাঙ্গা সড়কের মালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উত্তর পাশে পৌঁছানো মাত্রই ওত পেতে থাকা একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত তাঁদের গতিপথ রোধ করে।
সাবেক ইউপি সদস্য কুদ্দুস শেখের ছেলে হোসাইন শেখের নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি দল ধারালো রামদা ও অস্ত্র নিয়ে রবিউলের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ঘটনাস্থলেই রবিউলকে হত্যা করা হয় এবং তাঁর সঙ্গে থাকা অন্য তিন বন্ধুকে গুরুতর জখম করা হয়। এই নৃসংস ঘটনার দুই দিন পর নিহতের ভাতিজা নাজমুল শেখ বাদী হয়ে ২৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০-২৫ জনকে আসামি করে আলফাডাঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
সুমন খুনের জামিনে ফিরেই আবার রক্তপাত! অস্থিতিশীল বড়ভাগ গ্রাম
স্থানীয় অধিবাসীদের তথ্যমতে, আলফাডাঙ্গার বড়ভাগ গ্রামে দলগত আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুটি পক্ষের মধ্যে বহু বছরের পুরনো বিরোধ ও শত্রুতা চলে আসছে। এই রক্তক্ষয়ী বিরোধের জের ধরে গত ২৬ জুন একই গ্রামের সুমন শেখ (৩০) নামের এক তরুণকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নিহত রবিউল শেখ ছিলেন এই সুমন শেখের আপন চাচা।
অভিযোগ রয়েছে, সুমন হত্যা মামলার আসামিরা উচ্চ আদালত থেকে সাত সপ্তাহের জামিন পেয়ে এলাকায় ফেরার কয়েক দিনের মধ্যেই এই নতুন হত্যাকাণ্ডের ছক আঁকে এবং রবিউলকে কুপিয়ে হত্যা করে।
আইনি অগ্রগতির বিষয়ে আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল সারোয়ার জানান—
“তথ্যপ্রযুক্তির আধুনিক সহায়তায় রবিউল শেখ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ১৫ নম্বর আসামি মারুফ শেখকে যশোর থেকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতার করতে পুলিশের একাধিক দল সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।”











