ওসিসহ পুলিশকে পিটিয়ে রণক্ষেত্র ফরিদপুর: ৭০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ১০
- আপডেট সময় : ০৭:১১:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
- / 345
বাসস্ট্যান্ডের দখল আর আধিপত্যের লড়াই ঘিরে যেন দক্ষযজ্ঞ কাণ্ড ঘটে গেল ফরিদপুরের ভাঙ্গায়! দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘাত থামাতে গিয়ে উল্টো উন্মত্ত জনতার রোষের মুখে পড়তে হলো পুলিশ প্রশাসনকে। সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটিয়েও যখন পরিস্থিতি বাগে আনা যাচ্ছিল না, তখন খোদ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও ওসিসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য রক্তাক্ত হলেন দাঙ্গাবাজদের ইটের আঘাতে। মহাসড়কে চার ঘণ্টার স্তব্ধতার পর, এবার আইনি খাঁড়া নেমে এল হামলাকারীদের ওপর। পুলিশের ওপর বর্বরোচিত হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ২৫০ জনের নাম উল্লেখসহ প্রায় ৭০০ জনের বিরুদ্ধে দায়ের হলো মামলা।
সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে ভাঙ্গা থানার আহত উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আসাদ শেখ বাদী হয়ে এই বিশাল মামলাটি দায়ের করেন। ইতিমধ্যেই রাতভর সাড়াশী অভিযান চালিয়ে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বাসস্ট্যান্ডের দখল ও ‘মাদকবিরোধী কমিটি’ ঘিরে সংঘাতের আগুন:
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পুখুরিয়া বাসস্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ, এলাকার একাধিপত্য এবং একটি মাদকবিরোধী কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে হামিরদী ইউনিয়নের মহেশ্বরদী মৌজার ১১ গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে মানিকদহ ইউনিয়নের পুখুরিয়া মৌজার ৫ গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। সেই পুরোনো আক্রোশের আগুনটাই দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে রবিবার সকালে। দু’পক্ষের হাজারো মানুষ লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে মহাসড়কে আছড়ে পড়ে। শুরু হয় দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া আর মুহুর্মুহু ইটবৃষ্টি।
র রক্তাক্ত পুলিশ ও সাংবাদিক, স্তব্ধ মহাসড়ক:
রণক্ষেত্রের খবর পেয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে ছুটে যান ভাঙ্গা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজওয়ান দীপু এবং ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান। কিন্তু উন্মত্ত জনতা পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি ইট ছুড়তে শুরু করে। এতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ওসিসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মী, উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন সেলিম এবং কর্তব্যরত সাংবাদিকসহ অন্তত অর্ধশতাধিক মানুষ গুরুতর আহত হন।
এই তাণ্ডবের জেরে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে দীর্ঘ চার ঘণ্টা চাকা ঘোরেনি কোনো গাড়ির। রাস্তার দু’পাশে মাইলের পর মাইল আটকে পড়ে শত শত যানবাহন, তীব্র গরমে চরম ভোগান্তিতে পড়েন হাজারো যাত্রী। পরে জেলা সদর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ এসে সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার শেল ফাটিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
ভিডিও ফুটেজ দেখে আসামিদের খোঁজ, থমথমে এলাকা:
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান রণক্ষেত্রের বিবরণ দিয়ে জানান, “দাঙ্গা ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ২৫০ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। সংঘর্ষের সময়ের ভিডিও ফুটেজ এবং সিসিটিভি ক্যামেরা স্ক্যান করে দাঙ্গাবাজদের শনাক্ত করা হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, ইতিমধ্যেই এই মামলায় ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের ধরতে পুলিশের বিশেষ টিম বিভিন্ন গ্রামে সাড়াশী অভিযান চালাচ্ছে। নতুন করে যাতে আর কোনো রক্তের খেলা না ওড়ে, তার জন্য পুরো পুখুরিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ভারী পুলিশ মোতায়েত রাখা হয়েছে। গোটা এলাকায় এখন থমথমে পরিস্থিতি।



















