ঢাকা ১০:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে ঘুমন্ত স্বামীর গোপনাঙ্গ কাটলেন স্ত্রী

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১০:৫১:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
  • / 446

ভোরবেলা তখনো কাটেনি ঘুমের ঘোর। আর সেই সুযোগেই চলল চরম ও নৃশংস প্রতিশোধের পালা! পারিবারিক বিবাদের জেরে ঘুমন্ত স্বামীর গোপনাঙ্গ কেটে নেওয়ার এক হাড়হিম করা অভিযোগ উঠল খোদ স্ত্রীর বিরুদ্ধে। সোমবার (২৯ জুন) সকালে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পৌরসভার হোগলাডাঙ্গী সদরদী গ্রামের এক ভাড়া বাড়িতে এই রোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটেছে। ধারালো অস্ত্রের কোপে রক্তাক্ত ও মুমূর্ষু অবস্থায় ওই যুবককে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এই নৃশংস কাণ্ডের পর পরই ক্ষুব্ধ প্রতিবেশীরা অভিযুক্ত স্ত্রীকে ঘরে আটকে রেখে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে।

দেড় মাসের সংসারেই অশান্তির আগুন, অতঃপর নৃশংসতা:

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জখম যুবকের নাম হানিফ শেখ (২২)। পেশায় ব্যবসায়ী হানিফ উপজেলার পুখুরিয়া এলাকার রফিক শেখের ছেলে। মাস দেড়েক আগে স্ত্রী সুমাইয়া আক্তারকে (২২) নিয়ে ভাঙ্গা পৌরসভার হোগলাডাঙ্গী সদরদী গ্রামের একটি বাড়িতে ভাড়াটে হিসেবে থাকতে শুরু করেন তিনি। কিন্তু সংসার পাতার পর থেকেই দিনরাত দু’জনের মধ্যে লেগে থাকত তুমুল অশান্তি ও পারিবারিক কলহ।

প্রতিবেশীরা জানান, রবিবার রাতেও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে চরম বাগ্‌বিতণ্ডা ও ঝগড়াঝাঁটি হয়েছিল। সেই ক্ষোভ মনে পুষে রেখেই সোমবার ভোরে এক মারাত্মক ছক কষেন সুমাইয়া। স্বামী তখনো গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। ঠিক সেই মোক্ষম সময়ে আচমকাই ধারালো অস্ত্র দিয়ে হানিফের ওপর চড়াও হন তাঁর স্ত্রী।

চিৎকার শুনে ছুটে এলেন প্রতিবেশীরা, আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে স্বামী:

হানিফের বুকফাটা আর্তনাদ ও চিৎকার শুনে সাতসকালে ছুটে আসেন আশপাশের বাড়ির লোকজন। ঘরের দরজা খুলে রক্তগঙ্গা কাণ্ড দেখে শিউরে ওঠেন সবাই। ছটফট করতে থাকা হানিফকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু রক্তক্ষরণ বন্ধ না হওয়ায় এবং অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় চিকিৎসকেরা তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেন।

অভিযুক্ত স্ত্রী এখন শ্রীঘরে:

এদিকে ঘটনার নৃশংসতা দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। পালাবার আগেই অভিযুক্ত সুমাইয়া আক্তারকে ধরে ঘরের মধ্যে আটকে রাখেন তাঁরা। খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উন্মত্ত জনতার হাত থেকে সুমাইয়াকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়া মাত্রই অভিযুক্ত নারীকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। এই বর্বরোচিত ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে আইনি প্রক্রিয়া ও তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

ফরিদপুরে ঘুমন্ত স্বামীর গোপনাঙ্গ কাটলেন স্ত্রী

আপডেট সময় : ১০:৫১:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

ভোরবেলা তখনো কাটেনি ঘুমের ঘোর। আর সেই সুযোগেই চলল চরম ও নৃশংস প্রতিশোধের পালা! পারিবারিক বিবাদের জেরে ঘুমন্ত স্বামীর গোপনাঙ্গ কেটে নেওয়ার এক হাড়হিম করা অভিযোগ উঠল খোদ স্ত্রীর বিরুদ্ধে। সোমবার (২৯ জুন) সকালে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পৌরসভার হোগলাডাঙ্গী সদরদী গ্রামের এক ভাড়া বাড়িতে এই রোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটেছে। ধারালো অস্ত্রের কোপে রক্তাক্ত ও মুমূর্ষু অবস্থায় ওই যুবককে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এই নৃশংস কাণ্ডের পর পরই ক্ষুব্ধ প্রতিবেশীরা অভিযুক্ত স্ত্রীকে ঘরে আটকে রেখে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে।

দেড় মাসের সংসারেই অশান্তির আগুন, অতঃপর নৃশংসতা:

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জখম যুবকের নাম হানিফ শেখ (২২)। পেশায় ব্যবসায়ী হানিফ উপজেলার পুখুরিয়া এলাকার রফিক শেখের ছেলে। মাস দেড়েক আগে স্ত্রী সুমাইয়া আক্তারকে (২২) নিয়ে ভাঙ্গা পৌরসভার হোগলাডাঙ্গী সদরদী গ্রামের একটি বাড়িতে ভাড়াটে হিসেবে থাকতে শুরু করেন তিনি। কিন্তু সংসার পাতার পর থেকেই দিনরাত দু’জনের মধ্যে লেগে থাকত তুমুল অশান্তি ও পারিবারিক কলহ।

প্রতিবেশীরা জানান, রবিবার রাতেও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে চরম বাগ্‌বিতণ্ডা ও ঝগড়াঝাঁটি হয়েছিল। সেই ক্ষোভ মনে পুষে রেখেই সোমবার ভোরে এক মারাত্মক ছক কষেন সুমাইয়া। স্বামী তখনো গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। ঠিক সেই মোক্ষম সময়ে আচমকাই ধারালো অস্ত্র দিয়ে হানিফের ওপর চড়াও হন তাঁর স্ত্রী।

চিৎকার শুনে ছুটে এলেন প্রতিবেশীরা, আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে স্বামী:

হানিফের বুকফাটা আর্তনাদ ও চিৎকার শুনে সাতসকালে ছুটে আসেন আশপাশের বাড়ির লোকজন। ঘরের দরজা খুলে রক্তগঙ্গা কাণ্ড দেখে শিউরে ওঠেন সবাই। ছটফট করতে থাকা হানিফকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু রক্তক্ষরণ বন্ধ না হওয়ায় এবং অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় চিকিৎসকেরা তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেন।

অভিযুক্ত স্ত্রী এখন শ্রীঘরে:

এদিকে ঘটনার নৃশংসতা দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। পালাবার আগেই অভিযুক্ত সুমাইয়া আক্তারকে ধরে ঘরের মধ্যে আটকে রাখেন তাঁরা। খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উন্মত্ত জনতার হাত থেকে সুমাইয়াকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়া মাত্রই অভিযুক্ত নারীকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। এই বর্বরোচিত ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে আইনি প্রক্রিয়া ও তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।