ঢাকা ০১:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৮টি ইজিবাইকসহ ফরিদপুরে আন্তঃজেলা চোরচক্রের ১২ সদস্য গ্রেফতার

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৪:২১:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 447

ফরিদপুরে সক্রিয় একটি সংঘবদ্ধ আন্তঃজেলা ইজিবাইক চোরচক্রের মূল রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। অভিনব কায়দায় ইজিবাইক চুরি করে তার যন্ত্রাংশ আলাদা করে নতুনভাবে জোড়া লাগিয়ে বিক্রি করত এই চক্রটি। পুলিশের বিশেষ অভিযানে চক্রের ১২ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং উদ্ধার করা হয়েছে ১৮টি ইজিবাইকসহ বিপুল পরিমাণ খণ্ডিত যন্ত্রাংশ।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের তথ্য:

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর আড়াইটায় ফরিদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার (এসপি) মো. নজরুল ইসলাম। তিনি জানান, একটি চুরির মামলার সূত্র ধরে তদন্ত করতে গিয়ে এই বিশাল চক্রের সন্ধান পায় পুলিশ। অভিযানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলাম, মো. রায়হান গফুর ও আজমীর হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

চুরির কায়দা ও চক্রের কর্মকাণ্ড:

পুলিশ জানায়, চক্রটি অত্যন্ত কৌশলী। তারা ইজিবাইক চুরি করার পর গোপন গ্যারেজে নিয়ে সেগুলোকে টুকরো টুকরো করে কাটত। এরপর একটির বডির সাথে অন্যটির চ্যাসিস বা গ্লাস জোড়া লাগিয়ে সম্পূর্ণ নতুন চেহারা দিত। এমনকি ইঞ্জিন ও চ্যাসিস নম্বর পরিবর্তন করে ভুয়া কাগজপত্র ও সিলমোহর ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের কাছে কম দামে বিক্রি করত।

যেভাবে ধরা পড়ল চক্রটি:

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি শহরের কোর্টপাড় জামে মসজিদের সামনে থেকে জাহিদুল ইসলাম নামে এক চালকের ইজিবাইক চুরি হয়। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রথমে আলাল ফকির (২৫) নামে একজনকে আটক করে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফরিদপুর, শরীয়তপুর, মাগুরা ও জামালপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোজাম্মেল, ইলিয়াস, আবুল হোসেনসহ মোট ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

উদ্ধার হওয়া মালামাল:

অভিযানে ১৮টি ইজিবাইক (১২টি সচল, ৬টি অচল) ছাড়াও ৪টি চ্যাসিস, ৭টি গ্লাস ফ্রেম, ৫ ট্রাক পরিমাণ খণ্ডিত যন্ত্রাংশ এবং ইজিবাইক কাটার মেশিন উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত একটি ইজিবাইক ২০২৫ সালের একটি মামলার চোরাই মাল বলে শনাক্ত করা হয়েছে।

পুলিশের সতর্কবার্তা:

পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করে আসছিল। চক্রের বাকি সদস্যদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।” একইসাথে তিনি সাধারণ মানুষকে অস্বাভাবিক কম দামে ইজিবাইক কেনা থেকে বিরত থাকতে এবং বৈধ কাগজপত্র যাচাই করার পরামর্শ দেন।

১৮টি ইজিবাইকসহ ফরিদপুরে আন্তঃজেলা চোরচক্রের ১২ সদস্য গ্রেফতার

আপডেট সময় : ০৪:২১:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ফরিদপুরে সক্রিয় একটি সংঘবদ্ধ আন্তঃজেলা ইজিবাইক চোরচক্রের মূল রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। অভিনব কায়দায় ইজিবাইক চুরি করে তার যন্ত্রাংশ আলাদা করে নতুনভাবে জোড়া লাগিয়ে বিক্রি করত এই চক্রটি। পুলিশের বিশেষ অভিযানে চক্রের ১২ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং উদ্ধার করা হয়েছে ১৮টি ইজিবাইকসহ বিপুল পরিমাণ খণ্ডিত যন্ত্রাংশ।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের তথ্য:

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর আড়াইটায় ফরিদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার (এসপি) মো. নজরুল ইসলাম। তিনি জানান, একটি চুরির মামলার সূত্র ধরে তদন্ত করতে গিয়ে এই বিশাল চক্রের সন্ধান পায় পুলিশ। অভিযানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলাম, মো. রায়হান গফুর ও আজমীর হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

চুরির কায়দা ও চক্রের কর্মকাণ্ড:

পুলিশ জানায়, চক্রটি অত্যন্ত কৌশলী। তারা ইজিবাইক চুরি করার পর গোপন গ্যারেজে নিয়ে সেগুলোকে টুকরো টুকরো করে কাটত। এরপর একটির বডির সাথে অন্যটির চ্যাসিস বা গ্লাস জোড়া লাগিয়ে সম্পূর্ণ নতুন চেহারা দিত। এমনকি ইঞ্জিন ও চ্যাসিস নম্বর পরিবর্তন করে ভুয়া কাগজপত্র ও সিলমোহর ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের কাছে কম দামে বিক্রি করত।

যেভাবে ধরা পড়ল চক্রটি:

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি শহরের কোর্টপাড় জামে মসজিদের সামনে থেকে জাহিদুল ইসলাম নামে এক চালকের ইজিবাইক চুরি হয়। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রথমে আলাল ফকির (২৫) নামে একজনকে আটক করে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফরিদপুর, শরীয়তপুর, মাগুরা ও জামালপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোজাম্মেল, ইলিয়াস, আবুল হোসেনসহ মোট ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

উদ্ধার হওয়া মালামাল:

অভিযানে ১৮টি ইজিবাইক (১২টি সচল, ৬টি অচল) ছাড়াও ৪টি চ্যাসিস, ৭টি গ্লাস ফ্রেম, ৫ ট্রাক পরিমাণ খণ্ডিত যন্ত্রাংশ এবং ইজিবাইক কাটার মেশিন উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত একটি ইজিবাইক ২০২৫ সালের একটি মামলার চোরাই মাল বলে শনাক্ত করা হয়েছে।

পুলিশের সতর্কবার্তা:

পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করে আসছিল। চক্রের বাকি সদস্যদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।” একইসাথে তিনি সাধারণ মানুষকে অস্বাভাবিক কম দামে ইজিবাইক কেনা থেকে বিরত থাকতে এবং বৈধ কাগজপত্র যাচাই করার পরামর্শ দেন।