ঢাকা ০৫:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে বিদ্যুৎ বিতর্কে রণক্ষেত্র: লাইন কাটতে গিয়ে মারামারি, আহত ৬

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৩:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ জুন ২০২৫
  • / 452

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ও গ্রাহকের মধ্যে মারামারি হয়েছে। বুধবার (২৫ জুন, ২০২৫) দুপুরের দিকে উপজেলার পৌর সদরের ছোলনা গ্রামে এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৪ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। উভয় পক্ষই এখন মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পৌর সদরের ছোলনা গ্রামের জব্দুল মোল্যার ছেলে মো. বাবুল মোল্যার কাছে ১৩ মাসের বিদ্যুৎ বিল বাবদ ১৪ হাজার ৬১০ টাকা পাওনা ছিল ফরিদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির। বুধবার দুপুরে স্থানীয় নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের দপ্তর সম্পাদক বাবুল মোল্যার বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে যান পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বোয়ালমারী জোনাল অফিসের কর্মচারীরা।

সংঘর্ষ ও অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ

এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মারামারি শুরু হয়। এতে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির শাহেদ, জুয়েল, রাসেল, হাবিব এবং বাবুল মোল্যা ও তার ভাই শাহজাহান আহত হন। আহতদের মধ্যে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দুইজন এবং বাবুল ও শাহজাহানকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অপর দুইজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

বাবুল মোল্যা অভিযোগ করে বলেন, “আমি ঘরে ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ শোরগোল শুনে বাইরে গিয়ে পল্লী বিদ্যুতের লোকজনকে দেখতে পাই। তারা আমার ভাইকে মারছিল। তাকে ঠেকাতে এগিয়ে গেলে আমাকেও ঘিরে ধরে মারতে থাকে। বড় রেঞ্জ দিয়ে বাড়ি মেরে আমার মাথা ফাটিয়ে দেয়। গ্রামের লোকজন এগিয়ে এলে তারা পালিয়ে যায়। পরে এসে আমাদের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। আমরা একটু সুস্থ হলেই মামলা করব।”

এ বিষয়ে বোয়ালমারী নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল সেখ বলেন, “বাবুল মোল্যার বাড়ির বিদ্যুৎ বিল কয়েক মাস বাকি ছিল। আজ পল্লী বিদ্যুতের অন্তত ৩০ জন লোক নিয়ে তার বাড়িতে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গেলে বাবুল মোল্যা সময় চেয়ে বাঁধা দেন। একপর্যায়ে বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন তার ওপর হামলা চালায়। এতে বাবুলের মাথায় গুরুতর জখম হয়। গ্রামবাসীরা এগিয়ে এসে পল্লী বিদ্যুৎ কর্মীদের প্রতিহত করে।”

বিদ্যুৎ বিভাগের বক্তব্য ও পুলিশের পদক্ষেপ

বোয়ালমারী জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. সাইদুর রহমান বলেন, “১৩ মাসের সাড়ে ১৪ হাজার টাকা বিল বাকি। বিলও দেয় না, আবার লাইন কাটতেও দেয় না। জুন মাসে আমাদের প্রচুর চাপ থাকে। তাই বিল আদায় না হলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু তারা আমাদের লোকজনকে মারধর করে আহত করেছে। আহত চারজনের মধ্যে দুইজন হাসপাতালে ভর্তি। পরে ইউএনও ও ওসিকে সাথে নিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এ ঘটনায় সমিতির পক্ষ থেকে মামলা করা হবে।”

বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান জানান, “অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এ বিষয়ে বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তানভীর হাসান চৌধুরী বলেন, “সময়মতো বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করা অন্যায়। আমি গিয়েছিলাম যেন এ নিয়ে আর কোনো ঝামেলা না হয় এবং জনগণকে সচেতন করতে। যাতে ভবিষ্যতে এরকম ঘটনা না ঘটে। অভিযোগ পেলে পুলিশ দোষীদের শনাক্ত করবে।”

ফরিদপুরে বিদ্যুৎ বিতর্কে রণক্ষেত্র: লাইন কাটতে গিয়ে মারামারি, আহত ৬

আপডেট সময় : ০৯:৪৩:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ জুন ২০২৫

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ও গ্রাহকের মধ্যে মারামারি হয়েছে। বুধবার (২৫ জুন, ২০২৫) দুপুরের দিকে উপজেলার পৌর সদরের ছোলনা গ্রামে এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৪ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। উভয় পক্ষই এখন মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পৌর সদরের ছোলনা গ্রামের জব্দুল মোল্যার ছেলে মো. বাবুল মোল্যার কাছে ১৩ মাসের বিদ্যুৎ বিল বাবদ ১৪ হাজার ৬১০ টাকা পাওনা ছিল ফরিদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির। বুধবার দুপুরে স্থানীয় নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের দপ্তর সম্পাদক বাবুল মোল্যার বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে যান পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বোয়ালমারী জোনাল অফিসের কর্মচারীরা।

সংঘর্ষ ও অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ

এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মারামারি শুরু হয়। এতে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির শাহেদ, জুয়েল, রাসেল, হাবিব এবং বাবুল মোল্যা ও তার ভাই শাহজাহান আহত হন। আহতদের মধ্যে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দুইজন এবং বাবুল ও শাহজাহানকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অপর দুইজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

বাবুল মোল্যা অভিযোগ করে বলেন, “আমি ঘরে ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ শোরগোল শুনে বাইরে গিয়ে পল্লী বিদ্যুতের লোকজনকে দেখতে পাই। তারা আমার ভাইকে মারছিল। তাকে ঠেকাতে এগিয়ে গেলে আমাকেও ঘিরে ধরে মারতে থাকে। বড় রেঞ্জ দিয়ে বাড়ি মেরে আমার মাথা ফাটিয়ে দেয়। গ্রামের লোকজন এগিয়ে এলে তারা পালিয়ে যায়। পরে এসে আমাদের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। আমরা একটু সুস্থ হলেই মামলা করব।”

এ বিষয়ে বোয়ালমারী নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল সেখ বলেন, “বাবুল মোল্যার বাড়ির বিদ্যুৎ বিল কয়েক মাস বাকি ছিল। আজ পল্লী বিদ্যুতের অন্তত ৩০ জন লোক নিয়ে তার বাড়িতে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গেলে বাবুল মোল্যা সময় চেয়ে বাঁধা দেন। একপর্যায়ে বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন তার ওপর হামলা চালায়। এতে বাবুলের মাথায় গুরুতর জখম হয়। গ্রামবাসীরা এগিয়ে এসে পল্লী বিদ্যুৎ কর্মীদের প্রতিহত করে।”

বিদ্যুৎ বিভাগের বক্তব্য ও পুলিশের পদক্ষেপ

বোয়ালমারী জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. সাইদুর রহমান বলেন, “১৩ মাসের সাড়ে ১৪ হাজার টাকা বিল বাকি। বিলও দেয় না, আবার লাইন কাটতেও দেয় না। জুন মাসে আমাদের প্রচুর চাপ থাকে। তাই বিল আদায় না হলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু তারা আমাদের লোকজনকে মারধর করে আহত করেছে। আহত চারজনের মধ্যে দুইজন হাসপাতালে ভর্তি। পরে ইউএনও ও ওসিকে সাথে নিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এ ঘটনায় সমিতির পক্ষ থেকে মামলা করা হবে।”

বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান জানান, “অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এ বিষয়ে বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তানভীর হাসান চৌধুরী বলেন, “সময়মতো বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করা অন্যায়। আমি গিয়েছিলাম যেন এ নিয়ে আর কোনো ঝামেলা না হয় এবং জনগণকে সচেতন করতে। যাতে ভবিষ্যতে এরকম ঘটনা না ঘটে। অভিযোগ পেলে পুলিশ দোষীদের শনাক্ত করবে।”