ঢাকা ০৩:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে নিজের মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে বাবার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৫:১৭:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 1024

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় নিজের ২২ বছর বয়সী কন্যা সন্তানকে ধর্ষণের অভিযোগে পিতা মো. মোস্তফা মোল্লাকে (৪২) যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ৩ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন। সাজাপ্রাপ্ত মোস্তফা মোল্লা ভাঙ্গা উপজেলার নাসিরাবাদ ইউনিয়নের বড়পাল্লা গ্রামের বাসিন্দা।

ঘটনার পটভূমি:

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মোস্তফা মোল্লা ১৯৯৯ সালে এক দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী নারীকে বিয়ে করে শ্বশুরবাড়িতে ঘরজামাই থাকতেন। ওই সংসারে তার দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে মোস্তফা তার নিজের বড় মেয়েকে প্রথমবার ধর্ষণ করেন। ভুক্তভোগী বিষয়টি তার মাকে জানালেও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হওয়ায় তিনি কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেননি। পরবর্তীতে মোস্তফা গা ঢাকা দিলেও এক মাস পর ফিরে এসে পুনরায় মেয়েকে ধারাবাহিকভাবে নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন।

মামলা ও গ্রেফতার:

২০২৫ সালের ২৯ মার্চ বিকেলে পুনরায় মেয়েকে ধর্ষণের চেষ্টা চালালে ভুক্তভোগীর চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে মোস্তফাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। এই ঘটনায় মেয়ের মামা মো. বাবুল আলী বাদী হয়ে ভাঙ্গা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. সিরাজুল ইসলাম তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ৩০ জুলাই আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

আদালতের পর্যবেক্ষণ:

রায় ঘোষণার সময় আসামি মোস্তফা মোল্লা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আদালত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় এই কঠোর দণ্ড প্রদান করেন। রায়ের পর আসামিকে কড়া পুলিশ পাহারায় ফরিদপুর জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

আদালতের পিপি গোলাম রব্বানী রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “এই ঘটনাটি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক এবং সামাজিক অবক্ষয়ের চরম বহিঃপ্রকাশ। এই রায়ের মাধ্যমে সমাজে একটি কড়া বার্তা পৌঁছাবে।”

ফরিদপুরে নিজের মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে বাবার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

আপডেট সময় : ০৫:১৭:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় নিজের ২২ বছর বয়সী কন্যা সন্তানকে ধর্ষণের অভিযোগে পিতা মো. মোস্তফা মোল্লাকে (৪২) যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ৩ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন। সাজাপ্রাপ্ত মোস্তফা মোল্লা ভাঙ্গা উপজেলার নাসিরাবাদ ইউনিয়নের বড়পাল্লা গ্রামের বাসিন্দা।

ঘটনার পটভূমি:

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মোস্তফা মোল্লা ১৯৯৯ সালে এক দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী নারীকে বিয়ে করে শ্বশুরবাড়িতে ঘরজামাই থাকতেন। ওই সংসারে তার দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে মোস্তফা তার নিজের বড় মেয়েকে প্রথমবার ধর্ষণ করেন। ভুক্তভোগী বিষয়টি তার মাকে জানালেও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হওয়ায় তিনি কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেননি। পরবর্তীতে মোস্তফা গা ঢাকা দিলেও এক মাস পর ফিরে এসে পুনরায় মেয়েকে ধারাবাহিকভাবে নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন।

মামলা ও গ্রেফতার:

২০২৫ সালের ২৯ মার্চ বিকেলে পুনরায় মেয়েকে ধর্ষণের চেষ্টা চালালে ভুক্তভোগীর চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে মোস্তফাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। এই ঘটনায় মেয়ের মামা মো. বাবুল আলী বাদী হয়ে ভাঙ্গা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. সিরাজুল ইসলাম তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ৩০ জুলাই আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

আদালতের পর্যবেক্ষণ:

রায় ঘোষণার সময় আসামি মোস্তফা মোল্লা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আদালত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় এই কঠোর দণ্ড প্রদান করেন। রায়ের পর আসামিকে কড়া পুলিশ পাহারায় ফরিদপুর জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

আদালতের পিপি গোলাম রব্বানী রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “এই ঘটনাটি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক এবং সামাজিক অবক্ষয়ের চরম বহিঃপ্রকাশ। এই রায়ের মাধ্যমে সমাজে একটি কড়া বার্তা পৌঁছাবে।”