ফরিদপুরে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের ধ্বংসস্তূপে ‘জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ’ নির্মাণ শুরু
- আপডেট সময় : ০৫:৪৮:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ জুলাই ২০২৫
- / 539
ফরিদপুর শহরের হাসিবুল হাসান লাবলু সড়কে অবস্থিত জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের ধ্বংসস্তূপের ওপর ‘জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ’ নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। বুধবার (৯ জুলাই, ২০২৫) সকাল থেকে ফরিদপুর গণপূর্ত বিভাগ এই নির্মাণ কাজের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করেছে। আগামী ৫ আগস্টের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হবে।
স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের প্রেক্ষাপট
ফরিদপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, দেশব্যাপী অভিন্ন বাজেটে ‘জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ’ নির্মাণ করা হচ্ছে। তিনি এই কাজের নির্দিষ্ট বরাদ্দ সম্পর্কে অবগত নন, তবে জানান যে ‘ডাইরেক্ট প্রকিউরমেন্ট মেথড’ এ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। ঠিকাদার সোহান আল মামুন জানান, তাদের প্রতিষ্ঠান গণপূর্তের কাজটি পেয়েছে এবং তারা আজ থেকে কাজ শুরু করেছেন।
বুধবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সাতজন নির্মাণ শ্রমিক বড় আকারের হাতুড়ি দিয়ে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের অবশিষ্ট কাঠামো ভাঙার কাজ করছেন।
আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের ইতিহাস ও ধ্বংসযজ্ঞ
জেলা আওয়ামী লীগের এই কার্যালয়টি যেখানে ছিল, সেই জায়গাটির মালিকানা মূলত জেলা প্রশাসনের। ২০২১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর শেখ রাসেল ফাউন্ডেশনের নামে ২৬ শতাংশ জমি একসনা বন্দোবস্তের ভিত্তিতে ইজারা নেন শামীম হক, যা পরবর্তীতে শেখ রাসেল স্কয়ার নামে পরিচিতি পায়। শামীম হক পরে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হলে ওই জায়গায় শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্রের পাশাপাশি জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় নির্মাণ করা হয়। ২০২৩ সালের ২৪ জুলাই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা কাজী জাফরউল্লাহ ও আব্দুর রহমান এই কার্যালয়টি উদ্বোধন করেন।
জুলাই আন্দোলনের প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বিক্ষুব্ধ জনতা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগসহ ব্যাপক ভাঙচুর করে। পরদিন ৫ আগস্ট দ্বিতীয় দফা হামলায় কার্যালয়টি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। গত ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার সময় এই জায়গাটি দুঃস্থ ব্যক্তিদের জন্য স্বল্পমূল্যে পণ্য বিক্রির কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল।
স্থান নির্বাচন ও প্রশাসনিক উদ্যোগ
ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সোহরাব হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দেশব্যাপী ‘জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ’ নির্মাণ সরকারি উদ্যোগে হচ্ছে। গত সোমবার (৭ জুলাই) জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এবং সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা ফরিদপুর শহরে স্থান নির্বাচনের জন্য কয়েকটি জায়গা পরিদর্শন করেন।
তিনি জানান, পরিদর্শিত স্থানগুলোর মধ্যে পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে একাত্তরের শহীদদের নাম সংবলিত বেদীর আশপাশ, রাজবাড়ি রাস্তার মোড় এলাকা এবং বর্তমানে যেখানে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ হচ্ছে, সেই আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের জায়গাটি অন্তর্ভুক্ত ছিল। নিরাপত্তা ও অন্যান্য দিক বিবেচনা করে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের স্থানটিকেই সবচেয়ে উপযুক্ত হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সোহরাব হোসেন আরও জানান, এই নির্মাণ কাজ দ্রুত শেষ হবে এবং আগামী ৫ আগস্ট সরকারি উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে নতুন নির্মিত এই জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভের বেদীতেই পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হবে।





















