ঢাকা ১০:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে চাঁদাবাজি ও হত্যার হুমকিতে মেজর গোলাম হায়দারসহ চার সহযোগী গ্রেপ্তার

শফিকুল ইসলাম জনি, নগরকান্দা (ফরিদপুর)
  • আপডেট সময় : ০১:৩১:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ জুন ২০২৫
  • / 582

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার কোদালিয়া গ্রামে চাঁদাবাজি এবং হত্যার হুমকির অভিযোগে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর গোলাম হায়দারকে গ্রেপ্তার করেছে যৌথ বাহিনী। মঙ্গলবার (৩ জুন) গভীর রাতে তার নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

অভিযানে গ্রেপ্তারসহ অন্যদেরও নাম

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিরুল ইসলাম জানান, মেজর হায়দারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ফরহাদ হোসেনসহ আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

ইউপি সদস্যের চাঁদাবাজির অভিযোগ

স্থানীয় ইউপি সদস্য রাজু মোল্লা অভিযোগ করেন, ইউনিয়ন উন্নয়ন প্রকল্প থেকে মেজর হায়দার মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করতেন। রাজু মোল্লা রাজি না হওয়ায় গত ১ জুন তাকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেয়া হয়। এরপর থানায় লিখিত অভিযোগ করলে রাতেই যৌথ বাহিনী অভিযান চালায়।

গুজব ছড়ানোর ঘটনা ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ

অভিযানের সময় মসজিদের মাইক ব্যবহার করে ফরহাদ হোসেন ‘মেজরের বাড়িতে ডাকাত পড়েছে’ বলে গুজব ছড়ান। এতে আশপাশের মানুষ ঘটনাস্থলে জড়ো হলে পুলিশ সাইরেন বাজিয়ে ও মাইকিং করে গুজবের বিরুদ্ধে সতর্ক করে। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং স্থানীয়দের সহায়তায় ফরহাদ হোসেনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর মেজর হায়দারকেও তার নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়।

আগের বিতর্কিত ঘটনা

এর আগে উপজেলার ডাংগি ইউনিয়নে বৈষম্য বিরোধী এক নারী নেত্রীকে ঘিরে উত্তেজনার সময় স্থানীয় শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ চলাকালে সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতে মেজর হায়দার উগ্র আচরণ ও অশোভন মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়েন। ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং এতে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয়দের স্বস্তি

গ্রেপ্তারের পর কোদালিয়া গ্রামজুড়ে স্থানীয়রা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন। তারা বলছেন, “তার প্রভাবের কারণে কেউ মুখ খুলতে পারত না। এখন মনে হচ্ছে প্রশাসন সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে।”

পুলিশ ও আদালতের পদক্ষেপ

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম আরও জানান, “রাজু মোল্লা নামের এক ব্যক্তি চাঁদাবাজির অভিযোগ দিলে সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর মঙ্গলবার সকালে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।”

সংক্ষিপ্ত সারাংশ:
ফরিদপুরের নগরকান্দা থেকে চাঁদাবাজি ও হত্যার হুমকির অভিযোগে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর গোলাম হায়দারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানে তার সহযোগীসহ আরও তিনজন আটক হয়। স্থানীয়রা গ্রেপ্তারের পর স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। মামলা প্রসঙ্গে পুলিশের বক্তব্য ও আদালতের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ফরিদপুরে চাঁদাবাজি ও হত্যার হুমকিতে মেজর গোলাম হায়দারসহ চার সহযোগী গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ০১:৩১:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ জুন ২০২৫

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার কোদালিয়া গ্রামে চাঁদাবাজি এবং হত্যার হুমকির অভিযোগে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর গোলাম হায়দারকে গ্রেপ্তার করেছে যৌথ বাহিনী। মঙ্গলবার (৩ জুন) গভীর রাতে তার নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

অভিযানে গ্রেপ্তারসহ অন্যদেরও নাম

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিরুল ইসলাম জানান, মেজর হায়দারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ফরহাদ হোসেনসহ আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

ইউপি সদস্যের চাঁদাবাজির অভিযোগ

স্থানীয় ইউপি সদস্য রাজু মোল্লা অভিযোগ করেন, ইউনিয়ন উন্নয়ন প্রকল্প থেকে মেজর হায়দার মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করতেন। রাজু মোল্লা রাজি না হওয়ায় গত ১ জুন তাকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেয়া হয়। এরপর থানায় লিখিত অভিযোগ করলে রাতেই যৌথ বাহিনী অভিযান চালায়।

গুজব ছড়ানোর ঘটনা ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ

অভিযানের সময় মসজিদের মাইক ব্যবহার করে ফরহাদ হোসেন ‘মেজরের বাড়িতে ডাকাত পড়েছে’ বলে গুজব ছড়ান। এতে আশপাশের মানুষ ঘটনাস্থলে জড়ো হলে পুলিশ সাইরেন বাজিয়ে ও মাইকিং করে গুজবের বিরুদ্ধে সতর্ক করে। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং স্থানীয়দের সহায়তায় ফরহাদ হোসেনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর মেজর হায়দারকেও তার নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়।

আগের বিতর্কিত ঘটনা

এর আগে উপজেলার ডাংগি ইউনিয়নে বৈষম্য বিরোধী এক নারী নেত্রীকে ঘিরে উত্তেজনার সময় স্থানীয় শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ চলাকালে সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতে মেজর হায়দার উগ্র আচরণ ও অশোভন মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়েন। ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং এতে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয়দের স্বস্তি

গ্রেপ্তারের পর কোদালিয়া গ্রামজুড়ে স্থানীয়রা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন। তারা বলছেন, “তার প্রভাবের কারণে কেউ মুখ খুলতে পারত না। এখন মনে হচ্ছে প্রশাসন সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে।”

পুলিশ ও আদালতের পদক্ষেপ

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম আরও জানান, “রাজু মোল্লা নামের এক ব্যক্তি চাঁদাবাজির অভিযোগ দিলে সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর মঙ্গলবার সকালে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।”

সংক্ষিপ্ত সারাংশ:
ফরিদপুরের নগরকান্দা থেকে চাঁদাবাজি ও হত্যার হুমকির অভিযোগে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর গোলাম হায়দারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানে তার সহযোগীসহ আরও তিনজন আটক হয়। স্থানীয়রা গ্রেপ্তারের পর স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। মামলা প্রসঙ্গে পুলিশের বক্তব্য ও আদালতের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।