ঢাকা ০২:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুর ঘুষ না পেয়ে ট্রলি মেলেনি: কোলেই প্রাণ গেল শিশুর

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০১:৫২:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
  • / 134

এক হাতে মুখের ওপর আঁকড়ে ধরা অক্সিজেনের মাস্ক, অন্য হাতে ঝুঁলে থাকা স্যালাইনের বোতল। কোলে ঢলে পড়া চার বছরের এক মুমূর্ষু শিশু। আর ঠিক পাশেই এক স্বজন ঘাম ঝরিয়ে বহনে ব্যস্ত ভারী একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার— এভাবেই রোগীকে বাঁচানোর তাগিদে হাসপাতালের করিডোর দিয়ে দিশেহারা হয়ে ছুটছেন স্বজনরা। না, এটি কোনো সিনেমার করুণ দৃশ্য নয়; ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বাস্তব ও নৃশংস চিত্র। হাসপাতালের কর্মচারীদের দাবি করা ট্রলির ‘বকশিস’ দিতে না পারায় শেষ পর্যন্ত ট্রলি মেলেনি, আর কোলেই টানাপোড়েন সয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে হলো অবুঝ শিশুটিকে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় চার বছরের শিশু রুহুল আমিন। সে ফরিদপুর সদর উপজেলার পুরদিয়া গ্রামের মাফুজুরের ছেলে।

৩২ সেকেন্ডের সেই ভিডিও ও ট্রলি-বাণিজ্যের অভিযোগ

শিশু রুহুল আমিন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন পরিবারের সদস্যরা। চিকিৎসকের কাছে দ্রুত পৌঁছানোর জন্য প্রয়োজন ছিল একটি ট্রলি (চাকা লাগানো ধাতব শয্যা)। কিন্তু অভিযোগ ওঠে, জরুরি বিভাগ থেকে ট্রলি চাইতে গেলেই দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীরা টাকা দাবি করে বসে। তাৎক্ষণিকভাবে দাবি করা টাকা দিতে না পারায় ট্রলি দিতে অস্বীকার করে তারা।

কোনো উপায় না দেখে স্বজনরা মুমূর্ষু শিশুকে কোলে তুলে নেন। এক স্বজন স্যালাইন ঝুলিয়ে এবং অন্য স্বজন ভারী অক্সিজেন সিলিন্ডার কাঁধে তুলে নিয়ে ছুটতে শুরু করেন জরুরি বিভাগের দিকে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ৩২ সেকেন্ডের একটি হৃদয়বিদারক ভিডিও ফুটেজে দেখা যায় এই করুণ দৃশ্যের বাস্তব রূপ। ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই হাসপাতালের এমন চরম অব্যবস্থাপনা ও কর্মচারীদের সিন্ডিকেট নিয়ে সর্বস্তরে চরম ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় ওঠে। স্বজনদের আকুল দাবি, সময়মতো ট্রলি না পাওয়া ও এভাবে দৌড়াদৌড়ির কারণে শিশুটির শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে, যা তাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়।

কর্তৃপক্ষের অদ্ভূত সাফাই ও তদন্তের দাবি

তবে এই অমানবিক ট্রলি-বাণিজ্যের অভিযোগ বরাবরের মতোই অস্বীকার করেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরিচালকের অবসরে যাওয়ায় বর্তমানে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা উপপরিচালক ডাক্তার মানষ কৃষ্ণ কুন্ডু জানান, “অভিযোগ পাওয়ার পর আমি সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের দায়িত্বরত নার্স ও ওয়ার্ড বয়দের সঙ্গে কথা বলেছি। রোগীর স্বজনদের অভিযোগ সঠিক নয়। শিশুটির শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। নার্সরা জানিয়েছেন, ট্রলিতে নেওয়া হলে ঝাঁকুনিতে শিশুটির জন্য আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হতো, তাই কোলে করে নিতে বলা হয়েছে। এর বেশি কিছু নয়।”

যদিও কর্তৃপক্ষের এই ‘ঝুঁকি বাড়ার’ ব্যাখ্যাকে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের প্রশ্ন, ভারী অক্সিজেন সিলিন্ডার আর স্যালাইন ঝুলিয়ে কোলে করে দৌড়ালে কি ঝুঁকি বাড়ে না? তারা অনতিবিলম্বে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ফরিদপুর ঘুষ না পেয়ে ট্রলি মেলেনি: কোলেই প্রাণ গেল শিশুর

আপডেট সময় : ০১:৫২:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

এক হাতে মুখের ওপর আঁকড়ে ধরা অক্সিজেনের মাস্ক, অন্য হাতে ঝুঁলে থাকা স্যালাইনের বোতল। কোলে ঢলে পড়া চার বছরের এক মুমূর্ষু শিশু। আর ঠিক পাশেই এক স্বজন ঘাম ঝরিয়ে বহনে ব্যস্ত ভারী একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার— এভাবেই রোগীকে বাঁচানোর তাগিদে হাসপাতালের করিডোর দিয়ে দিশেহারা হয়ে ছুটছেন স্বজনরা। না, এটি কোনো সিনেমার করুণ দৃশ্য নয়; ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বাস্তব ও নৃশংস চিত্র। হাসপাতালের কর্মচারীদের দাবি করা ট্রলির ‘বকশিস’ দিতে না পারায় শেষ পর্যন্ত ট্রলি মেলেনি, আর কোলেই টানাপোড়েন সয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে হলো অবুঝ শিশুটিকে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় চার বছরের শিশু রুহুল আমিন। সে ফরিদপুর সদর উপজেলার পুরদিয়া গ্রামের মাফুজুরের ছেলে।

৩২ সেকেন্ডের সেই ভিডিও ও ট্রলি-বাণিজ্যের অভিযোগ

শিশু রুহুল আমিন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন পরিবারের সদস্যরা। চিকিৎসকের কাছে দ্রুত পৌঁছানোর জন্য প্রয়োজন ছিল একটি ট্রলি (চাকা লাগানো ধাতব শয্যা)। কিন্তু অভিযোগ ওঠে, জরুরি বিভাগ থেকে ট্রলি চাইতে গেলেই দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীরা টাকা দাবি করে বসে। তাৎক্ষণিকভাবে দাবি করা টাকা দিতে না পারায় ট্রলি দিতে অস্বীকার করে তারা।

কোনো উপায় না দেখে স্বজনরা মুমূর্ষু শিশুকে কোলে তুলে নেন। এক স্বজন স্যালাইন ঝুলিয়ে এবং অন্য স্বজন ভারী অক্সিজেন সিলিন্ডার কাঁধে তুলে নিয়ে ছুটতে শুরু করেন জরুরি বিভাগের দিকে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ৩২ সেকেন্ডের একটি হৃদয়বিদারক ভিডিও ফুটেজে দেখা যায় এই করুণ দৃশ্যের বাস্তব রূপ। ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই হাসপাতালের এমন চরম অব্যবস্থাপনা ও কর্মচারীদের সিন্ডিকেট নিয়ে সর্বস্তরে চরম ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় ওঠে। স্বজনদের আকুল দাবি, সময়মতো ট্রলি না পাওয়া ও এভাবে দৌড়াদৌড়ির কারণে শিশুটির শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে, যা তাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়।

কর্তৃপক্ষের অদ্ভূত সাফাই ও তদন্তের দাবি

তবে এই অমানবিক ট্রলি-বাণিজ্যের অভিযোগ বরাবরের মতোই অস্বীকার করেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরিচালকের অবসরে যাওয়ায় বর্তমানে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা উপপরিচালক ডাক্তার মানষ কৃষ্ণ কুন্ডু জানান, “অভিযোগ পাওয়ার পর আমি সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের দায়িত্বরত নার্স ও ওয়ার্ড বয়দের সঙ্গে কথা বলেছি। রোগীর স্বজনদের অভিযোগ সঠিক নয়। শিশুটির শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। নার্সরা জানিয়েছেন, ট্রলিতে নেওয়া হলে ঝাঁকুনিতে শিশুটির জন্য আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হতো, তাই কোলে করে নিতে বলা হয়েছে। এর বেশি কিছু নয়।”

যদিও কর্তৃপক্ষের এই ‘ঝুঁকি বাড়ার’ ব্যাখ্যাকে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের প্রশ্ন, ভারী অক্সিজেন সিলিন্ডার আর স্যালাইন ঝুলিয়ে কোলে করে দৌড়ালে কি ঝুঁকি বাড়ে না? তারা অনতিবিলম্বে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।