ফরিদপুরে দিনদুপুরে ‘ত্রয়ী’ প্রতারক চক্রের ফাঁদ, সর্বস্ব খোয়ালেন গৃহবধূ
- আপডেট সময় : ০৫:৪৫:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫
- / 335
ফরিদপুর শহরের ব্যস্ততম চৌরঙ্গীর মোড় এলাকায় দিন-দুপুরে প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়ে স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোন এবং নগদ অর্থ খুইয়েছেন শিউলী আক্তার (৫০) নামে এক গৃহবধূ। অভিনব কায়দায় এই প্রতারণাটি সংঘটিত করেছে দুজন নারী ও একজন পুরুষ সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত একটি চক্র।
মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) দুপুরের দিকে দি ঢাকা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী গৃহবধূ শহরের গুহলক্ষীপুর এলাকার নুরউদ্দিন মীরের স্ত্রী। এ ঘটনায় তিনি কোতোয়ালি থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
প্রতারণার অভিনব কৌশল
ভুক্তভোগী গৃহবধূ শিউলী আক্তার তাঁর নবজাতক নাতনির জন্য শহরের ডা. জাহেদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতালের সামনে দুধ কিনতে এসেছিলেন। সেখানেই বোরকা পরা এক নারীর পাশে তাঁর সাথে প্রতারক চক্রের অন্য সদস্যরা যোগ দেয়।
ফাঁদ পাতা: অজ্ঞাত এক পুরুষ সদস্য সেখানে এসে জানান, এক লোকের স্বজন মারা গেছে এবং সেই উপলক্ষে শাড়ি-কাপড় ও নগদ টাকা বিতরণ করা হচ্ছে। পাশে থাকা নারী সদস্যটি এতে রাজি হয়ে যান এবং শিউলী আক্তারকেও একটি ছোট ব্যাগ ধরতে বলেন।
টাকা বাড়ানোর লোভ: চৌরঙ্গীর মোড়ে দি ঢাকা ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের গেটের মধ্যে নিয়ে গিয়ে প্রতারক নারী সদস্যটি ফিরে এসে বলেন, “৮ জনের কথা বলে ৮ হাজার টাকা এনেছি।” তখন পুরুষ সদস্যটি শিউলী আক্তারকে ২৫ জনের কথা বললে ২৫ হাজার টাকা আনা সম্ভব হবে বলে লোভ দেখান।
সর্বস্ব লুট: এরপর ওই পুরুষ সদস্য তার কাছে থাকা স্বর্ণালংকার রেখে যেতে বলেন। তাদের কথায় রাজি হয়ে গৃহবধূ কানে ও গলায় থাকা এক ভরি ওজনের স্বর্ণের দুল ও চেইন, মোবাইল এবং নগদ ২ হাজার টাকা একটি ব্যাগে রাখেন।
দারোয়ান পরিচয়ে ব্যাগ গায়েব
প্রতারক চক্রের মূল চাল ছিল ব্যাগটি গায়েব করা।
দারোয়ানের অভিনয়: ব্যাগের নিরাপত্তার জন্য সেখানে পূর্ব থেকে অবস্থানরত অপর এক পুরুষ সদস্যকে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দারোয়ান বলে পরিচয় দেওয়া হয় এবং তাঁর কাছে ব্যাগটি রেখে যেতে বলা হয়।
পালিয়ে যাওয়া: শিউলী আক্তার কিছুদূর যাওয়ার পরই সন্দেহ হলে দৌড়ে ফিরে এসে দেখেন, সেখানে কেউ নেই—সোনাসহ ব্যাগটি নিয়ে প্রতারক চক্র পালিয়ে গেছে।
তদন্তের গতিপথ
ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী কোতোয়ালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরই পুলিশ ঘটনাস্থলে খোঁজখবর নিয়েছে।
ডায়াগনস্টিক সেন্টারের তথ্য: সরেজমিনে ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গেলে সংশ্লিষ্টরা জানান, তাদের কোনো দারোয়ান নেই এবং সেখানে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ থাকলেও রেকর্ড হয়নি।
পুলিশের চেষ্টা: এসআই সিরাজুল ইসলাম বলেন, “সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখা হয়েছে। ভিডিও‘র মান ভালো না হওয়ায় মুখগুলো চেনা যাচ্ছে না। তবে আমরা ওই প্রতারকদের ধরার চেষ্টা করছি।”
স্বজনদের দাবি: ভুক্তভোগীর স্বজনরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে আশেপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে চক্রটিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।




















