ফরিদপুর: শ্যালিকাকে গণধর্ষণ ও হত্যা, অতঃপর আমৃত্যু কারাদণ্ড
- আপডেট সময় : ০৯:৪৬:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫
- / 802
ফরিদপুরে শ্যালিকাকে গণধর্ষণ ও হত্যার দায়ে দুলাভাইসহ চারজন আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়াও, দুই আসামি আলামত নষ্ট করার দায়ে পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড পেয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক, জেলা ও দায়রা জজ শামীমা পারভীন এই রায় ঘোষণা করেন। দীর্ঘসূত্রিতা পেরিয়ে এ মামলার রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ ন্যায়বিচার পেয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে।
রায়ের বিস্তারিত ও দণ্ডপ্রাপ্তদের পরিচয়
আদালত দণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামিকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে দুটি পৃথক ধারায় সাজা প্রদান করেন।
আমৃত্যু কারাদণ্ড (৪ জন)
অপরাধ সাজা জরিমানা
হত্যা আমৃত্যু কারাদণ্ড ৫০ হাজার টাকা
ধর্ষণ যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ১ লাখ টাকা
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন:
জাহাঙ্গীর ব্যাপারি (৩৮): নিহত নারীর দুলাভাই (পলাতক)।
কামরুল মৃাধা (৩৮)।
আলী বেপারি (৪৩)।
বক্কার বেপারি (৩৮)।
দণ্ড ভোগ: দণ্ডপ্রাপ্তরা দুই সাজা একসাথে ভোগ করতে পারলেও, উভয় দণ্ডের আর্থিক জরিমানা তাদের প্রদান করতে হবে।
আলামত নষ্টের দায়ে কারাদণ্ড (২ জন)
এ মামলার অপর দুই আসামি মমতাজ বেগম (৬৩) ও আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আলী বেপারির বাবা আবুল কালাম বেপারিকে (৬৮) আলামত নষ্ট করার দায়ে পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা জরিমানা (অনাদায়ে ছয় মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড) দেওয়া হয়।
ভয়ঙ্কর ঘটনা এবং মামলার দীর্ঘসূত্রিতা
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালের ১ অক্টোবর রাত ১টার দিকে নিহত নারীর দুলাভাই জাহাঙ্গীর বেপারি দলবল নিয়ে তাঁর শ্যালিকার বাড়িতে যায় এবং ‘তোমার বোন এসেছে, দরজা খোল’ বলে ডেকে দরজা খোলায়। শ্যালিকা দরজা খোলার সাথে সাথে জাহাঙ্গীরসহ অন্য আসামিরা তাঁকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে এবং পরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।
মামলা: এ ঘটনায় ওই নারীর মা বাদী হয়ে ২০১২ সালের ২৩ অক্টোবর ফরিদপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জাহাঙ্গীরসহ ৭ জনকে আসামি করে মামলা করেন।
তদন্তের জটিলতা: আদালতের নির্দেশে এ মামলাটি সদরপুর থানার এসআই, ওসি, ঢাকার সিআইডি ও সবশেষ ফরিদপুরের ডিবিসহ মোট ৭ জন কর্মকর্তা তদন্ত করেন। অবশেষে ঘটনার পাঁচ বছর পর ২০১৭ সালের ২৮ নভেম্বর ফরিদপুর ডিবি পুলিশের এসআই মো. আবুল কালাম ৬ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের সন্তুষ্টি
ফরিদপুর নারী ও শিশু আদালতের গোলাম রব্বানী ভুইয়া বলেন, “এ মামলার নিয়ে দীর্ঘসূত্রিতার সৃষ্টি হলেও ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় ন্যায় বিচার পেয়ে আমরা (রাষ্ট্রপক্ষ) সন্তুষ্ট।”
রায় ঘোষণার সময় আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত প্রধান আসামি জাহাঙ্গীর ব্যাপারি ছাড়া সকলেই আদালতে হাজির ছিলেন। রায় ঘোষণার পর পুলিশ প্রহরায় তাঁদের জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।





















