ফরিদপুরে নিখোঁজ শিশুর গলিত লাশ কাশবনে
- আপডেট সময় : ০৬:০৮:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
- / 185
মেলায় দোলনায় চড়তে গিয়ে যে এমন ভয়ানক পরিণতি হবে, তা কল্পনাও করতে পারেনি আট বছরের অবুঝ শিশুটি। তিন দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে আড়িয়াল খাঁ নদের পাড়ের এক নির্জন কাশবন থেকে উদ্ধার হলো তার গলিত মরদেহ। তবে চমকের এখানেই শেষ নয়; খোদ হত্যাকারীই ফোন করে নিহতের দিদিকে মরদেহের অবস্থান জানিয়ে চম্পট দিয়েছে! সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার চরনাছিরপুর ইউনিয়ন থেকে শাহাদাত বেপারি (৮) নামে ওই শিশুর লাশ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
এদিকে এই নৃশংস ঘটনার খবর জানাজানি হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। মেলায় আসা দোলনার মালিকসহ পাঁচ কর্মচারীকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে উত্তেজিত জনতা।
মেলার আনন্দই ডেকে আনল চরম বিপর্যয়:
নিহত শাহাদাত উপজেলার চর নাছিরপুর ইউনিয়নের মধ্য চন্দ্রপাড়া গ্রামের রশিদ বেপারির ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (২৬ জুন) চন্দ্রপাড়া দরবার শরিফ সংলগ্ন ট্রলারঘাটে মহরম উপলক্ষে আয়োজিত একটি মেলায় ঘুরতে গিয়ে আচমকাই নিখোঁজ হয় শাহাদাত। চারদিকে খোঁজাখুঁজি, মাইকিং করেও তার কোনো হদিস মেলেনি। স্বজনদের চোখে তখন শুধুই জল আর উৎকণ্ঠা।
দিদির মোবাইলে ঘাতকের ফোন, মিলল নিথর দেহ:
সোমবার দুপুরে হঠাৎই শাহাদাতের দিদি রওশনারার মোবাইলে একটি অজানা নম্বর থেকে ফোন আসে। ফোনের ওপার থেকে মেলায় থাকা দোলনার ১৮ বছর বয়সী কর্মচারী ইয়াছিন জানায়, আড়িয়াল খাঁ নদের পাড়ের কাশবনে পড়ে রয়েছে শাহাদাতের নিথর দেহ! সেই তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পরিবারের লোকজন তড়িঘড়ি সেখানে ছুটে যান। কাশবনের আড়ালে শাহাদাতের গলিত ও রক্তাক্ত দেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তাঁরা। খবর পেয়ে সদরপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশটি উদ্ধার করে। তবে ফোন করার পর থেকেই মূল অভিযুক্ত ইয়াছিন পলাতক।
উত্তেজিত জনতার গণপিটুনি, শ্রীঘরে দোলনার মালিকসহ ৫ জন:
নিষ্পাপ শিশুর এমন নৃশংস পরিণতি দেখে ক্ষোভে ফুঁসতে থাকা জনতা মেলা প্রাঙ্গণে চড়াও হয়। দোলনার মালিক শরীয়তপুরের দেলোয়ার বেপারীসহ পাঁচ কর্মচারীকে আটকে রেখে চলে উত্তম-মধ্যম। পরে পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়। ধৃত অন্য কর্মচারীরা হলো— রিয়াজ, তামিম মোল্যা, জিহাদ মাহমুদ ও শাকিল ইসলাম। এদের বাড়ি ঝিনাইদহ ও মাগুরা জেলার বিভিন্ন এলাকায়।
তদন্তে নামল পুলিশ:
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) মো. রেজওয়ান দীপু এবং সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আল মামুন শাহ।
ওসি জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মূল অভিযুক্ত ইয়াছিনকে হন্যে হয়ে খুঁজছে পুলিশ। মেলা প্রাঙ্গণে কোনো পুরোনো শত্রুতা নাকি অন্য কোনো বিকৃত মানসিকতা থেকে এই চরম নৃশংসতা, তা খতিয়ে দেখতে ধৃত বাকি পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।



















