ফরিদপুরে মাঝরাতে জানালা ভেঙে, স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ
- আপডেট সময় : ০৯:৩৯:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
- / 560
রাতের অন্ধকার চিরে যখন সুরক্ষিত গৃহকোণও মরণফাঁদ হয়ে ওঠে, তখন সভ্যতার মুখ লজ্জায় পুড়ে খাক হয়ে যায়। ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় ঘটে গেল তেমনই এক হাড়হিম করা মধ্যযুগীয় বর্বরতা। ঘরের জানালা ভেঙে অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে (১৫) অস্ত্রের মুখে অপহরণের পর চালানো হলো পৈশাচিক সংঘবদ্ধ ধর্ষণ! তবে এবার আর পার পায়নি নরপিশাচেরা। পাপের ঘড়া পূর্ণ হতেই মাঝরাতেই রুখে দাঁড়াল জনতা। ধাওয়া করে মোটরসাইকেলসহ দুই অভিযুক্তকে হাতেনাতে পাকড়াও করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের খাঁচায় পুরেছে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। বর্তমানে ওই নির্যাতিতা কিশোরী ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই ২০২৬) রাত ১টার দিকে সদরপুরের ভাষাণচর ইউনিয়নের একটি প্রত্যন্ত গ্রামে এই লোমহর্ষক ও নারকীয় ঘটনাটি ঘটে। আটককৃত দুই অভিযুক্ত হলো—হেলাল মৃধা (২০) ও রইস শিকদার (১৬)।
দাদির চোখের অপারেশন, ফাঁকা বাড়িতে অস্ত্রের মুখে তাণ্ডব
কিশোরীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার রাতে কিশোরীর দাদির চোখের অপারেশনের জন্য তার মা ও চাচা ফরিদপুর শহরের একটি হাসপাতালে ছিলেন। বাড়িতে ছোট ভাইবোনের সাথে ঘুমিয়েছিল ওই কিশোরী। রাত ১টার দিকে হঠাৎ করেই ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পুরো ঘরটি ঘিরে ফেলে। ভেতর থেকে দরজা খুলতে না চাইলে শুরু হয় তাণ্ডব। জানালার কাঠ ভেঙে ঘরের ভেতর ঢুকে পড়ে নরপিশাচেরা।
কিশোরীর ছোট বোন চোখভরা আতঙ্ক নিয়ে জানায়, “ওরা জানালা ভেঙে ঘরে ঢুকেই আমার বোনের চুলের মুঠি ধরে টেনেহিঁচড়ে বের করে নিয়ে যায় বন্ধু। আমরা আটকাতে গেলে আমাদের কেটে ফেলার হুমকি দেয়।” প্রতিবেশীরা ছুটে আসার চেষ্টা করলেও অস্ত্রের ঝিলিক দেখিয়ে পুরো এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে মেয়েটিকে একটি মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
পুকুরপাড়ে চলল পাশবিকতা, উঠানে ফেলে পালাতেই গণধোলাই!
অসহায় কিশোরীকে তুলে নিয়ে পাশের গ্রামের একটি নির্জন পুকুরপাড়ে হাজির করে তিন লম্পট। সেখানে টানা দুই ঘণ্টা ধরে তার ওপর চালানো হয় পালাক্রমে পাশবিক অত্যাচার। গণধর্ষণের শিকার হয়ে কিশোরী মারাত্মক অসুস্থ ও নিস্তেজ হয়ে পড়লে রাত ৩টার দিকে তাকে অবিন্যস্ত অবস্থায় তার নিজের বাড়ির উঠানে ফেলে রেখে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে দুর্বৃত্তরা।
কিন্তু ততক্ষণে গ্রামের মানুষ লাঠিসোঁটা নিয়ে তৈরি ছিল। পলায়নপর দুর্বৃত্তদের চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে বাঘের মতো ধাওয়া করে জনতা। একটি মোটরসাইকেলসহ হেলাল ও রইস নামের দুই পাষণ্ডকে হাতেনাতে ধরে চলে গণধোলাই। পরে খবর পেয়ে সদরপুর থানা পুলিশ এসে তাদের নিজেদের হেফাজতে নেয়। হাসপাতাল শয্যায় মেয়ের এই দশা দেখে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বাকরুদ্ধ মা চাবুক সুরে দাবি তোলেন, “আমার কোল খালি করতে চেয়েছিল ওরা। আমি এই জানোয়ারদের ফাঁসি চাই!”



















