ঢাকা ০৬:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে রামদার আঘাতে জখম: সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১১:১৪:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫
  • / 515

ফরিদপুর সদরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী আ. রশিদ খান (৬২) কোতোয়ালি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

হামলার ঘটনা ও অভিযোগ

গত ২৯ জুলাই বিকেলে ফরিদপুর সদরের চাঁদপুর ইউনিয়নের আজলবেড়া গ্রামে এই হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগকারী আ. রশিদ খান জানান, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিপক্ষ মহিদ মোল্লার পরিবারের সঙ্গে তাদের জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য সদর এসিল্যান্ড অফিসে একটি মামলা করা হয়। সেই মামলার তদন্ত করতে স্থানীয় ভূমি কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার সময় এই হামলার ঘটনা ঘটে।

আ. রশিদ খানের অভিযোগ অনুযায়ী, ছুটি নিয়ে গ্রামে আসা সেনাসদস্য রাকিব মোল্যা (২৩) এবং তার বাবা মহিদ মোল্যা (৪৫) এর নেতৃত্বে ৪০-৫০ জন লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এই হামলায় সেনাসদস্য রাকিব মোল্যার রামদার কোপে আ. রশিদ খানের বাম পায়ের নিচের অংশ কেটে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

অভিযুক্ত ও মামলার প্রেক্ষাপট

অভিযোগে আ. রশিদ খান জানান, তার কাছে জমির সব কাগজপত্র সঠিক থাকা সত্ত্বেও মহিদ মোল্লার টাকার প্রভাব এবং তার ছেলে রাকিব মোল্লার সরকারি চাকরির দাপটে তারা জোর-জুলুম করে আসছে। তিনি বলেন, মহিদ মোল্লা সুদের ব্যবসা করেন এবং তার ছেলে সেনাবাহিনীতে যোগদানের পর থেকে তারা কাউকে তোয়াক্কা করেন না।

এই ঘটনার পর ভুক্তভোগী আ. রশিদ খান বাদী হয়ে সেনাসদস্য রাকিব মোল্যাকে প্রধান আসামি করে মোট আটজনের নাম উল্লেখসহ আরও ৪০-৫০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

পুলিশের বক্তব্য

এই অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. শামসুর রহমান জানান, অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনি আরও বলেন, এই ঘটনায় দুই পক্ষই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দায়ের করেছে এবং দুটি অভিযোগই তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদ উজ্জামান জানান, দুই পক্ষের অভিযোগই এখনও মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়নি। পুলিশের তদন্ত শেষে এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ফরিদপুরে রামদার আঘাতে জখম: সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

আপডেট সময় : ১১:১৪:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫

ফরিদপুর সদরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী আ. রশিদ খান (৬২) কোতোয়ালি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

হামলার ঘটনা ও অভিযোগ

গত ২৯ জুলাই বিকেলে ফরিদপুর সদরের চাঁদপুর ইউনিয়নের আজলবেড়া গ্রামে এই হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগকারী আ. রশিদ খান জানান, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিপক্ষ মহিদ মোল্লার পরিবারের সঙ্গে তাদের জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য সদর এসিল্যান্ড অফিসে একটি মামলা করা হয়। সেই মামলার তদন্ত করতে স্থানীয় ভূমি কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার সময় এই হামলার ঘটনা ঘটে।

আ. রশিদ খানের অভিযোগ অনুযায়ী, ছুটি নিয়ে গ্রামে আসা সেনাসদস্য রাকিব মোল্যা (২৩) এবং তার বাবা মহিদ মোল্যা (৪৫) এর নেতৃত্বে ৪০-৫০ জন লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এই হামলায় সেনাসদস্য রাকিব মোল্যার রামদার কোপে আ. রশিদ খানের বাম পায়ের নিচের অংশ কেটে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

অভিযুক্ত ও মামলার প্রেক্ষাপট

অভিযোগে আ. রশিদ খান জানান, তার কাছে জমির সব কাগজপত্র সঠিক থাকা সত্ত্বেও মহিদ মোল্লার টাকার প্রভাব এবং তার ছেলে রাকিব মোল্লার সরকারি চাকরির দাপটে তারা জোর-জুলুম করে আসছে। তিনি বলেন, মহিদ মোল্লা সুদের ব্যবসা করেন এবং তার ছেলে সেনাবাহিনীতে যোগদানের পর থেকে তারা কাউকে তোয়াক্কা করেন না।

এই ঘটনার পর ভুক্তভোগী আ. রশিদ খান বাদী হয়ে সেনাসদস্য রাকিব মোল্যাকে প্রধান আসামি করে মোট আটজনের নাম উল্লেখসহ আরও ৪০-৫০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

পুলিশের বক্তব্য

এই অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. শামসুর রহমান জানান, অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনি আরও বলেন, এই ঘটনায় দুই পক্ষই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দায়ের করেছে এবং দুটি অভিযোগই তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদ উজ্জামান জানান, দুই পক্ষের অভিযোগই এখনও মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়নি। পুলিশের তদন্ত শেষে এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।