ঢাকা ০৮:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পুড়ে ছাই ৩৫০ মণ পাট ও মসুরি

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৮:১৬:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
  • / 475

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে একটি পাটের গোডাউনের ওপর পড়ে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। এতে প্রায় ৩৫০ মণ পাট ও ৩০ মণ মসুরি ডালসহ ৩টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আজ শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকাল ৮টার দিকে উপজেলা সদর সালথা বাজার পুরুরা সড়কের পাশে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

ঘটনাস্থল ও ক্ষয়ক্ষতি

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সালথা বাজারের নজরুল ইসলামের পাটের গোডাউনের ওপর দিয়ে অপরিকল্পিতভাবে বিদ্যুতের তার টানানো ছিল। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে হঠাৎ ওই তার ছিঁড়ে গোডাউনের টিনের চালের ওপর পড়ে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তেই আগুন আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে এবং নজরুল ও মাসুদের আরও দুটি দোকান পুড়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, “আগুনে আমার ৩৫০ মণ পাট ও ৩০ মণ মসুরি ডাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে আমার অন্তত ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।”

ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতা

খবর পেয়ে সালথা ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় আড়াই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। সালথা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সাব-অফিসার মো. আব্দুল জলিল বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের উৎপত্তি। অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ২৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্রায় ৫০ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে ফায়ার সার্ভিস।”

বিদ্যুৎ বিভাগের দায় ও প্রশাসনের আশ্বাস

সালথা বাজারের ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে জানান, বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ অপরিকল্পিতভাবে তার টানিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করেছে, যে কারণে মাঝে মাঝেই দুর্ঘটনা ঘটে। তবে সালথা বিদ্যুৎ অফিসের এজিএম মো. রেজাউল করিম দায় অস্বীকার করে বলেন, “আগুন ধরে যাওয়ার পর ওই তার ছিঁড়ে পড়তে পারে। বিষয়টি আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।”

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. দবির উদ্দীন বলেন, “যেহেতু বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তাই আমরা বিদ্যুৎ বিভাগের সাথে কথা বলে বিদ্যুতের লাইনগুলো যাতে সঠিকভাবে স্থাপন করা হয়, সে ব্যাপারে কাজ করব। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, সেদিকে সবাইকে লক্ষ রাখতে হবে। সালথা উপজেলা প্রশাসন সব সময় সবার পাশে থাকবে—ইনশাআল্লাহ্।”

ফরিদপুরে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পুড়ে ছাই ৩৫০ মণ পাট ও মসুরি

আপডেট সময় : ০৮:১৬:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে একটি পাটের গোডাউনের ওপর পড়ে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। এতে প্রায় ৩৫০ মণ পাট ও ৩০ মণ মসুরি ডালসহ ৩টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আজ শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকাল ৮টার দিকে উপজেলা সদর সালথা বাজার পুরুরা সড়কের পাশে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

ঘটনাস্থল ও ক্ষয়ক্ষতি

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সালথা বাজারের নজরুল ইসলামের পাটের গোডাউনের ওপর দিয়ে অপরিকল্পিতভাবে বিদ্যুতের তার টানানো ছিল। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে হঠাৎ ওই তার ছিঁড়ে গোডাউনের টিনের চালের ওপর পড়ে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তেই আগুন আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে এবং নজরুল ও মাসুদের আরও দুটি দোকান পুড়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, “আগুনে আমার ৩৫০ মণ পাট ও ৩০ মণ মসুরি ডাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে আমার অন্তত ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।”

ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতা

খবর পেয়ে সালথা ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় আড়াই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। সালথা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সাব-অফিসার মো. আব্দুল জলিল বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের উৎপত্তি। অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ২৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্রায় ৫০ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে ফায়ার সার্ভিস।”

বিদ্যুৎ বিভাগের দায় ও প্রশাসনের আশ্বাস

সালথা বাজারের ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে জানান, বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ অপরিকল্পিতভাবে তার টানিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করেছে, যে কারণে মাঝে মাঝেই দুর্ঘটনা ঘটে। তবে সালথা বিদ্যুৎ অফিসের এজিএম মো. রেজাউল করিম দায় অস্বীকার করে বলেন, “আগুন ধরে যাওয়ার পর ওই তার ছিঁড়ে পড়তে পারে। বিষয়টি আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।”

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. দবির উদ্দীন বলেন, “যেহেতু বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তাই আমরা বিদ্যুৎ বিভাগের সাথে কথা বলে বিদ্যুতের লাইনগুলো যাতে সঠিকভাবে স্থাপন করা হয়, সে ব্যাপারে কাজ করব। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, সেদিকে সবাইকে লক্ষ রাখতে হবে। সালথা উপজেলা প্রশাসন সব সময় সবার পাশে থাকবে—ইনশাআল্লাহ্।”