ঢাকা ০২:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাঠের বাইরে আসল তারকা:

রক্তে আর্জেন্টিনা: ম্যারাডোনা-মেসির জাদুতে মুগ্ধ প্রভাষক নুসরাত

খেলাধুলা ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ০৩:২০:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
  • / 122

বিশ্বকাপের মাঠের লড়াইয়ে বিশ্বসেরা তারকারা এখন বুটজোড়া পায়ে জড়িয়ে লড়ছেন বিশ্বজয়ের মুকুটের জন্য। গ্যালারি থেকে শুরু করে কোটি কোটি ড্রয়িংরুমে চলছে রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনা। মাঠের সেই উত্তাপের সমান্তরালে ভক্তদের ভেতরের জমানো আবেগ ও ভালোবাসার গল্প তুলে ধরতেই ‘দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ’-এর বিশেষ আয়োজন—’মাঠের বাইরে আসল তারকা’। আজ আমাদের এই আয়োজনের অতিথি আর্জেন্টিনার আকাশী-সাদা রঙের একনিষ্ঠ ভক্ত, মিরপুরের বাসিন্দা এবং পেশায় দর্শনের প্রভাষক নুসরাত হাশেমী।

নুসরাত হাশেমীর আলবিসেলেস্তে তথা আর্জেন্টিনা দলের প্রতি ভালোবাসার গল্পটা শুরু হয়েছিল একদম নাবালক বয়সে, আজ থেকে বহু বছর আগে ঐতিহাসিক ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে। তখন তিনি এতটাই ছোট যে খেলা বলতে কেবল বুঝতেন পুতুল খেলা কিংবা রান্নাবাটি। কিন্তু সেই সময়েই পরিবারের বড়দের মাঝে ফুটবল নিয়ে এক অদ্ভুত আকর্ষণ এবং কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনার প্রতি তীব্র উন্মাদনা দেখেছিলেন। বড়দের সেই নিখাদ আবেগ দেখেই অবচেতন মনে আর্জেন্টিনার প্রতি আকৃষ্ট হন তিনি।

তবে ফুটবলকে নিজের বোধ দিয়ে বোঝা এবং ভালোলাগার বাছবিচার করার পরিপক্বতা আসে ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপে। সেই আসরের ফাইনালে পেনাল্টিতে আর্জেন্টিনার বিতর্কিত হারের পর মাঠের মাঝেই ম্যারাডোনার সেই কান্না এবং চোখ ভরা জল ছোট্ট নুসরাতের ভেতরের ফুটবল আবেগকে তীব্রভাবে নাড়া দিয়েছিল। ম্যারাডোনার সেই ব্যথাতুর চোখের জল দেখেই তিনি আর্জেন্টিনাকে মনে-প্রাণে ভালোবাসতে শুরু করেন। নুসরাত হাশেমীর ভাষায়, “এটি আসলে রক্তে মিশে যাওয়ার মতো একটা বিষয় হয়ে গেছে। দল ভালো খেলুক বা মন্দ, আমার কাছে আর্জেন্টিনা দলের কোনো বিকল্প নেই।”

ম্যারাডোনা ফুটবল ভালোবাসতে শিখিয়েছিলেন, আর এই যুগে এসে লিওনেল মেসি সেই ভালোবাসাকে মাঠে সগৌরবে ধরে রেখেছেন বলে মনে করেন এই দর্শনের শিক্ষিকা। মাঠে মেসির অতিমানবীয় ড্রিবলিং, নিখুঁত পাসিং সেন্স এবং জাদুকরী বাঁ-পায়ের ফিনিশিং যেমন তার চোখ জুড়িয়ে দেয়, তেমনি মাঠের বাইরে একজন বিশ্বসেরা মহাতারকা হয়েও মেসির শান্ত, নম্র ও অহংকারহীন ব্যক্তিত্ব তাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করে। পাশাপাশি আর্জেন্টিনার বর্তমান দলটির অসাধারণ ‘টিম স্পিরিট’ বা দলগত একতা তাকে টানে, যেখানে মাঠের প্রতিটি খেলোয়াড় মেসির জন্য এবং দেশের জন্য নিজেদের উজাড় করে লড়ে।

বিশ্বকাপের চলমান ডামাডোলে নিজের ফুটবল স্মৃতির পাতা ওল্টাতে গিয়ে নুসরাত জানান, ১৯৯০ সালের ফাইনালে ম্যারাডোনার কান্নার সাথে একজন শিশুর কেঁদে ফেলার স্মৃতি আজও তার মনে গভীর দাগ কেটে আছে। তবে সেই কান্নার ঋণ যেন শোধ হয়েছে ২০২২ সালে। আর্জেন্টিনার দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সেই বিশ্বজয়ের পর যে তৃপ্তি ও আনন্দ-উল্লাসে তিনি মেতেছিলেন, তা তার জীবনের অন্যতম সেরা স্মরণীয় ঘটনা।

চলমান বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার শিরোপা ধরে রাখার মিশনে নুসরাত হাশেমী অত্যন্ত আশাবাদী। তিনি মনে করেন, এবারের বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনার মূল চালিকাশক্তি হবেন স্বয়ং লিওনেল মেসি, যার অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব দলকে পথ দেখাবে। এর পাশাপাশি মাঝমাঠে রদ্রিগো ডি পল ও অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার খেলা নিয়ন্ত্রণে এবং আক্রমণভাগে হুলিয়ান আলভারেজ বড় ভূমিকা রাখবেন। আর গোলপোস্টের নিচে ‘বাজপাখি’ খ্যাত এমিলিয়ানো মার্টিনেজ (দিবু) বরাবরের মতোই দলের প্রাচীর হয়ে দাঁড়াবেন বলে দৃঢ় বিশ্বাস এই ভক্তের।

দর্শনের মারপ্যাঁচে জীবনকে খোঁজা মানুষটির ফুটবল দর্শনও বেশ সরল—দলের প্রতি ভালোবাসাটা এখানে শর্তহীন। নুসরাত হাশেমীর মতো কোটি ভক্তের এই রক্তে মিশে যাওয়া প্রার্থনাই চলমান বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার মূল শক্তি। ‘দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ’-এর পক্ষ থেকে নুসরাত হাশেমীর জন্য রইল আন্তরিক শুভকামনা।

মাঠের বাইরে আসল তারকা:

রক্তে আর্জেন্টিনা: ম্যারাডোনা-মেসির জাদুতে মুগ্ধ প্রভাষক নুসরাত

আপডেট সময় : ০৩:২০:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

বিশ্বকাপের মাঠের লড়াইয়ে বিশ্বসেরা তারকারা এখন বুটজোড়া পায়ে জড়িয়ে লড়ছেন বিশ্বজয়ের মুকুটের জন্য। গ্যালারি থেকে শুরু করে কোটি কোটি ড্রয়িংরুমে চলছে রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনা। মাঠের সেই উত্তাপের সমান্তরালে ভক্তদের ভেতরের জমানো আবেগ ও ভালোবাসার গল্প তুলে ধরতেই ‘দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ’-এর বিশেষ আয়োজন—’মাঠের বাইরে আসল তারকা’। আজ আমাদের এই আয়োজনের অতিথি আর্জেন্টিনার আকাশী-সাদা রঙের একনিষ্ঠ ভক্ত, মিরপুরের বাসিন্দা এবং পেশায় দর্শনের প্রভাষক নুসরাত হাশেমী।

নুসরাত হাশেমীর আলবিসেলেস্তে তথা আর্জেন্টিনা দলের প্রতি ভালোবাসার গল্পটা শুরু হয়েছিল একদম নাবালক বয়সে, আজ থেকে বহু বছর আগে ঐতিহাসিক ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে। তখন তিনি এতটাই ছোট যে খেলা বলতে কেবল বুঝতেন পুতুল খেলা কিংবা রান্নাবাটি। কিন্তু সেই সময়েই পরিবারের বড়দের মাঝে ফুটবল নিয়ে এক অদ্ভুত আকর্ষণ এবং কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনার প্রতি তীব্র উন্মাদনা দেখেছিলেন। বড়দের সেই নিখাদ আবেগ দেখেই অবচেতন মনে আর্জেন্টিনার প্রতি আকৃষ্ট হন তিনি।

তবে ফুটবলকে নিজের বোধ দিয়ে বোঝা এবং ভালোলাগার বাছবিচার করার পরিপক্বতা আসে ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপে। সেই আসরের ফাইনালে পেনাল্টিতে আর্জেন্টিনার বিতর্কিত হারের পর মাঠের মাঝেই ম্যারাডোনার সেই কান্না এবং চোখ ভরা জল ছোট্ট নুসরাতের ভেতরের ফুটবল আবেগকে তীব্রভাবে নাড়া দিয়েছিল। ম্যারাডোনার সেই ব্যথাতুর চোখের জল দেখেই তিনি আর্জেন্টিনাকে মনে-প্রাণে ভালোবাসতে শুরু করেন। নুসরাত হাশেমীর ভাষায়, “এটি আসলে রক্তে মিশে যাওয়ার মতো একটা বিষয় হয়ে গেছে। দল ভালো খেলুক বা মন্দ, আমার কাছে আর্জেন্টিনা দলের কোনো বিকল্প নেই।”

ম্যারাডোনা ফুটবল ভালোবাসতে শিখিয়েছিলেন, আর এই যুগে এসে লিওনেল মেসি সেই ভালোবাসাকে মাঠে সগৌরবে ধরে রেখেছেন বলে মনে করেন এই দর্শনের শিক্ষিকা। মাঠে মেসির অতিমানবীয় ড্রিবলিং, নিখুঁত পাসিং সেন্স এবং জাদুকরী বাঁ-পায়ের ফিনিশিং যেমন তার চোখ জুড়িয়ে দেয়, তেমনি মাঠের বাইরে একজন বিশ্বসেরা মহাতারকা হয়েও মেসির শান্ত, নম্র ও অহংকারহীন ব্যক্তিত্ব তাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করে। পাশাপাশি আর্জেন্টিনার বর্তমান দলটির অসাধারণ ‘টিম স্পিরিট’ বা দলগত একতা তাকে টানে, যেখানে মাঠের প্রতিটি খেলোয়াড় মেসির জন্য এবং দেশের জন্য নিজেদের উজাড় করে লড়ে।

বিশ্বকাপের চলমান ডামাডোলে নিজের ফুটবল স্মৃতির পাতা ওল্টাতে গিয়ে নুসরাত জানান, ১৯৯০ সালের ফাইনালে ম্যারাডোনার কান্নার সাথে একজন শিশুর কেঁদে ফেলার স্মৃতি আজও তার মনে গভীর দাগ কেটে আছে। তবে সেই কান্নার ঋণ যেন শোধ হয়েছে ২০২২ সালে। আর্জেন্টিনার দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সেই বিশ্বজয়ের পর যে তৃপ্তি ও আনন্দ-উল্লাসে তিনি মেতেছিলেন, তা তার জীবনের অন্যতম সেরা স্মরণীয় ঘটনা।

চলমান বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার শিরোপা ধরে রাখার মিশনে নুসরাত হাশেমী অত্যন্ত আশাবাদী। তিনি মনে করেন, এবারের বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনার মূল চালিকাশক্তি হবেন স্বয়ং লিওনেল মেসি, যার অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব দলকে পথ দেখাবে। এর পাশাপাশি মাঝমাঠে রদ্রিগো ডি পল ও অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার খেলা নিয়ন্ত্রণে এবং আক্রমণভাগে হুলিয়ান আলভারেজ বড় ভূমিকা রাখবেন। আর গোলপোস্টের নিচে ‘বাজপাখি’ খ্যাত এমিলিয়ানো মার্টিনেজ (দিবু) বরাবরের মতোই দলের প্রাচীর হয়ে দাঁড়াবেন বলে দৃঢ় বিশ্বাস এই ভক্তের।

দর্শনের মারপ্যাঁচে জীবনকে খোঁজা মানুষটির ফুটবল দর্শনও বেশ সরল—দলের প্রতি ভালোবাসাটা এখানে শর্তহীন। নুসরাত হাশেমীর মতো কোটি ভক্তের এই রক্তে মিশে যাওয়া প্রার্থনাই চলমান বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার মূল শক্তি। ‘দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ’-এর পক্ষ থেকে নুসরাত হাশেমীর জন্য রইল আন্তরিক শুভকামনা।