গুপ্তধনের আশায় ফরিদপুরে জমিদার বাড়িতে তছনছ: প্রত্নসম্পদ লুট
- আপডেট সময় : ০৫:০২:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
- / 281
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঐতিহাসিক বাইশরশি জমিদার বাড়িতে গুপ্তধনের আশায় চলছে ব্যাপক খনন ও প্রত্নসম্পদ লুটের মহোৎসব। প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো এই জমিদার বাড়ির ‘বউঘাট’ (নারীদের স্নানের স্থান) খুঁড়ে তছনছ করছে একটি অসাধু চক্র। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নাকের ডগায় বসেই একটি চক্র মূল্যবান প্রত্নসামগ্রী তুলে নিয়ে যাচ্ছে।
সরেজমিন চিত্র:
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বউঘাটের নিচের অংশে খনন করে মাটি তুলে নেওয়া হয়েছে। খননকৃত স্থানে পড়ে আছে পাথরের মূর্তির ভাঙা অংশ। এছাড়া জমিদারদের ব্যবহৃত পাথরের থালা, পূজার ঘটিসহ বিভিন্ন তৈজসপত্রের ভাঙা অংশ চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে।
লুটপাটের কৌশল:
সম্প্রতি পুকুরের পানি শুকিয়ে গেলে সুযোগ নেয় চক্রটি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দিনের বেলাতেই কয়েকজন ব্যক্তি মাটি তুলে পাশের পুকুরে নিয়ে ধুয়ে সেখান থেকে মূল্যবান সামগ্রী সংগ্রহ করছে। তাদের হাতে স্বর্ণালঙ্কার, পাথরের দাবার গুটি, তামা ও রূপার মুদ্রাসহ বিভিন্ন প্রাচীন নিদর্শন দেখা গেছে। পরিচয় জানতে চাইলে তারা নিজেদের গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর থেকে আসা বলে দাবি করে।
জমিদার বাড়ির সংক্ষিপ্ত ইতিহাস:
ইতিহাস সূত্রে জানা যায়, ১৭শ শতকের গোড়ায় লবণ ব্যবসার মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয় সাহা পরিবার। পরবর্তীতে তারা ২২টি পরগনা ক্রয় করে জমিদারি প্রতিষ্ঠা করে। ১৮শ শতক থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত ভারতবর্ষজুড়ে এই পরিবারের ব্যাপক খ্যাতি ছিল। একসময় ৫০ একর জমির ওপর বাগানবাড়ি ও ছোট-বড় ১৪টি দালানকোঠা থাকলেও বর্তমানে অনেক অংশই দখল হয়ে গেছে।
প্রশাসনের পদক্ষেপ:
জমিদার বাড়ির ভেতরে উপজেলা ভূমি অফিস ও বিদ্যুৎ অফিসের কার্যালয় থাকা সত্ত্বেও ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটির নিরাপত্তা নিয়ে উঠেছে বড় প্রশ্ন। সদরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিফাত আনজুম পিয়া বলেন, “খননের বিষয়টি আমি সদ্য অবগত হয়েছি। দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অরক্ষিত এই ঐতিহাসিক নিদর্শন রক্ষায় দ্রুত সরকারের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।




















