নবজাতক চুরির নেপথ্যে জন্মদাত্রী! যৌথ পুলিশি অ্যাকশনে উদ্ধার শিশু
- আপডেট সময় : ০৯:২২:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬
- / 103
বোরকা পরা কোনো কাল্পনিক চোরের গল্প নয়, বরং পারিবারিক অশান্তির জেরে নিজের নাড়িছেঁড়া ধনকে বুকে চেপে ঘর ছেড়েছিলেন এক মা। মাগুরা সদর উপজেলার কুল্লিয়া গ্রামে তিন মাসের এক নবজাতক ‘চুরি’ হওয়ার যে শোরগোল রবিবাসরীয় সকালে তৈরি হয়েছিল, পুলিশের সাইবার ক্রাইম সেলের তৎপরতায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তা এক নাটকীয় ও পারিবারিক ট্র্যাজেডিতে রূপ নিল। সিসিটিভি ফুটেজ ও আধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধনে চার জেলার পুলিশের যৌথ অভিযানে অবশেষে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ফেরিঘাট থেকে নিরাপদে উদ্ধার হলো শিশুটি।
রোববার (২ আগস্ট) সকালের এই নিখোঁজ রহস্যের অন্তরালে লুকিয়ে থাকা পারিবারিক কলহ ও পুলিশের রুদ্ধশ্বাস অভিযানের বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো:
কুল্লিয়া গ্রামের বোরকা নাটক ও চার জেলার পুলিশি জাল
ঘটনার সূত্রপাত রোববার সকাল ৯টা নাগাদ। মাগুরা সদর থানার কুচিয়ামোড়া ইউনিয়নের কুল্লিয়া গ্রামের বাসিন্দা আলমগীর (২৩) হন্তদন্ত হয়ে থানায় এসে অভিযোগ করেন, তিনি মাঠে কাজ করতে গিয়েছিলেন এবং তাঁর স্ত্রী পুকুরঘাটে কাপড় ধুতে যান। এই সুযোগে এক বোরকা পরিহিত অপরিচিত নারী তাঁদের ৩ মাস বয়সী ছেলে নূর ইসলামকে ঘর থেকে চুরি করে নিয়ে গেছে।
একটি দুধের শিশু চুরির খবর ছড়াতেই মাগুরার পুলিশ মহলে শোরগোল পড়ে যায়। ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে পুলিশ সুপারের সরাসরি নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) থান্দার খায়রুল হাসান, পিপিএম-এর নেতৃত্বে কোমর বেঁধে মাঠে নামে জেলা পুলিশের চৌকস সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল। মহাসড়কের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সুনিপুণ ব্যবহারে পুলিশ জানতে পারে, বোরকা পরিহিত সেই নারী শিশুটিকে নিয়ে ঢাকার দিকে চলন্ত বাসে রওনা হয়েছেন।
মুহূর্তের মধ্যে বার্তা চলে যায় রাজবাড়ী, মানিকগঞ্জ ও ফরিদপুর পুলিশে। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় ওই নারীর অবস্থান শনাক্ত হওয়ামাত্রই মাগুরা, মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী জেলা পুলিশ ও ফরিদপুর নৌ পুলিশের এক অভূতপূর্ব সমন্বিত যৌথ জাল পাতা হয়। অবশেষে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকা থেকে শিশুটিকে সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে বোরকা পরিহিত সেই নারীকে হেফাজতে নেওয়া হয়।
চোর যখন স্বয়ং মা; কলহের চরম পরিণতি
পুলিশের জেরার মুখে বোরকা পরা সেই ‘রহস্যময়ী নারী’র আসল পরিচয় ফাঁস হতেই তদন্তকারীদের চোখ চড়কগাছ। ওই নারী নিজের নাম কোহিনূর বেগম বলে স্বীকার করেন এবং জানান, তিনি অন্য কেউ নন, খোদ উদ্ধার হওয়া শিশুটির জন্মদাত্রী মা!
স্বীকারোক্তিতে তিনি জানান, স্বামী আলমগীরের সাথে দীর্ঘদিন ধরে তাঁর তীব্র পারিবারিক কলহ ও মানসিক অশান্তি চলছিল। ঘটনার দিন সকালে স্বামীর ওপর প্রচণ্ড অভিমান ও ক্ষোভ থেকে কাউকে কিছু না জানিয়ে নিজের ৩ মাসের সন্তানকে কোলে নিয়ে তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন। আর লোকলজ্জা ও নিজের পিঠ বাঁচাতে স্বামী আলমগীর থানায় এসে ‘বোরকা পরা চোরের’ কাল্পনিক গল্প ফেঁদেছিলেন। বর্তমানে শিশুটি তার মায়ের হেফাজতেই নিরাপদ রয়েছে এবং পুলিশ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের কথা জানিয়েছে।



















