মিম্বারে বসেই জামায়াতের চিঠি ছিঁড়ে ফেললেন খতিব
- আপডেট সময় : ১২:১৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫
- / 441
রাজধানীর উত্তরার ১২ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত বায়তুন নূর জামে মসজিদের খতিব মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমীকে জুমার খুতবায় জামায়াতে ইসলামী বিরোধী বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে একটি সতর্কতামূলক চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তবে, এই চিঠির জবাবে আজ জুমার আগে খতিব সেই চিঠিটি মিম্বারে বসেই প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান করে ছিঁড়ে ফেলেছেন।
গত ১৬ অক্টোবর উত্তরা পশ্চিম থানা জামায়াতে ইসলামীর দপ্তর সম্পাদক জি. এম. আসলামের স্বাক্ষরিত চিঠিটি শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পক্ষে-বিপক্ষে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
জামায়াতের চিঠিতে যা ছিল অভিযোগ
জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, বায়তুন নূর জামে মসজিদ যেহেতু একটি গুরুত্বপূর্ণ ও নিরপেক্ষ স্থান, তাই খতিবের উচিত কুরআন-হাদীসের আলোকে হেদায়েতমূলক নসিহা দেওয়া।
বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য: চিঠিতে দাবি করা হয়, গত ১০ অক্টোবর জুমার খুতবায় খতিব বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে বিভ্রান্তিমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য দিয়েছেন।
অনৈক্য সৃষ্টির অভিযোগ: জামায়াত অভিযোগ করে, খতিবের এই বক্তব্য হীনমন্যতা ও রাজনৈতিক পক্ষপাতমূলক, যা সমাজে অনৈক্য, বিভেদ ও উত্তেজনা সৃষ্টি করছে।
সতর্কতা: পত্রে অনতিবিলম্বে ওই বক্তব্য প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের বক্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়। অন্যথায়, উদ্ভূত যেকোনো পরিস্থিতির দায়ভার খতিব ও মসজিদ কমিটিকে নিতে হবে বলে সতর্ক করা হয়।
রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা: জামায়াত মনে করে, খতিব নাগরিক হিসেবে যেকোনো দলের সমর্থন করতেই পারেন, কিন্তু মিম্বারে বসে কোনো দলের এজেন্ডা প্রচার করা শোভন নয়।
খতিবের প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান
তবে আজ জুমার নামাজের আগে মিম্বারে বসেই খতিব মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমী জামায়াতের সেই সতর্কতামূলক চিঠিটি প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান করেন।
খুতবায় মন্তব্য: প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, জুমার খুতবায় তিনি বলেন, “রোজা আর পূজা এক নয়। গত শুক্রবারেও বলেছি, আজ আবারও বলছি-আপনারা সংযত ও সংশোধন হোন, তাওবা পড়ুন।”
জনতার সমর্থন: এরপর তিনি চিঠিটি মুসল্লিদের সামনে উপস্থাপন করেন, যা প্রত্যাখ্যান করে উপস্থিত মুসল্লি ও মসজিদ কমিটির সদস্যরা ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার’ ধ্বনি তোলেন। পরে খতিব নিজ হাতে চিঠিটি ছিঁড়ে ফেলেন।
চিঠির অনুলিপি ডিয়ারাবাড়ী আর্মি ক্যাম্প, উপ-পুলিশ কমিশনার, উত্তরা পশ্চিম থানা এবং ১২ নম্বর সেক্টর কল্যাণ সমিতিসহ বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।





















