ঢাকা ০২:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খালেদা জিয়াকে ‘কালো মানিক’ উপহার দিতে চাওয়া সেই সোহাগ গ্রেপ্তার

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৮:০৬:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
  • / 59

রাজনীতির আঙিনায় রাতারাতি সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন তিনি। দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে নিজের আদরের ‘কালো মানিক’ নামের একটি বিশাল গরু উপহার দিতে চেয়ে খবরের শিরোনামে উঠে এসেছিলেন পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের সোহাগ মৃধা। কিন্তু সেই চর্চার আলো নিভতেই এবার একেবারে শ্রীঘরের অন্ধকারে ঠাঁই হলো তাঁর। তবে কোনো রাজনৈতিক কারণে নয়, মারামারি এবং পর্নোগ্রাফি আইনের এক গুরুতর মামলায় মির্জাগঞ্জ থানার পুলিশ রবিবার (১৪ জুন) তাঁকে গ্রেফতার করেছে।

উপজেলার উত্তর ঝাটিবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা সোহাগের এই আকস্মিক পতনে শোরগোল পড়ে গিয়েছে এলাকায়। মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামান গ্রেফতারির খবরটি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, আইনি প্রক্রিয়া মেনেই এদিন ধৃতকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

উপহারের চমক ও খাঁচাবন্দি বর্তমান:

গত বছর কোরবানি ঈদের আবহে খালেদা জিয়াকে ভালোবেসে নিজের পালিত গরু উপহার দেওয়ার ঘোষণা করে নেটমাধ্যমে সাড়া ফেলেছিলেন এই যুবক। খোদ বিএনপি নেত্রী সেই উপহার সাদরে গ্রহণ করলেও, সোহাগের পরিবারের আর্থিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে পরম স্নেহে গরুটি আবার তাঁর পরিবারকেই ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। চলতি পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সেই ‘কালো মানিক’ বিক্রিও করে দিয়েছিলেন সোহাগ। কিন্তু ‘কালো মানিকে’র সেই ম্যাজিক এবার আর আইনের হাত থেকে বাঁচাতে পারল না তাঁকে।

পুলিশের অন্দরমহল সূত্রে জানা গিয়েছে, সোহাগের বিরুদ্ধে মির্জাগঞ্জ থানায় একটি মারামারি এবং একটি পর্নোগ্রাফি আইনের মামলা— সব মিলিয়ে মোট দুটি মামলা ঝুলছিল। এর মধ্যে মারামারির মামলায় তিনি এক নম্বর এজাহারভুক্ত মূল আসামি এবং পর্নোগ্রাফি মামলায় সহযোগী আসামি হিসেবে অভিযুক্ত ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরেই পুলিশের নজরে ছিলেন তিনি। অবশেষে রবিবার সুযোগ বুঝেই তাঁর ডেরায় হানা দিয়ে তাঁকে পাকড়াও করে পুলিশ।

আইনের খাঁচায় বন্দি:

থানার হাজতে বন্দি থাকায় এই বিষয়ে সোহাগ মৃধার কোনো বক্তব্য মেলেনি। তবে মির্জাগঞ্জ থানার ওসি মো. তৌহিদুজ্জামান স্পষ্ট জানিয়েছেন, “মারামারি ও পর্নোগ্রাফি আইনের সুনির্দিষ্ট মামলাতেই সোহাগ মৃধাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আজকেই তাঁকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।” রাজনীতির মঞ্চে নেত্রীকে উপহারের চমক দেওয়া যুবক যে এভাবে পর্নোগ্রাফি ও মারামারির মতো গুরুতর অপরাধের জালে জড়িয়ে শ্রীঘরে যাবেন, তা হয়তো ভাবতেও পারেনি পটুয়াখালীর ওয়াকিবহাল মহল।

খালেদা জিয়াকে ‘কালো মানিক’ উপহার দিতে চাওয়া সেই সোহাগ গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ০৮:০৬:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

রাজনীতির আঙিনায় রাতারাতি সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন তিনি। দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে নিজের আদরের ‘কালো মানিক’ নামের একটি বিশাল গরু উপহার দিতে চেয়ে খবরের শিরোনামে উঠে এসেছিলেন পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের সোহাগ মৃধা। কিন্তু সেই চর্চার আলো নিভতেই এবার একেবারে শ্রীঘরের অন্ধকারে ঠাঁই হলো তাঁর। তবে কোনো রাজনৈতিক কারণে নয়, মারামারি এবং পর্নোগ্রাফি আইনের এক গুরুতর মামলায় মির্জাগঞ্জ থানার পুলিশ রবিবার (১৪ জুন) তাঁকে গ্রেফতার করেছে।

উপজেলার উত্তর ঝাটিবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা সোহাগের এই আকস্মিক পতনে শোরগোল পড়ে গিয়েছে এলাকায়। মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামান গ্রেফতারির খবরটি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, আইনি প্রক্রিয়া মেনেই এদিন ধৃতকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

উপহারের চমক ও খাঁচাবন্দি বর্তমান:

গত বছর কোরবানি ঈদের আবহে খালেদা জিয়াকে ভালোবেসে নিজের পালিত গরু উপহার দেওয়ার ঘোষণা করে নেটমাধ্যমে সাড়া ফেলেছিলেন এই যুবক। খোদ বিএনপি নেত্রী সেই উপহার সাদরে গ্রহণ করলেও, সোহাগের পরিবারের আর্থিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে পরম স্নেহে গরুটি আবার তাঁর পরিবারকেই ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। চলতি পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সেই ‘কালো মানিক’ বিক্রিও করে দিয়েছিলেন সোহাগ। কিন্তু ‘কালো মানিকে’র সেই ম্যাজিক এবার আর আইনের হাত থেকে বাঁচাতে পারল না তাঁকে।

পুলিশের অন্দরমহল সূত্রে জানা গিয়েছে, সোহাগের বিরুদ্ধে মির্জাগঞ্জ থানায় একটি মারামারি এবং একটি পর্নোগ্রাফি আইনের মামলা— সব মিলিয়ে মোট দুটি মামলা ঝুলছিল। এর মধ্যে মারামারির মামলায় তিনি এক নম্বর এজাহারভুক্ত মূল আসামি এবং পর্নোগ্রাফি মামলায় সহযোগী আসামি হিসেবে অভিযুক্ত ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরেই পুলিশের নজরে ছিলেন তিনি। অবশেষে রবিবার সুযোগ বুঝেই তাঁর ডেরায় হানা দিয়ে তাঁকে পাকড়াও করে পুলিশ।

আইনের খাঁচায় বন্দি:

থানার হাজতে বন্দি থাকায় এই বিষয়ে সোহাগ মৃধার কোনো বক্তব্য মেলেনি। তবে মির্জাগঞ্জ থানার ওসি মো. তৌহিদুজ্জামান স্পষ্ট জানিয়েছেন, “মারামারি ও পর্নোগ্রাফি আইনের সুনির্দিষ্ট মামলাতেই সোহাগ মৃধাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আজকেই তাঁকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।” রাজনীতির মঞ্চে নেত্রীকে উপহারের চমক দেওয়া যুবক যে এভাবে পর্নোগ্রাফি ও মারামারির মতো গুরুতর অপরাধের জালে জড়িয়ে শ্রীঘরে যাবেন, তা হয়তো ভাবতেও পারেনি পটুয়াখালীর ওয়াকিবহাল মহল।