ঢাকা ১১:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘৫০ লাখ চাঁদা না দিলে গুলি’ ফরিদপুরে সাবেক চেয়ারম্যানকে পিস্তল ঠেকানোর অভিযোগ

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১২:২১:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / 419

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিলেই খড়্গ নেমে আসে ঘাড়ে! প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হলে দলবল সমেত গুণ্ডাবাহিনীর দাবি মেটাতে হবে, নয়তো সোজা কবরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে—এমনই পৈশাচিক ও রোমহর্ষক কায়দায় হত্যার হুমকির অভিযোগ উঠেছে। ফরিদপুরের ভাঙ্গায় প্রকাশ্য দিবালোকে পিস্তল ঠেকিয়ে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির চাঞ্চল্যকর ঘটনায় সাবেক এক ইউপি চেয়ারম্যানের সংবাদ সম্মেলন ও থানায় লিখিত এজাহার ঘিরে গোটা এলাকায় শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক তোলপাড়।

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার নাছিরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে গেলে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে—এমন চাঞ্চল্যকর ও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অস্ত্র উঁচিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার ঘটনায় ভুক্তভোগী সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও আসন্ন নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. নুরে আলম সিদ্দিকী (লাভলু) ভাঙ্গা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ (এজাহার) দায়ের করেছেন।

অভিযোগে প্রধানত সামিউর রহমান মিঠুসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে ভাঙ্গা দক্ষিণপাড়া বাসস্ট্যান্ড-সংলগ্ন ভাঙ্গা প্রেস ক্লাবে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য প্রকাশ্যে আনেন ভুক্তভোগী সাবেক চেয়ারম্যান।

দরগাবাজারে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করার রোমহর্ষক বর্ণনা

সংবাদ সম্মেলনে এবং থানার এজাহারে মো. নুরে আলম সিদ্দিকী লাভলু জানান, আসন্ন ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই একটি প্রভাবশালী চক্র তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৫ অক্টোবর অভিযুক্তদের একজন সামিউর রহমান মিঠু মোবাইল ফোনে তাকে নাছিরাবাদ ইউনিয়নের দরগাবাজারে ডেকে পাঠান।

সেখানে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই সামিউর রহমান মিঠু ও জহুরুল মুন্সিসহ অন্য আসামিরা তাকে ঘিরে ধরেন। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় আসামিরা তাদের কোমরে থাকা পিস্তল বের করে সরাসরি তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তাক করেন।

সাবেক চেয়ারম্যান লাভলু আক্ষেপ করে বলেন, “আসামিরা আমাকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন—আগামী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হলে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে, অন্যথায় গুলি করে হত্যা করা হবে। সৌভাগ্যবশত সে সময় আশপাশের স্থানীয় লোকজন দৌড়ে এগিয়ে এলে আসামিরা পালিয়ে প্রাণরক্ষা করে।” অতীতের কয়েকটি মারধর ও অস্ত্রবাজির কথা উল্লেখ করে তিনি ও তার পরিবার এখন চরম নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছেন বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

অভিযুক্তের সাফাই: “চাঁদাবাজির প্রশ্নই আসে না, সব আধিপত্যের লড়াই”

তবে এমন সব গুরুতর অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে অভিযুক্ত সামিউর রহমান দাবি করেন, এটি তার বিরুদ্ধে একটি সাজানো চক্রান্ত। তিনি পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলেন, “৫০ লাখ তো দূরের কথা, ১০ টাকা চাঁদাবাজির প্রমাণ যদি কেউ দিতে পারে, আমি দেশ ছেড়ে চিরতরে চলে যাব। বিএনপি করার অপরাধে আমাকে ১২ বছর সৌদি আরবে একপ্রকার নির্বাসিত জীবন কাটাতে হয়েছে, সেখানে আমার প্রতিষ্ঠিত ব্যবসা রয়েছে। এত দূর থেকে এসে আমি কেন এই নিকৃষ্ট কাজ করতে যাব?”

ঘটনার পেছনের আসল কারণ ব্যাখ্যা করে সামিউর রহমান আরও দাবি করেন, “নুরে আলম সিদ্দিকী আমার শয্যাশায়ী বড় চাচা আবুল কালাম আজাদ সাহেবের সঙ্গে চরম বেয়াদবি করেছেন। দরগাবাজারে দেখা হলে আমি কেবল তার কাছে ক্ষমা চাইতে বলেছিলাম। পিস্তল দিয়ে হুমকির যে কথা বলা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি মাত্র দুদিন আগে বিদেশ থেকে এসেছি, অস্ত্র কোথায় পাব? আসল কথা হলো, আমাদের পরিবার এলাকার একটি প্রভাবশালী পরিবার। আমাদের সমর্থন ছাড়া কেউ এই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান হতে পারবেন না। মূলত সেই সমর্থন আদায়ের জন্যই তিনি এসব নাটক সাজাচ্ছেন।”

উল্লেখ্য, স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সামিউর রহমানের চাচা আবুল কালাম আজাদ ২০২১ সালের ইউপি নির্বাচনে নাছিরাবাদ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত ‘নৌকা’ প্রতীকের প্রার্থী ছিলেন।

প্রশাসনের বক্তব্য ও আইনি পদক্ষেপ

ঘটনার পর ভুক্তভোগী সাবেক চেয়ারম্যান ভাঙ্গা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং তার পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানান।

এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, “সাবেক চেয়ারম্যান মো. নুরে আলম সিদ্দিকী লাভলুর পক্ষ থেকে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ বা এজাহার জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।”

‘৫০ লাখ চাঁদা না দিলে গুলি’ ফরিদপুরে সাবেক চেয়ারম্যানকে পিস্তল ঠেকানোর অভিযোগ

আপডেট সময় : ১২:২১:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিলেই খড়্গ নেমে আসে ঘাড়ে! প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হলে দলবল সমেত গুণ্ডাবাহিনীর দাবি মেটাতে হবে, নয়তো সোজা কবরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে—এমনই পৈশাচিক ও রোমহর্ষক কায়দায় হত্যার হুমকির অভিযোগ উঠেছে। ফরিদপুরের ভাঙ্গায় প্রকাশ্য দিবালোকে পিস্তল ঠেকিয়ে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির চাঞ্চল্যকর ঘটনায় সাবেক এক ইউপি চেয়ারম্যানের সংবাদ সম্মেলন ও থানায় লিখিত এজাহার ঘিরে গোটা এলাকায় শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক তোলপাড়।

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার নাছিরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে গেলে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে—এমন চাঞ্চল্যকর ও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অস্ত্র উঁচিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার ঘটনায় ভুক্তভোগী সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও আসন্ন নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. নুরে আলম সিদ্দিকী (লাভলু) ভাঙ্গা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ (এজাহার) দায়ের করেছেন।

অভিযোগে প্রধানত সামিউর রহমান মিঠুসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে ভাঙ্গা দক্ষিণপাড়া বাসস্ট্যান্ড-সংলগ্ন ভাঙ্গা প্রেস ক্লাবে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য প্রকাশ্যে আনেন ভুক্তভোগী সাবেক চেয়ারম্যান।

দরগাবাজারে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করার রোমহর্ষক বর্ণনা

সংবাদ সম্মেলনে এবং থানার এজাহারে মো. নুরে আলম সিদ্দিকী লাভলু জানান, আসন্ন ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই একটি প্রভাবশালী চক্র তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৫ অক্টোবর অভিযুক্তদের একজন সামিউর রহমান মিঠু মোবাইল ফোনে তাকে নাছিরাবাদ ইউনিয়নের দরগাবাজারে ডেকে পাঠান।

সেখানে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই সামিউর রহমান মিঠু ও জহুরুল মুন্সিসহ অন্য আসামিরা তাকে ঘিরে ধরেন। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় আসামিরা তাদের কোমরে থাকা পিস্তল বের করে সরাসরি তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তাক করেন।

সাবেক চেয়ারম্যান লাভলু আক্ষেপ করে বলেন, “আসামিরা আমাকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন—আগামী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হলে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে, অন্যথায় গুলি করে হত্যা করা হবে। সৌভাগ্যবশত সে সময় আশপাশের স্থানীয় লোকজন দৌড়ে এগিয়ে এলে আসামিরা পালিয়ে প্রাণরক্ষা করে।” অতীতের কয়েকটি মারধর ও অস্ত্রবাজির কথা উল্লেখ করে তিনি ও তার পরিবার এখন চরম নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছেন বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

অভিযুক্তের সাফাই: “চাঁদাবাজির প্রশ্নই আসে না, সব আধিপত্যের লড়াই”

তবে এমন সব গুরুতর অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে অভিযুক্ত সামিউর রহমান দাবি করেন, এটি তার বিরুদ্ধে একটি সাজানো চক্রান্ত। তিনি পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলেন, “৫০ লাখ তো দূরের কথা, ১০ টাকা চাঁদাবাজির প্রমাণ যদি কেউ দিতে পারে, আমি দেশ ছেড়ে চিরতরে চলে যাব। বিএনপি করার অপরাধে আমাকে ১২ বছর সৌদি আরবে একপ্রকার নির্বাসিত জীবন কাটাতে হয়েছে, সেখানে আমার প্রতিষ্ঠিত ব্যবসা রয়েছে। এত দূর থেকে এসে আমি কেন এই নিকৃষ্ট কাজ করতে যাব?”

ঘটনার পেছনের আসল কারণ ব্যাখ্যা করে সামিউর রহমান আরও দাবি করেন, “নুরে আলম সিদ্দিকী আমার শয্যাশায়ী বড় চাচা আবুল কালাম আজাদ সাহেবের সঙ্গে চরম বেয়াদবি করেছেন। দরগাবাজারে দেখা হলে আমি কেবল তার কাছে ক্ষমা চাইতে বলেছিলাম। পিস্তল দিয়ে হুমকির যে কথা বলা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি মাত্র দুদিন আগে বিদেশ থেকে এসেছি, অস্ত্র কোথায় পাব? আসল কথা হলো, আমাদের পরিবার এলাকার একটি প্রভাবশালী পরিবার। আমাদের সমর্থন ছাড়া কেউ এই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান হতে পারবেন না। মূলত সেই সমর্থন আদায়ের জন্যই তিনি এসব নাটক সাজাচ্ছেন।”

উল্লেখ্য, স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সামিউর রহমানের চাচা আবুল কালাম আজাদ ২০২১ সালের ইউপি নির্বাচনে নাছিরাবাদ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত ‘নৌকা’ প্রতীকের প্রার্থী ছিলেন।

প্রশাসনের বক্তব্য ও আইনি পদক্ষেপ

ঘটনার পর ভুক্তভোগী সাবেক চেয়ারম্যান ভাঙ্গা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং তার পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানান।

এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, “সাবেক চেয়ারম্যান মো. নুরে আলম সিদ্দিকী লাভলুর পক্ষ থেকে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ বা এজাহার জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।”