আলোচিত নুসরাত হত্যা মামলায় দুজনের ফাঁসি, ৪ জনের যাবজ্জীবন
- আপডেট সময় : ০২:০২:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
- / 91
যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে গর্জে উঠে নিজের প্রাণ বিসর্জন দিতে হয়েছিল তাঁকে। গায়ে কেরোসিন ঢেলে দেওয়া সেই নারকীয় আগুনের শিখা যেমন বিবেক নাড়িয়ে দিয়েছিল পুরো দেশের, তেমনি সাত বছর পর হাইকোর্টের বিচারকক্ষে ধ্বনিত হলো ন্যায়ের কড়া চাবুক। ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার আপিলের চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট, ২০২৬) দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কেএম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় দেন। রায়ে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার বহিষ্কৃত অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদদৌলা এবং শাহাদাত হোসেন শামীর মৃত্যুদণ্ড (ফাঁসি) বহাল রাখা হয়েছে। এ ছাড়া চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অপর ১০ জন আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
আদালতে আসামিপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান, ব্যারিস্টার মাসুদ হোসেন দোলন ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে জোরালো শুনানি চালান অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির।
প্রতিবাদী নুসরাত ও ছাদের সেই নারকীয় ছক
মামলার নথি ও প্রেক্ষাপট থেকে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ। সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি ও যৌন হয়রানির অভিযোগ এনে নুসরাতের মা শিরীন আক্তার সোনাগাজী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা হওয়ার পর পুলিশ সিরাজকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠায়।
তবে জেলের আড়ালে বসেই মামলা তুলে নেওয়ার জন্য নুসরাতের পরিবারকে চাপ ও হুমকি দিতে শুরু করে সিরাজের ক্যাডার বাহিনী। প্রতিবাদী নুসরাত নতিস্বীকার করতে রাজি না হওয়ায় তাঁকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার নারকীয় পরিকল্পনা করা হয়।
২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষা দিতে মাদ্রাসায় প্রবেশ করলে কৌশলে নুসরাতকে সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁকে বোরকা পরা ঘাতক চক্র চেপে ধরে মামলা তুলে নেওয়ার কাগজে সই করতে বলে। নুসরাত স্পষ্ট অস্বীকৃতি জানালে তাঁর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায় আসামিরা।
ঢামেকে যুদ্ধ ও ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ড
শরীরের ৮০ শতাংশের বেশি মারাত্মকভাবে দগ্ধ অবস্থায় নুসরাতকে প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে ফেনী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। টানা চার দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে ১০ এপ্রিল রাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই তেজস্বিনী তরুণী।
ঘটনার পর ৮ এপ্রিল নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে মামলা করেন। ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ১৬ আসামির সবাইকেই মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেছিলেন এবং প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করেন। সেই রায়ের পর আসামিরা হাইকোর্টে আপিল দায়ের করেন, যা দীর্ঘ শুনানি শেষে আজ নিষ্পত্তি হলো।
















