ঢাকা ০২:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছিনতাইকারীদের চাপাতির আঘাতে ওসিসহ ২ পুলিশ জখম

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১১:৩২:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
  • / 66

রাজধানীর আদাবরে চাপাতি ঠেকিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে ছিনতাইয়ের ঘটনায় অপরাধীদের ধরতে গিয়ে ভয়াবহ হামলার শিকার হয়েছে পুলিশ। ছিনতাইকারীদের চাপাতির উপর্যুপরি আঘাতে আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও একজন উপ-পরিদর্শক (এসআই) গুরুতর জখম হয়েছেন। এ সময় আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে দুই ছিনতাইকারী গুলিবিদ্ধ হয়। আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে আদাবরের ডেল্টা গার্মেন্টসের পেছনে ছিনতাইকারীদের আস্তানায় এই সংঘাতের ঘটনা ঘটে।

আহত পুলিশ কর্মকর্তারা হলেন— আদাবর থানার ওসি মো. জাহিদুল ইসলাম এবং উপ-পরিদর্শক (এসআই) তরুণ। বর্তমানে ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

বিকাশ দোকানে দুর্ধর্ষ ছিনতাই:

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আদাবরের ৭ নম্বর সড়কে একটি বিকাশের দোকানে ভয়ংকর ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটায় স্থানীয় কিশোর গ্যাং ‘কবজি কাটা’ গ্রুপের সদস্যরা।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী শফিকুলের স্বজন মো. মুসলিম জানান, সকালে বাসা থেকে নগদ তিন লাখ টাকা নিয়ে শফিকুল দোকানে আসেন। তিনি দোকান খুলে বসামাত্রই ৪ থেকে ৫ জন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী চাপাতি হাতে দোকানে চড়াও হয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সন্ত্রাসীরা শফিকুলের ডান হাতে নির্মমভাবে কোপ দিয়ে সাথে থাকা নগদ ৩ লাখ টাকা ও বিকাশ করার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।

আস্তানায় হানা ও পুলিশের ওপর হামলা:

এই ঘটনার পরপরই দ্রুত অভিযানে নামে আদাবর থানা পুলিশ। দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আদাবরের ডেল্টা গার্মেন্টসের পেছনে ছিনতাইকারীদের মূল আস্তানায় হানা দেওয়া হয়। পুলিশ দেখেই অতর্কিতভাবে চাপাতি নিয়ে হামলা চালায় ছিনতাইকারীরা। এতে ওসিসহ দুই পুলিশ কর্মকর্তা রক্তাক্ত জখম হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ গুলি ছুড়লে দুই ছিনতাইকারী পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে লুটিয়ে পড়ে।

ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ‘কবজি কাটা’ গ্যাংয়ের ৪ সদস্যকে হাতেনাতে আটক করেছে। এদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ দুজন হলেন— রুবেল ও আমির। বাকি আটককৃত অন্য দুজন হলেন— কাশেম ও মো. জয়।

আতঙ্কের নাম ‘কবজি কাটা গ্রুপ’:

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে জানান, এই ‘কবজি কাটা’ গ্যাংটি দীর্ঘদিন ধরে আদাবরের ১০ ও ১৭ নম্বর সড়ক, শ্যামলী হাউজিং, তুরাগ হাউজিং এবং মোহাম্মদপুর থানার ঢাকা উদ্যান, নবীনগর ও চন্দ্রিমা হাউজিংসহ আশেপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। এরা এলাকায় প্রকাশ্য ছিনতাই, চাঁদাবাজি এবং জমি ও দোকান দখলের মতো নানা অপকর্মের সাথে সরাসরি জড়িত। এই চক্রের ৪ জন ধরা পড়ায় এলাকায় স্বস্তি নেমে এসেছে।

ছিনতাইকারীদের চাপাতির আঘাতে ওসিসহ ২ পুলিশ জখম

আপডেট সময় : ১১:৩২:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

রাজধানীর আদাবরে চাপাতি ঠেকিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে ছিনতাইয়ের ঘটনায় অপরাধীদের ধরতে গিয়ে ভয়াবহ হামলার শিকার হয়েছে পুলিশ। ছিনতাইকারীদের চাপাতির উপর্যুপরি আঘাতে আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও একজন উপ-পরিদর্শক (এসআই) গুরুতর জখম হয়েছেন। এ সময় আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে দুই ছিনতাইকারী গুলিবিদ্ধ হয়। আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে আদাবরের ডেল্টা গার্মেন্টসের পেছনে ছিনতাইকারীদের আস্তানায় এই সংঘাতের ঘটনা ঘটে।

আহত পুলিশ কর্মকর্তারা হলেন— আদাবর থানার ওসি মো. জাহিদুল ইসলাম এবং উপ-পরিদর্শক (এসআই) তরুণ। বর্তমানে ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

বিকাশ দোকানে দুর্ধর্ষ ছিনতাই:

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আদাবরের ৭ নম্বর সড়কে একটি বিকাশের দোকানে ভয়ংকর ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটায় স্থানীয় কিশোর গ্যাং ‘কবজি কাটা’ গ্রুপের সদস্যরা।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী শফিকুলের স্বজন মো. মুসলিম জানান, সকালে বাসা থেকে নগদ তিন লাখ টাকা নিয়ে শফিকুল দোকানে আসেন। তিনি দোকান খুলে বসামাত্রই ৪ থেকে ৫ জন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী চাপাতি হাতে দোকানে চড়াও হয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সন্ত্রাসীরা শফিকুলের ডান হাতে নির্মমভাবে কোপ দিয়ে সাথে থাকা নগদ ৩ লাখ টাকা ও বিকাশ করার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।

আস্তানায় হানা ও পুলিশের ওপর হামলা:

এই ঘটনার পরপরই দ্রুত অভিযানে নামে আদাবর থানা পুলিশ। দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আদাবরের ডেল্টা গার্মেন্টসের পেছনে ছিনতাইকারীদের মূল আস্তানায় হানা দেওয়া হয়। পুলিশ দেখেই অতর্কিতভাবে চাপাতি নিয়ে হামলা চালায় ছিনতাইকারীরা। এতে ওসিসহ দুই পুলিশ কর্মকর্তা রক্তাক্ত জখম হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ গুলি ছুড়লে দুই ছিনতাইকারী পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে লুটিয়ে পড়ে।

ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ‘কবজি কাটা’ গ্যাংয়ের ৪ সদস্যকে হাতেনাতে আটক করেছে। এদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ দুজন হলেন— রুবেল ও আমির। বাকি আটককৃত অন্য দুজন হলেন— কাশেম ও মো. জয়।

আতঙ্কের নাম ‘কবজি কাটা গ্রুপ’:

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে জানান, এই ‘কবজি কাটা’ গ্যাংটি দীর্ঘদিন ধরে আদাবরের ১০ ও ১৭ নম্বর সড়ক, শ্যামলী হাউজিং, তুরাগ হাউজিং এবং মোহাম্মদপুর থানার ঢাকা উদ্যান, নবীনগর ও চন্দ্রিমা হাউজিংসহ আশেপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। এরা এলাকায় প্রকাশ্য ছিনতাই, চাঁদাবাজি এবং জমি ও দোকান দখলের মতো নানা অপকর্মের সাথে সরাসরি জড়িত। এই চক্রের ৪ জন ধরা পড়ায় এলাকায় স্বস্তি নেমে এসেছে।