ঢাকা ১১:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্রেপ্তার করতে এসে ফিরে গেল পুলিশ, এক ঘণ্টা পর মিলল যুবদল নেতার মরদেহ

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৩:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ জুলাই ২০২৫
  • / 809

ঢাকার নবাবগঞ্জের বাড়ির পাশের ক্ষেত থেকে উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেনের (৫২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ রোববার (৬ জুলাই, ২০২৫) সকালে স্বজন ও এলাকাবাসী তার মরদেহ উদ্ধার করেন। এর মাত্র এক ঘণ্টা আগে তাকে গ্রেফতার করতে পুলিশ তার বাড়িতে এসেছিল।

মৃত্যুর পূর্বে পুলিশের আগমন

নিহত যুবদল নেতা আমজাদ হোসেন নবাবগঞ্জের বান্দুরা ইউনিয়নের মৃধাকান্দা গ্রামের মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, একটি মামলায় আদালত তাকে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিলেন এবং সেই মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল। এছাড়াও, তার নামে ঢাকা জেলার বিভিন্ন থানায় রাজনৈতিক ও জমিজমা সংক্রান্তসহ ২৭টি মামলা ছিল বলে তার স্বজনরা জানিয়েছেন।

আমজাদের স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ ভোর ৪টার দিকে আমজাদকে গ্রেফতার করতে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ তার বাড়িতে আসে। তাকে না পেয়ে পুলিশ ফিরে যায়। এ সময় আমজাদের স্ত্রী ঘরের দরজা দিয়ে পুলিশের গাড়ি চলে গেছে জানালে আমজাদ বাড়ি থেকে বের হন। তার স্ত্রীর ধারণা ছিল, তিনি হয়তো মসজিদে নামাজ পড়তে গেছেন।

ক্ষেতে মিলল মরদেহ

ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মসজিদের মুসল্লিরা মৃধাকান্দার রাস্তা দিয়ে যাওয়ার পথে ক্ষেতের পাশে আমজাদের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। তারা দ্রুত আমজাদের পরিবারকে খবর দেন। পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়রা আমজাদকে উদ্ধার করে নবাবগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে হাসপাতাল থেকে লাশ বাড়িতে নিয়ে যান স্বজনরা।

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে যুবদল নেতা আমজাদকে হত্যা করা হয়েছে বলে খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এ খবর পেয়ে দলীয় নেতাকর্মী ও স্বজনরা ছুটে আসেন আমজাদের বাড়িতে। সংবাদ পেয়ে নবাবগঞ্জ থানার পুলিশ আমজাদের বাসায় গিয়ে ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা করে।

পরিবারের বক্তব্য ও পুলিশের ভূমিকা

আমজাদের স্ত্রী মাহফুজা বেগম বলেন, “আমি জানি না, আমার স্বামী কীভাবে মারা গেলেন।”

আমজাদের ভাই জাহিদুল ইসলাম বলেন, “আমার ভাই রাজনীতি করে। তার অনেক প্রতিপক্ষ আছে। পুলিশ তাকে ধরতে এলেও সে কেন ক্ষেতে গিয়ে পড়ে মারা গেল? এটা আমরা বুঝতে পারছি না।”

আমজাদের বড় মেয়ে আশা আক্তার জানান, “বাবার মুখে ও চোখের কোণে জখমের চিহ্ন রয়েছে। তবে বাবাকে কেউ হত্যা করেছে কিনা তা এখনো বলতে পারব না।”

এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিনুল ইসলাম বলেন, আমজাদ হোসেনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্ত করা জরুরি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

গ্রেপ্তার করতে এসে ফিরে গেল পুলিশ, এক ঘণ্টা পর মিলল যুবদল নেতার মরদেহ

আপডেট সময় : ০৯:৩৩:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ জুলাই ২০২৫

ঢাকার নবাবগঞ্জের বাড়ির পাশের ক্ষেত থেকে উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেনের (৫২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ রোববার (৬ জুলাই, ২০২৫) সকালে স্বজন ও এলাকাবাসী তার মরদেহ উদ্ধার করেন। এর মাত্র এক ঘণ্টা আগে তাকে গ্রেফতার করতে পুলিশ তার বাড়িতে এসেছিল।

মৃত্যুর পূর্বে পুলিশের আগমন

নিহত যুবদল নেতা আমজাদ হোসেন নবাবগঞ্জের বান্দুরা ইউনিয়নের মৃধাকান্দা গ্রামের মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, একটি মামলায় আদালত তাকে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিলেন এবং সেই মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল। এছাড়াও, তার নামে ঢাকা জেলার বিভিন্ন থানায় রাজনৈতিক ও জমিজমা সংক্রান্তসহ ২৭টি মামলা ছিল বলে তার স্বজনরা জানিয়েছেন।

আমজাদের স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ ভোর ৪টার দিকে আমজাদকে গ্রেফতার করতে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ তার বাড়িতে আসে। তাকে না পেয়ে পুলিশ ফিরে যায়। এ সময় আমজাদের স্ত্রী ঘরের দরজা দিয়ে পুলিশের গাড়ি চলে গেছে জানালে আমজাদ বাড়ি থেকে বের হন। তার স্ত্রীর ধারণা ছিল, তিনি হয়তো মসজিদে নামাজ পড়তে গেছেন।

ক্ষেতে মিলল মরদেহ

ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মসজিদের মুসল্লিরা মৃধাকান্দার রাস্তা দিয়ে যাওয়ার পথে ক্ষেতের পাশে আমজাদের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। তারা দ্রুত আমজাদের পরিবারকে খবর দেন। পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়রা আমজাদকে উদ্ধার করে নবাবগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে হাসপাতাল থেকে লাশ বাড়িতে নিয়ে যান স্বজনরা।

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে যুবদল নেতা আমজাদকে হত্যা করা হয়েছে বলে খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এ খবর পেয়ে দলীয় নেতাকর্মী ও স্বজনরা ছুটে আসেন আমজাদের বাড়িতে। সংবাদ পেয়ে নবাবগঞ্জ থানার পুলিশ আমজাদের বাসায় গিয়ে ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা করে।

পরিবারের বক্তব্য ও পুলিশের ভূমিকা

আমজাদের স্ত্রী মাহফুজা বেগম বলেন, “আমি জানি না, আমার স্বামী কীভাবে মারা গেলেন।”

আমজাদের ভাই জাহিদুল ইসলাম বলেন, “আমার ভাই রাজনীতি করে। তার অনেক প্রতিপক্ষ আছে। পুলিশ তাকে ধরতে এলেও সে কেন ক্ষেতে গিয়ে পড়ে মারা গেল? এটা আমরা বুঝতে পারছি না।”

আমজাদের বড় মেয়ে আশা আক্তার জানান, “বাবার মুখে ও চোখের কোণে জখমের চিহ্ন রয়েছে। তবে বাবাকে কেউ হত্যা করেছে কিনা তা এখনো বলতে পারব না।”

এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিনুল ইসলাম বলেন, আমজাদ হোসেনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্ত করা জরুরি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।