ঢাকা ০১:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডোপ টেস্ট ‘পজিটিভ’, পুলিশ সুপার সাময়িক বরখাস্ত

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৩:১৪:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 102

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যে কর্মকর্তারা রাজপথে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন করেন, খোদ তাঁদেরই রক্তে ও শরীরে যখন বাসা বাঁধে বিষাক্ত ইয়াবা ও নিষিদ্ধ ড্রাগসের রাসায়নিক, তখন জনমনে প্রশ্ন ওঠাটাই স্বাভাবিক—রক্ষকই কি তবে ভক্ষক? মিরপুর সেনানিবাসে মর্যাদাপূর্ণ সামরিক কোর্সে অংশ নিতে গিয়ে ঠিক এমনই এক অভাবনীয় ও লজ্জাজনক কেলেঙ্কারির জন্ম দিলেন পুলিশ সদর দপ্তরের এক পুলিশ সুপার (এসপি)!

ডোপ টেস্টে মারাত্মকভাবে পজিটিভ প্রমাণিত হওয়ায় পুলিশ সদর দপ্তরের পুলিশ সুপার (টিআর) আ ফ ম নিজাম উদ্দিনকে সরকারি চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা ও জনসেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক জরুরি প্রজ্ঞাপনে এই শাস্তিমূলক আদেশ জারি করা হয়। গত ৩১ আগস্ট থেকেই এই বরখাস্তের সিদ্ধান্ত কার্যকরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সেনাক্যাম্পে অসুস্থতা, সিএমএইচের ডোপ টেস্টে চরম পর্দাফাঁস

ঘটনার সূত্রপাত চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি। মিরপুর সেনানিবাসে অত্যন্ত সম্মানজনক ‘ডিএসসিএসসি-২০২৬’ কোর্সে অংশ নিতে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সেখানে যান এসপি নিজাম উদ্দিন। কিন্তু কোর্স চলাকালেই গত ৭ জুন হঠাৎ মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন এই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।

তাত্ক্ষণিকভাবে তাঁকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নির্দেশে তাঁর শারীরিক নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পাশাপাশি ডোপ টেস্ট (Dope Test) করানো হয়।

পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে আসতেই চমকে ওঠেন চিকিৎসকরা! এসপি নিজাম উদ্দিনের প্রস্রাবের নমুনায় পাওয়া যায় ‘বেনজোডায়াজেপিন’ এবং ইয়াবার মূল উপাদান ‘অ্যামফিটামিন/মেথঅ্যামফিটামিন’-এর মারাত্মক উপস্থিতি!

সামরিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক চাবুক

সামরিক বাহিনীর সেনানিবাসের মতো সর্বোচ্চ শৃঙ্খলার জায়গায় অনুষ্ঠিত কোর্সে একজন শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তার মাদক সেবনের তথ্য মেলায় রীতিমতো তোলপাড় শুরু হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়—

“ডোপ টেস্টের এই চাঞ্চল্যকর ফলাফল ডিএসসিএসসি কোর্সের কঠোর শৃঙ্খলার চরম পরিপন্থি। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী এটি গুরুতর অসদাচরণ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বিধিমালার আলোকে তাঁকে ৩১ আগস্ট থেকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো। তবে নিয়ম অনুযায়ী বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি কেবল খোরপোষ ভাতা পাবেন।”

বরখাস্ত হওয়া এই পুলিশ সুপার বর্তমানে রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন।

ডোপ টেস্ট ‘পজিটিভ’, পুলিশ সুপার সাময়িক বরখাস্ত

আপডেট সময় : ০৩:১৪:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যে কর্মকর্তারা রাজপথে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন করেন, খোদ তাঁদেরই রক্তে ও শরীরে যখন বাসা বাঁধে বিষাক্ত ইয়াবা ও নিষিদ্ধ ড্রাগসের রাসায়নিক, তখন জনমনে প্রশ্ন ওঠাটাই স্বাভাবিক—রক্ষকই কি তবে ভক্ষক? মিরপুর সেনানিবাসে মর্যাদাপূর্ণ সামরিক কোর্সে অংশ নিতে গিয়ে ঠিক এমনই এক অভাবনীয় ও লজ্জাজনক কেলেঙ্কারির জন্ম দিলেন পুলিশ সদর দপ্তরের এক পুলিশ সুপার (এসপি)!

ডোপ টেস্টে মারাত্মকভাবে পজিটিভ প্রমাণিত হওয়ায় পুলিশ সদর দপ্তরের পুলিশ সুপার (টিআর) আ ফ ম নিজাম উদ্দিনকে সরকারি চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা ও জনসেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক জরুরি প্রজ্ঞাপনে এই শাস্তিমূলক আদেশ জারি করা হয়। গত ৩১ আগস্ট থেকেই এই বরখাস্তের সিদ্ধান্ত কার্যকরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সেনাক্যাম্পে অসুস্থতা, সিএমএইচের ডোপ টেস্টে চরম পর্দাফাঁস

ঘটনার সূত্রপাত চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি। মিরপুর সেনানিবাসে অত্যন্ত সম্মানজনক ‘ডিএসসিএসসি-২০২৬’ কোর্সে অংশ নিতে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সেখানে যান এসপি নিজাম উদ্দিন। কিন্তু কোর্স চলাকালেই গত ৭ জুন হঠাৎ মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন এই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।

তাত্ক্ষণিকভাবে তাঁকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নির্দেশে তাঁর শারীরিক নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পাশাপাশি ডোপ টেস্ট (Dope Test) করানো হয়।

পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে আসতেই চমকে ওঠেন চিকিৎসকরা! এসপি নিজাম উদ্দিনের প্রস্রাবের নমুনায় পাওয়া যায় ‘বেনজোডায়াজেপিন’ এবং ইয়াবার মূল উপাদান ‘অ্যামফিটামিন/মেথঅ্যামফিটামিন’-এর মারাত্মক উপস্থিতি!

সামরিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক চাবুক

সামরিক বাহিনীর সেনানিবাসের মতো সর্বোচ্চ শৃঙ্খলার জায়গায় অনুষ্ঠিত কোর্সে একজন শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তার মাদক সেবনের তথ্য মেলায় রীতিমতো তোলপাড় শুরু হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়—

“ডোপ টেস্টের এই চাঞ্চল্যকর ফলাফল ডিএসসিএসসি কোর্সের কঠোর শৃঙ্খলার চরম পরিপন্থি। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী এটি গুরুতর অসদাচরণ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বিধিমালার আলোকে তাঁকে ৩১ আগস্ট থেকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো। তবে নিয়ম অনুযায়ী বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি কেবল খোরপোষ ভাতা পাবেন।”

বরখাস্ত হওয়া এই পুলিশ সুপার বর্তমানে রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন।