ঢাকা ০১:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মুক্তিপণ দিয়েও মেলেনি মুক্তি! ফরিদপুরে শিকলবন্দি যুবক উদ্ধার

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১১:৫৬:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
  • / 158

ইউরোপ-মধ্যপ্রাচ্যের হাতছানি আর ভাগ্যবদলের স্বপ্ন দেখাত ওরা। কিন্তু সেই চকচকে ফাঁদের ভেতরে যে লুকিয়ে ছিল আস্ত এক কসাইখানা, তা কে জানত! বিদেশে চাকরি দেওয়ার নামে পাসপোর্ট ও নগদ টাকা হাতানোর পর এক যুবককে তুলে নিয়ে যাওয়া হলো। তারপর একটানা ৯ দিন—পায়ে লোহার মোটা শিকল, গ্রিলের সঙ্গে তালাবদ্ধ হাত-পা, দিনে মাত্র একবেলা খাবার আর চাবুকের মতো নির্যাতন! আর্তনাদ যাতে ঘরের বাইরে না যায়, তার জন্য দিনরাত চালানো হতো কানফাটা সাউন্ডবক্স।

অবশেষে সেই মধ্যযুগীয় নরককূপ ভেঙে আলোর মুখ দেখাল র‍্যাব-১০। ফরিদপুর শহরের এক আবাসন ভবনে গভীর রাতের দুঃসাহসিক অভিযান চালিয়ে শিকলবন্দি অবস্থায় মো. নিলয় শিকদার (৩৫) নামের ওই যুবককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। একই সাথে গ্রাফ করে ফেলা হয়েছে এই ভয়ঙ্কর অপহরণকারী ও মানবপাচারকারী চক্রের মূলহোতাসহ ৩ সদস্যকে। রোমহর্ষক এই অপারেশনের সমস্ত বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো:

সাড়ে চার লাখ টাকা দেওয়ার পরও নিষ্কৃতি নেই!

ঘটনার সূত্রপাত গত ৬ আগস্ট। ঝালকাঠির কাঠালিয়ার যুবক নিলয় শিকদারকে বিদেশে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে আগেই কয়েক দফায় ৫ লাখ টাকা ও পাসপোর্ট হাতিয়ে নিয়েছিল চক্রটি। কিন্তু বিদেশে না পাঠিয়ে তাকে সুকৌশলে অপহরণ করা হয়। এরপর নিলয়ের পরিবারের কাছে দাবি করা হয় আরও ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ!

ছেলের জীবন বাঁচাতে নিঃস্ব পরিবারটি বিভিন্ন বিকাশ নম্বরে দফায় দফায় ৪ লাখ ৫১ হাজার টাকা পাঠায়। কিন্তু বিষাক্ত এই চক্রের লোভের সীমা ছিল না। টাকা পাওয়ার পরও নিলয়কে ছাড়া তো হয়ইনি, বরং আরও ৫ লাখ টাকার জন্য শুরু হয় অমানবিক অত্যাচার। উপায় না দেখে নিলয়ের শ্বশুর ঝালকাঠির কাঠালিয়া থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন।

চরকমলাপুরে র‍্যাবের স্ট্রাইক: উদ্ধার লোহার শিকল ও পাইপ

কাঠালিয়া থানা পুলিশের অধিযাচন পত্র পেয়ে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায় র‍্যাব-১০-এর সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্প। গত ১৫ আগস্ট রাত ১১টা ৫০ মিনিটে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানাধীন চরকমলাপুর এলাকার একটি গোপন আস্তানায় হানা দেয় র‍্যাবের একটি স্পেশাল টিম।

সেখানে গিয়ে চোখ ছানাবড়া উদ্ধারকারীদের! একটি স্যাঁতসেঁতে ঘরের গ্রিলের সঙ্গে পায়ে লোহার মোটা শিকল ও তালা পরানো অবস্থায় উদ্ধার করা হয় কঙ্কালসার নিলয়কে। ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেফতার করা হয় চক্রের মূলহোতা মো. ফেরদৌস উর রহমান (৪২) ও তার নারী সহযোগী মহুয়া আহমেদ (৩২)-কে।

তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৬ আগস্ট রাত ৩টা ৪০ মিনিটে মুন্সীডাঙ্গী এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপর সহযোগী এস এম মনোয়ার (৩৬)-কে ঘাড় ধরে তুলে আনে র‍্যাব। উদ্ধার করা হয় দুটি লোহার শিকল, দুটি তালা, দুটি স্টিলের পাইপ, একটি চাকু, ৬টি মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা।

মুক্তিপণ দিয়েও মেলেনি মুক্তি! ফরিদপুরে শিকলবন্দি যুবক উদ্ধার

আপডেট সময় : ১১:৫৬:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

ইউরোপ-মধ্যপ্রাচ্যের হাতছানি আর ভাগ্যবদলের স্বপ্ন দেখাত ওরা। কিন্তু সেই চকচকে ফাঁদের ভেতরে যে লুকিয়ে ছিল আস্ত এক কসাইখানা, তা কে জানত! বিদেশে চাকরি দেওয়ার নামে পাসপোর্ট ও নগদ টাকা হাতানোর পর এক যুবককে তুলে নিয়ে যাওয়া হলো। তারপর একটানা ৯ দিন—পায়ে লোহার মোটা শিকল, গ্রিলের সঙ্গে তালাবদ্ধ হাত-পা, দিনে মাত্র একবেলা খাবার আর চাবুকের মতো নির্যাতন! আর্তনাদ যাতে ঘরের বাইরে না যায়, তার জন্য দিনরাত চালানো হতো কানফাটা সাউন্ডবক্স।

অবশেষে সেই মধ্যযুগীয় নরককূপ ভেঙে আলোর মুখ দেখাল র‍্যাব-১০। ফরিদপুর শহরের এক আবাসন ভবনে গভীর রাতের দুঃসাহসিক অভিযান চালিয়ে শিকলবন্দি অবস্থায় মো. নিলয় শিকদার (৩৫) নামের ওই যুবককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। একই সাথে গ্রাফ করে ফেলা হয়েছে এই ভয়ঙ্কর অপহরণকারী ও মানবপাচারকারী চক্রের মূলহোতাসহ ৩ সদস্যকে। রোমহর্ষক এই অপারেশনের সমস্ত বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো:

সাড়ে চার লাখ টাকা দেওয়ার পরও নিষ্কৃতি নেই!

ঘটনার সূত্রপাত গত ৬ আগস্ট। ঝালকাঠির কাঠালিয়ার যুবক নিলয় শিকদারকে বিদেশে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে আগেই কয়েক দফায় ৫ লাখ টাকা ও পাসপোর্ট হাতিয়ে নিয়েছিল চক্রটি। কিন্তু বিদেশে না পাঠিয়ে তাকে সুকৌশলে অপহরণ করা হয়। এরপর নিলয়ের পরিবারের কাছে দাবি করা হয় আরও ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ!

ছেলের জীবন বাঁচাতে নিঃস্ব পরিবারটি বিভিন্ন বিকাশ নম্বরে দফায় দফায় ৪ লাখ ৫১ হাজার টাকা পাঠায়। কিন্তু বিষাক্ত এই চক্রের লোভের সীমা ছিল না। টাকা পাওয়ার পরও নিলয়কে ছাড়া তো হয়ইনি, বরং আরও ৫ লাখ টাকার জন্য শুরু হয় অমানবিক অত্যাচার। উপায় না দেখে নিলয়ের শ্বশুর ঝালকাঠির কাঠালিয়া থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন।

চরকমলাপুরে র‍্যাবের স্ট্রাইক: উদ্ধার লোহার শিকল ও পাইপ

কাঠালিয়া থানা পুলিশের অধিযাচন পত্র পেয়ে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায় র‍্যাব-১০-এর সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্প। গত ১৫ আগস্ট রাত ১১টা ৫০ মিনিটে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানাধীন চরকমলাপুর এলাকার একটি গোপন আস্তানায় হানা দেয় র‍্যাবের একটি স্পেশাল টিম।

সেখানে গিয়ে চোখ ছানাবড়া উদ্ধারকারীদের! একটি স্যাঁতসেঁতে ঘরের গ্রিলের সঙ্গে পায়ে লোহার মোটা শিকল ও তালা পরানো অবস্থায় উদ্ধার করা হয় কঙ্কালসার নিলয়কে। ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেফতার করা হয় চক্রের মূলহোতা মো. ফেরদৌস উর রহমান (৪২) ও তার নারী সহযোগী মহুয়া আহমেদ (৩২)-কে।

তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৬ আগস্ট রাত ৩টা ৪০ মিনিটে মুন্সীডাঙ্গী এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপর সহযোগী এস এম মনোয়ার (৩৬)-কে ঘাড় ধরে তুলে আনে র‍্যাব। উদ্ধার করা হয় দুটি লোহার শিকল, দুটি তালা, দুটি স্টিলের পাইপ, একটি চাকু, ৬টি মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা।