১২ লাখ টাকায় সুপারি কিলিং! ডন গ্রেফতারের পর সালমান শাহ হত্যা মামলায় নতুন মোড়
- আপডেট সময় : ০৮:৪৮:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬
- / 170
দেশ ছাড়ার শেষ মুহূর্তের চেষ্টা, ইমিগ্রেশনে আচমকা ধাক্কা আর তারপর আদালত কক্ষে মাথানিচু করে দাঁড়িয়ে পিসির বিস্ফোরক অভিযোগ শ্রবণ! ঢালিউড শাহেনশাহ সালমান শাহ হত্যা মামলার দীর্ঘদিনের জমে থাকা অন্ধকার সরতে শুরু করল এক নিমেষে। মামলার ৮ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি তথা পরিচিত খল অভিনেতা আশরাফুল হক ডন গ্রেফতার হতেই সামনে এলো ১২ লাখ টাকার চাঞ্চল্যকর সুপারি কিলিংয়ের গল্প।
রবিবার (৯ আগস্ট) ভোররাত ৫টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দেশত্যাগের মুহূর্তে ডনকে জালে তোলে ইমিগ্রেশন পুলিশ। বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে শুনানি শেষে বিচারক জুয়েল রানা তাকে জামিন না দিয়ে সরাসরি কারাগারে পাঠানোর কড়া নির্দেশ দেন। খবরের রোমাঞ্চকর বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো:
আদালত কক্ষে মাথানিচু ডন, ১২ লাখ টাকার রক্তভেজা চুক্তি
বিকেল ঠিক ৫টা। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা এজলাসে আসন গ্রহণ করতেই শুরু হয় বহুচর্চিত এই হাই-প্রোফাইল মামলার রুদ্ধশ্বাস শুনানি। এজলাসের খাঁচায় তখন ধৃত আসামি ডন—মাথানিচু করে নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে শুনছেন নিজের বিরুদ্ধে আসা গুরুতর সব অভিযোগ।
রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী আদালতে স্পষ্ট জানান, “ভোর ৫টায় ডন দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার ছক কষেছিলেন। আজ তিনি বেরিয়ে গেলে চিরতরে অধরা থেকে যেতেন।”
পিপি আদালতকে আরও মনে করিয়ে দেন, সালমান শাহকে হত্যার পর ঘটনা অন্যদিকে মোড় ঘোরাতে তাঁর ছোট ভাইকেও অপহরণের অপচেষ্টা করা হয়েছিল। একটি পুরনো জবানবন্দির রেফারেন্স টেনে পিপি এজলাসে ফাঁদে ফেলেন আসামিপক্ষকে—যেখানে এক অভিযুক্ত স্বীকার করেছিল, মাত্র ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে ঢালিউডের এক নম্বর নায়ক সালমান শাহকে সরিয়ে দেওয়ার রক্ত হিম করা চুক্তি বা ‘সুপারি কিলিং’ হয়েছিল! ডনের পক্ষে কোনো জামিন আবেদন এদিন করা হয়নি।
৮ বার পিছিয়েছে সিআইডির রিপোর্ট, কবর থেকে মরদেহ উত্তোলনের নির্দেশ
এই চাঞ্চল্যকর মামলার জল কতদূর গড়িয়েছে? মামলার নথি বলছে, ২০২৫ সালের ২১ অক্টোবর রমনা থানায় নতুন করে হত্যা মামলা নথিভুক্ত হওয়ার পর তদন্তের ব্যাটন পায় সিআইডি (CID)। তবে তদন্ত প্রতিবেদন জমার ডেডলাইন এরই মধ্যে ৮ বার পিছিয়েছে!
সর্বশেষ ২৩ জুলাই প্রতিবেদন জমা না পড়ায় আদালত আগামী ৩০ আগস্ট পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন। মামলায় সালমানের সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, শাশুড়ি লতিফা হক লিও ওরফে লুসি এবং খল অভিনেতা ডনসহ মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় সুপরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ ঝুলছে।
ইতিমধ্যে সত্যের গোড়ায় পৌঁছাতে সিআইডি পরিদর্শকের আবেদনের ভিত্তিতে সালমান শাহর মরদেহ কবর থেকে তুলে পুনর্ময়নাতদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহাকে এই মহাজজ্ঞের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।
১৯৯৬-এর অপমৃত্যু থেকে যেভাবে রূপ নিল হত্যা মামলায়
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর থমকে গিয়েছিল ঢালিউড। প্রথমে ঘটনাটিকে ‘অপমৃত্যু’ বা আত্মহত্যা বলে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হলেও সালমানের বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী হাল ছাড়েননি।
সিআইডি ১৯৯৭ সালে আত্মহত্যার থিওরি দিয়ে রিপোর্ট জমা দিলে বাদীপক্ষ আদালতের দরবারে রিভিশন আবেদন ঠুকে দেয়। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত সেই রিভিশন মঞ্জুর করে এটিকে পূর্ণাঙ্গ ‘হত্যা মামলা’ হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। এরপরই সালমানের মামা মোহাম্মদ আলমগীর রমনা থানায় নতুন করে এই হত্যা মামলা রুজু করেন।
















