ধর্ষণের মামলা হতেই চোখ খুলছেন না শিবির নেতা জিসান
- আপডেট সময় : ১০:০২:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
- / 57
ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধান বর্তমানে পুলিশের কড়া পাহারায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। কুমিল্লার দাউদকান্দির এক বিধবা নারীকে একাধিকবার ধর্ষণ ও ওষুধ খাইয়ে ভ্রূণ নষ্ট করার গুরুতর অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের দাবি— জিসান মিয়া শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ। কিন্তু নিজেকে ‘গুরুতর অসুস্থ’ দেখিয়ে তিনি পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে হাসপাতালে পড়ে আছেন, যার কারণে তাঁকে এখনো আদালতে হাজির করা সম্ভব হচ্ছে না।
গ্রেপ্তারের খবর শুনেই চোখ বন্ধ!
পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মামলার বাদী ওই বিধবা নারীকে (২৫) বিয়ে করা এড়াতে জিসান নিজেই নিজের অপহরণের নাটক সাজিয়ে আত্মগোপন করেছিলেন। পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। শুরুতে হাসপাতালে এসে জিসান পুলিশের সঙ্গে অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবে কথাবার্তা বলছিলেন। কিন্তু যখনই তিনি শুনতে পান যে তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা হয়েছে এবং তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, ঠিক তখন থেকেই তিনি চোখ বন্ধ করে ফেলেছেন এবং আর চোখ খুলছেন না।
জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি শামসুল আলম শাহ বলেন, “শুক্রবার রাতে যখন জিসানকে হাসপাতালে আনা হয়, তখন তিনি সুস্থ মানুষের মতোই কথা বলছিলেন। কিন্তু গ্রেপ্তারের খবর শোনার পর থেকেই তিনি অসুস্থতার অভিনয় শুরু করেছেন। অবস্থা এখন এমন যে তিনি চোখই খুলছেন না।”
গঠন করা হয়েছে মেডিক্যাল বোর্ড:
এদিকে ছাত্রশিবির নেতা জিসান মিয়ার এই রহস্যময় শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করতে চার সদস্যের একটি বিশেষ মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আজ রবিবার (১৪ জুন) দুপুরে হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানকে এই বোর্ডের প্রধান করা হয়েছে। বাকি সদস্যরা হলেন অ্যানেসথেসিয়া, নিউরো মেডিসিন ও মনোরোগবিদ্যা বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।
ভারপ্রাপ্ত পরিচালক আরও জানান, সোমবার বেলা ১১টার দিকে এই মেডিক্যাল বোর্ড জিসানের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে চূড়ান্ত মতামত জানাবে। তিনি যদি সুস্থ হয়েও অসুস্থতার ভান করেন, তবে তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র (ডিসচার্জ) দিয়ে দেওয়া হবে। এখন পর্যন্ত করা সব পরীক্ষায় তাঁর শরীরে কোনো রোগ পাওয়া যায়নি। অপরদিকে ভুক্তভোগী নারীর স্বাস্থ্য পরীক্ষাও সম্পন্ন হয়েছে।
প্রেম, গর্ভপাত এবং অপহরণ নাটক:
পুলিশের সূত্র থেকে জানা যায়, ফেসবুকের মাধ্যমে ওই বিধবা নারীর সঙ্গে জিসানের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে জিসান তাঁকে চাপ দিয়ে ওষুধ খাইয়ে গর্ভপাত করান। পরবর্তীতে ওই নারী বিয়ের জন্য চাপ দিলে জিসান ১২ জুন বিয়ে করতে রাজি হন। কিন্তু বিয়ে এড়াতে তিনি ১১ জুন রাতে নিখোঁজ হওয়ার নাটক সাজিয়ে আত্মগোপনে চলে যান। ১২ জুন জিসানের পরিবার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। পরবর্তীতে গত শুক্রবার রাতে লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে।
জিসান মিয়া প্রধান ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি।
দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আ. বারী জানান, শুক্রবার রাতেই ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে জিসানসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার অপর তিন আসামি সেকান্দর আলী (২৪), গোলাম রাব্বী (২৬) ও সজীব হাসানকে (২১) গতকাল শনিবারই আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে মূল আসামি জিসান হাসপাতালে ‘অসুস্থ’ সেজে থাকায় তাঁকে এখনো আদালতে পাঠানো যায়নি।



















