ঢাকা ০৪:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনঃস্থাপন? সর্বোচ্চ আদালতের রায় ২০ নভেম্বর

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০১:২৬:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫
  • / 288

নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনঃস্থাপনের বিষয়ে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায় আগামী ২০ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) ঘোষণা করা হবে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে এই সংক্রান্ত আপিল শুনানি আজ শেষ হয়েছে। এই রায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় একটি উল্লেখযোগ্য ও নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

আজ মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ৭ বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ রায়ের জন্য এই তারিখ ধার্য করেন।

আপিল শুনানির প্রেক্ষাপট

এই মামলার মূল উদ্দেশ্য হলো ১৯৯৬ সালে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত ত্রয়োদশ সংশোধনীর বৈধতা পুনর্বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া।

পুনর্বিবেচনার আবেদন: ২০১১ সালের ১০ মে সুপ্রিম কোর্টের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করার পর, ২০২২ সালের ২৭ আগস্ট রায়টি পুনর্বিবেচনার জন্য আপিল বিভাগের অনুমোদন পেয়েছিল।

শুনানির শুরু: গত ২১ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফেরানোর আপিল শুনানি শুরু হয়।

আবেদনকারীরা: ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর বিভিন্ন ব্যক্তি এই রায় পুনর্বিবেচনার জন্য আপিল করেন। আবেদনকারীদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতে ইসলামী নেতা অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সুশাসনের জন্য নাগরিকের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচজন এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোফাজ্জল হোসেন।

আদালতে যারা শুনানি করেছেন

প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ৭ বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়।

বেঞ্চের সদস্যবৃন্দ: বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম ইমদাদুল হক, বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।

আইনজীবীগণ: রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া। বিএনপির পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন ও ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহামদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান এবং অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার মামলার ইতিহাস
বছর ঘটনা
১৯৯৬ ত্রয়োদশ সংশোধনী সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
১৯৯৮ হাইকোর্টে এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়।
২০০৪ ৪ আগস্ট হাইকোর্ট সংশোধনীর বৈধতা ঘোষণা করে।
২০১১ ১০ মে সুপ্রিম কোর্টের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করে।
২০১১ ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী আইন পাস হয়।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনঃস্থাপন? সর্বোচ্চ আদালতের রায় ২০ নভেম্বর

আপডেট সময় : ০১:২৬:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫

নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনঃস্থাপনের বিষয়ে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায় আগামী ২০ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) ঘোষণা করা হবে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে এই সংক্রান্ত আপিল শুনানি আজ শেষ হয়েছে। এই রায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় একটি উল্লেখযোগ্য ও নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

আজ মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ৭ বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ রায়ের জন্য এই তারিখ ধার্য করেন।

আপিল শুনানির প্রেক্ষাপট

এই মামলার মূল উদ্দেশ্য হলো ১৯৯৬ সালে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত ত্রয়োদশ সংশোধনীর বৈধতা পুনর্বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া।

পুনর্বিবেচনার আবেদন: ২০১১ সালের ১০ মে সুপ্রিম কোর্টের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করার পর, ২০২২ সালের ২৭ আগস্ট রায়টি পুনর্বিবেচনার জন্য আপিল বিভাগের অনুমোদন পেয়েছিল।

শুনানির শুরু: গত ২১ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফেরানোর আপিল শুনানি শুরু হয়।

আবেদনকারীরা: ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর বিভিন্ন ব্যক্তি এই রায় পুনর্বিবেচনার জন্য আপিল করেন। আবেদনকারীদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতে ইসলামী নেতা অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সুশাসনের জন্য নাগরিকের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচজন এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোফাজ্জল হোসেন।

আদালতে যারা শুনানি করেছেন

প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ৭ বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়।

বেঞ্চের সদস্যবৃন্দ: বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম ইমদাদুল হক, বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।

আইনজীবীগণ: রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া। বিএনপির পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন ও ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহামদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান এবং অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার মামলার ইতিহাস
বছর ঘটনা
১৯৯৬ ত্রয়োদশ সংশোধনী সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
১৯৯৮ হাইকোর্টে এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়।
২০০৪ ৪ আগস্ট হাইকোর্ট সংশোধনীর বৈধতা ঘোষণা করে।
২০১১ ১০ মে সুপ্রিম কোর্টের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করে।
২০১১ ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী আইন পাস হয়।