ঢাকা ০২:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজধানীতে বিমান দুর্ঘটনা: ১৯ নিহত, দেড় শতাধিক আহত

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৬:০৭:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ জুলাই ২০২৫
  • / 321

ঢাকা, ২১ জুলাই ২০২৫ (সোমবার) – রাজধানীর উত্তরায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনে বিধ্বস্ত হয়েছে। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত ১৯ জন নিহত এবং দেড় শতাধিক আহত হয়েছেন। নিহতদের অধিকাংশই শিশু বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

ভয়াবহ দুর্ঘটনা ও হতাহতের সংখ্যা

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর এফ-৭ বিজিআই প্রশিক্ষণ বিমানটি আজ সোমবার বেলা ১টা ৬ মিনিটে উড্ডয়ন করে এবং দেড়টার দিকে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের উত্তরা শাখার দোতলা স্কুল ভবনে বিধ্বস্ত হয়। আইএসপিআর-এর তথ্য অনুযায়ী, বিধ্বস্ত হওয়া বিমানের পাইলটসহ মোট ১৯ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়াও, ১৬৪ জন আহত হয়েছেন, যাদের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) সহ বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ জাহেদ কামালও ১৯ জন নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

দুর্ঘটনাস্থলের চিত্র ও উদ্ধার তৎপরতা

বিকেল পৌনে ৫টার দিকে দুর্ঘটনাকবলিত এলাকা পরিদর্শনের সময় ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক জানান, বিমানটি দোতলা স্কুল ভবনের প্রথম তলায় তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ক্লাস এবং দ্বিতীয় তলায় দ্বিতীয় ও পঞ্চম শ্রেণির ক্লাসের ওপর পড়েছে। একই সাথে প্রিন্সিপালের অফিস মিটিং রুম এবং একটি কোচিংয়ের ক্লাসও চলছিল।

তিনি বলেন, “ক্র্যাশ ল্যান্ডিং যখন হয়, তখন স্কুল ছুটি হয়ে গিয়েছিল এবং ওই সময় যে জায়গায় টিচার্স রুমের সাথে যে ল্যান্ডিং হয়, আঘাত করে, ওই জায়গায় বাচ্চাকাচ্চারা জড়ো হয়েছিল এবং তাদের সাথে হয়তো কিছু অভিভাবকও ছিল।”

ফায়ার সার্ভিস আনুমানিক বেলা ১টা ৮ মিনিটে দুর্ঘটনার খবর পায়। দ্রুত ৯টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। বর্তমানে আগুন সম্পূর্ণ নির্বাপণ করা হয়েছে এবং উদ্ধার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক আরও বলেন, “আমাদের হিসাব অনুযায়ী এখন পর্যন্ত আমরা ১৯ জনের ডেড বডি উদ্ধার করেছি। তারা বিভিন্ন হাসপাতালে আছে।”

আহত ব্যক্তির সংখ্যা ৫০ জনের বেশি হবে জানিয়ে মুহাম্মদ জাহেদ কামাল বলেন, “যারা নিহত, এখনো তাদের পরিচয় আমরা জানতে পারিনি, সময় লাগবে। আমাদের ধারণা, অধিকাংশই শিশু।”

ঘটনাস্থলে ভিড় ও রক্তের আহ্বান

ঘটনাস্থলে থাকা প্রথম আলোর প্রতিবেদক মাহমুদুল হাসান বিকেল ৪টার দিকে জানান, মাইলস্টোন কলেজের সামনে অসংখ্য মানুষ ভিড় জমিয়েছেন। কলেজের বিধ্বস্ত ভবন থেকে একের পর এক অ্যাম্বুলেন্স বের হচ্ছে। এ অবস্থায় আহত মানুষদের জন্য রক্ত দেওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে। সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশসহ অন্যান্য সংস্থা উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করছে। উদ্ধারকাজ শেষ হলে মোট ক্ষয়ক্ষতির হিসাব জানানো সম্ভব হবে।

রাজধানীতে বিমান দুর্ঘটনা: ১৯ নিহত, দেড় শতাধিক আহত

আপডেট সময় : ০৬:০৭:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ জুলাই ২০২৫

ঢাকা, ২১ জুলাই ২০২৫ (সোমবার) – রাজধানীর উত্তরায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনে বিধ্বস্ত হয়েছে। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত ১৯ জন নিহত এবং দেড় শতাধিক আহত হয়েছেন। নিহতদের অধিকাংশই শিশু বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

ভয়াবহ দুর্ঘটনা ও হতাহতের সংখ্যা

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর এফ-৭ বিজিআই প্রশিক্ষণ বিমানটি আজ সোমবার বেলা ১টা ৬ মিনিটে উড্ডয়ন করে এবং দেড়টার দিকে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের উত্তরা শাখার দোতলা স্কুল ভবনে বিধ্বস্ত হয়। আইএসপিআর-এর তথ্য অনুযায়ী, বিধ্বস্ত হওয়া বিমানের পাইলটসহ মোট ১৯ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়াও, ১৬৪ জন আহত হয়েছেন, যাদের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) সহ বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ জাহেদ কামালও ১৯ জন নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

দুর্ঘটনাস্থলের চিত্র ও উদ্ধার তৎপরতা

বিকেল পৌনে ৫টার দিকে দুর্ঘটনাকবলিত এলাকা পরিদর্শনের সময় ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক জানান, বিমানটি দোতলা স্কুল ভবনের প্রথম তলায় তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ক্লাস এবং দ্বিতীয় তলায় দ্বিতীয় ও পঞ্চম শ্রেণির ক্লাসের ওপর পড়েছে। একই সাথে প্রিন্সিপালের অফিস মিটিং রুম এবং একটি কোচিংয়ের ক্লাসও চলছিল।

তিনি বলেন, “ক্র্যাশ ল্যান্ডিং যখন হয়, তখন স্কুল ছুটি হয়ে গিয়েছিল এবং ওই সময় যে জায়গায় টিচার্স রুমের সাথে যে ল্যান্ডিং হয়, আঘাত করে, ওই জায়গায় বাচ্চাকাচ্চারা জড়ো হয়েছিল এবং তাদের সাথে হয়তো কিছু অভিভাবকও ছিল।”

ফায়ার সার্ভিস আনুমানিক বেলা ১টা ৮ মিনিটে দুর্ঘটনার খবর পায়। দ্রুত ৯টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। বর্তমানে আগুন সম্পূর্ণ নির্বাপণ করা হয়েছে এবং উদ্ধার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক আরও বলেন, “আমাদের হিসাব অনুযায়ী এখন পর্যন্ত আমরা ১৯ জনের ডেড বডি উদ্ধার করেছি। তারা বিভিন্ন হাসপাতালে আছে।”

আহত ব্যক্তির সংখ্যা ৫০ জনের বেশি হবে জানিয়ে মুহাম্মদ জাহেদ কামাল বলেন, “যারা নিহত, এখনো তাদের পরিচয় আমরা জানতে পারিনি, সময় লাগবে। আমাদের ধারণা, অধিকাংশই শিশু।”

ঘটনাস্থলে ভিড় ও রক্তের আহ্বান

ঘটনাস্থলে থাকা প্রথম আলোর প্রতিবেদক মাহমুদুল হাসান বিকেল ৪টার দিকে জানান, মাইলস্টোন কলেজের সামনে অসংখ্য মানুষ ভিড় জমিয়েছেন। কলেজের বিধ্বস্ত ভবন থেকে একের পর এক অ্যাম্বুলেন্স বের হচ্ছে। এ অবস্থায় আহত মানুষদের জন্য রক্ত দেওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে। সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশসহ অন্যান্য সংস্থা উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করছে। উদ্ধারকাজ শেষ হলে মোট ক্ষয়ক্ষতির হিসাব জানানো সম্ভব হবে।