শেখ হাসিনা-মেজর মোজাফফরের মধ্যে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করেন কে?
- আপডেট সময় : ০৭:৪৭:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 144
১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোররাত। চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের নিস্তব্ধতা চিরে ঝরেছিল তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রক্ত। সেই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুদীর্ঘ ৪৫ বছর পর উন্মোচিত হলো এক শিউরে ওঠা অন্ধকার অধ্যায়! হত্যাকাণ্ডের ঠিক পরপরই জিয়াউর রহমানের নিথর দেহ চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল মোজাফফর হোসেন পাহাড়ের এক নির্জন কোণে। এমন চাঞ্চল্যকর তথ্যই সোমবার গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় গত ১৩ সেপ্টেম্বর জিজ্ঞাসাবাদে সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেন নিজেই এই রোমহর্ষক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানান প্রসিকিউটর তানভীর হাসান। দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে অধরা থাকার পর গত ১৫ জুলাই রাজধানীর বনানী থেকে মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
এক কবরে তিন লাশ, ইমামও জানতেন না কার দাফন!
জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে এক গা শিউরে ওঠা চক্রান্তের বিবরণ। প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহার ভাষ্যমতে, মোজাফফর স্বীকার করেছেন—
“লেফটেন্যান্ট কর্নেল (সাবেক) মতিউর রহমান তাঁকে সরাসরি নির্দেশ দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমানের মরদেহ পাহাড় থেকে নিচে ফেলে দেওয়ার জন্য। তবে তাঁরা শেষ পর্যন্ত তা না করে একজন ধর্মীয় শিক্ষক বা ইমামকে ডেকে আনেন। এরপর জিয়াউর রহমানসহ মোট তিনজনের লাশ একই কবরে দাফন করা হয়। তবে যাঁর দাফন সম্পন্ন হচ্ছে, তিনি যে দেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান—তা কিন্তু ডেকে আনা ওই ইমামকে ঘুণাক্ষরেও জানতে দেওয়া হয়নি।”
দেশে ফেরা, শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ ও পরবর্তী অধ্যায়
জিজ্ঞাসাবাদে মোজাফফর তাঁর দেশে ফেরা ও পরবর্তী জীবনের নানা বিস্ফোরক গল্পও শেরে বাংলা নগরের তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে তুলে ধরেছেন। তানভীর হাসান জানান, মেজর (অব.) মোজাফফরের কাছে বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) এবং পাসপোর্ট রয়েছে।
নথিসূত্রে জানা যায়, ১৯৯৭ বা ১৯৯৮ সালের দিকে গোপনে দেশে ফিরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা চালান মোজাফফর। সিরাজগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবে মিল্লাতের মাধ্যমে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তিনি শেখ হাসিনাকে স্যালুট জানান এবং নিজের ভবিষ্যৎ করণীয় জানতে চান। তখন শেখ হাসিনা তাঁকে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে নিয়মানুগ আত্মসমর্পণের পরামর্শ দিয়েছিলেন। সেই অনুযায়ী সেনা সদর থেকে চিঠি ইস্যু করা হলেও অজ্ঞাত কারণে মোজাফফরের পুনঃযোগদান প্রক্রিয়া ভেস্তে যায় বা বিলম্বিত হয়। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন এবং দীর্ঘদিন নিজেকে আড়ালে রাখেন।
















