ফরিদপুরে এক রাতেই দুই কিশোরকে কুপিয়ে হত্যা, মূল খুনি পলাতক-আশ্রয়দাতারা প্রকাশ্যে!
- আপডেট সময় : ০৯:৪৫:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ মে ২০২৫
- / 1323
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়নের থানমাত্তা গ্রামে ইয়াসিন খালাসী ও রায়হান শেখ নামে দুই কিশোরকে কুপিয়ে হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন এলাকাবাসী। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে থানমাত্তার বটতলা এলাকায় এ কর্মসূচি পালিত হয়।
ব্যানার, পোস্টার আর স্লোগানে প্রতিবাদের ঝড়
মানববন্ধন চলাকালীন প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী গ্রামের নারী-পুরুষ, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। ব্যানার, ফেস্টুন, মাইকের মাধ্যমে খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়।
নৃশংস হত্যাকাণ্ডে শোক আর ক্ষোভ
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, থানমাত্তা গ্রামে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড এর আগে কখনো ঘটেনি। পরিবারের উপার্জনক্ষম দুই যুবককে হারিয়ে তাদের পরিবার এখন দিশেহারা। বক্তারা অভিযোগ করেন, মূল খুনিরা পালিয়ে গেলেও তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতারা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তারা দ্রুত খুনিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
নেতৃবৃন্দের উপস্থিতি ও বক্তব্য
মানববন্ধনে আজিমনগর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ শাহজাহান হাওলাদার, ইউপি সদস্য আলমগীর মাতুব্বর, খন্দকার মজিবর রহমান, আর্শেদ তালুকদার, এবাদুল কাজী, মাজেদ শরীফসহ নিহতদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
মায়ের কান্নায় ভারী আকাশ-বাতাস
নিহত ইয়াসিনের মা ইয়াসমিন বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আবার বুকের ধনরে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে নির্মমভাবে খুন করছে। আমি তাদের ফাঁসি চাই।”
অন্যদিকে নিহত রায়হান শেখের মা রিনা বেগম বলেন, “আমার স্বামী নেই। আমার এতিম ছেলেকে যারা খুন করেছে, আমি তাদের ফাঁসি চাই। আমি ন্যায়বিচার চাই।”
পুলিশের বক্তব্য ও অগ্রগতি
ভাঙ্গা থানার ওসি মোঃ আশরাফ হোসেন জানান, ঘটনার পর মানববন্ধনের খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতদের পরিবার ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, খুনের ঘটনায় জড়িত একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
ঘটনার পেছনের প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, গত শনিবার (১০ মে) রাত ১০টার দিকে পূর্ব শত্রুতার জেরে ইয়াসিন খালাসীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ওই সময় ইয়াসিনের সহযোগী রায়হান শেখও গুরুতর জখম হন। পরে ১৩ মে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রায়হান মারা যান।
নিহত ইয়াসিন (২১) থানমাত্তা গ্রামের জাহাঙ্গীর খালাসীর ছেলে এবং রায়হান শেখ একই গ্রামের বাখু শেখের ছেলে। তারা উভয়েই রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন।



















