রোজিনার স্বীকারোক্তি ‘মা তুলে বাজে গালি দেয়ায় খুন করেছি’
- আপডেট সময় : ০৫:৩০:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৪
- / 356
ফরিদপুর বাস টার্মিনাল থেকে লাগেজ বন্দী অবস্থায় লাশ উদ্ধারের ঘটনায় দৌলতদিয়ার পতিতাপল্লীর এক যৌনকর্মী নারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোর্শেদ আলম।
তিনি বলেন, উদ্ধার হওয়া ওই লাশটি পাবনা জেলার নতুন গোহাইল বাড়ি গ্রামের মিলন প্রামানিকের। তিনি রাজবাড়ি জেলার বিভিন্ন ইট ভাটায় শ্রমিকের কাজ করতেন।
দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে যাতায়াতের সুবাদে রোজিনা আক্তার (৩০) নামে সেখানে একজন পতিতার সাথে সম্পর্ক গড়ে উঠে। এরপর টাকা পয়সার লেনদেন নিয়ে ঝগড়ার একপর্যায়ে মিলনকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা করে রোজিনা। রোজিনা বলেন,‘মা তুলে বাজে ভাষায় গালি দেয়ায় রাগের মাথায় আমি একাই তারে মারছি। তার কাছে টাকা পাইতাম। সেই টাকা ছাড়ানোর জন্য ঝগড়া হয়।’
গত শনিবার ২৭ জানুয়ারি সকালে ফরিদপুর পৌর বাস টার্মিনালে ফেলে যাওয়া একটি লাগেজ থেকে অজ্ঞাতনামা পরিচয়ে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
এদিকে ঘটনার পরে সিসি টিভি ফুটেজ ও তথ্য প্রযুক্তি সহায়তায় রোজিনা বেগমের পরিচয় শনাক্ত করা হয় এবং ঢাকার কদমতলী জুরাইনের দেওয়ান বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়।
এ ঘটনায় থানায় অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে মামলা রুজুর পর কোতোয়ালি থানার এসআই শামীম হাসানের নেতৃত্বে ঘটনা তদন্তে নামে পুলিশ। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রথমে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ বাজার থেকে মাহেন্দ্র গাড়ি শনাক্ত করে ড্রাইভারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয়া হয়। তার দেয়া তথ্য মতে লাগেজ বহনকারী রিকশা চালককে আটক করার পর পাওয়া যায় রোজিনার সন্ধান। তবে দৌলতদিয়ার পতিতাপল্লীর জনৈক রুবেল মাতুব্বর -এর বাড়ির দ্বিতীয় তলায় রোজিনার ঘরে অভিযান চালিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় রোজিনাকে জুরাইনের দেওয়ান বাড়ীর ষষ্ঠ তলা হতে গ্রেফতার করা হয় তাকে।
আরও পড়ুন:সদরপুরে রাতের আধারে পদ্মা পাড়ের মাটি যাচ্ছে ইট ভাটায়
যেভাবে পতিতাপল্লীতে রোজিনা
রোজিনার ভাষ্য অনুযায়ী সে প্রায় একযুগ গোয়ালন্দঘাটের দৌলতদিয়া পতিতাপল্লীতে রয়েছে। ১৪ বছর বয়সে তার বাবামা তাকে বিয়ে দেয়। তবে বিয়ের কিছুদিন পর তাদের তালাক হয়ে যায়। তারপর দৌলতদিয়া পতিতাপল্লীর চা দোকানদার হাকিমের সাথে তার দ্বিতীয় বিয়ে হয়। হাকিম মারা যাওয়ার পর সে সুজন নামে আরেকজনকে বিয়ে করে। এভাবেই দৌলতদিয়া পল্লীতে চলছিল তার জীবন। অন্যদিকে, পাবনার মিলন প্রামানিক ইট ভাটায় কাজের সুবাদে রাজবাড়ী খাকতো। মাঝে মাঝে যৌন পল্লীতে যেতো। সেখানে রোজিনার সাথে তার পরিচয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে অন্যান্যের মধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শৈলেন চাকমা, কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: হাসানুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।




















